রাজনীতির ময়দানে আবারও উত্তাপ ছড়ালেন তৃণমূল কংগ্রেসের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। রাজ্যের রাজনৈতিক অস্থিরতার আবহে মঙ্গলবার ধর্মতলার ওয়াই চ্যানেলে (Y Channel) ধর্নামঞ্চে বসে কেন্দ্রের বিজেপি (BJP) সরকারের বিরুদ্ধে হুঙ্কার ছাড়লেন তিনি। তৃণমূল নেত্রীর স্পষ্ট বার্তা, “জিয়েঙ্গে তো বিজেপি কো হাটা কে যায়েঙ্গে”—অর্থাৎ, যদি বেঁচে থাকি তবে বিজেপিকে সরিয়েই ছাড়ব।
মঙ্গলবার দুপুর ২টো নাগাদ কালীঘাটের (Kalighat) বাসভবন থেকে বেরিয়ে সোজা রেড রোডে (Red Road) পৌঁছান মমতা। সেখানে সংবিধান প্রণেতা বিআর অম্বেডকরের (B.R. Ambedkar) মূর্তিতে মাল্যদান করে তিনি সরাসরি চলে যান ওয়াই চ্যানেলের ধর্নামঞ্চে। সেখান থেকে রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল নেত্রী মমতা বলেন, “আমি কারও সুদিনে না হোক, দুর্দিনে পাশে আছি।” তিনি দাবি করেন, বিজেপির সঙ্গে তাঁর মতপার্থক্য থাকলেও অন্য সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে তাঁর সুসম্পর্ক রয়েছে। তবে বিজেপির যারা সংকটে পড়েছেন, তাঁদের পাশেও তিনি দাঁড়িয়েছেন বলে দাবি করেন।
ধর্নামঞ্চে দাঁড়িয়ে তৃণমূল নেত্রীর মূল অভিযোগের তির ছিল কেন্দ্রের দিকে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, দিল্লি থেকে কলকাঠি নেড়ে তৃণমূলকে ভেঙে দেওয়ার চক্রান্ত চলছে। তাঁর কথায়, “বেআইনি ভাবে আমাদের বিধায়ক, কাউন্সিলর ও প্রার্থীদের ভয় দেখানো হচ্ছে। “
গত শনিবার সোনারপুরে (Sonarpur) দলের এক মৃত কর্মীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) ওপর যে হামলার ঘটনা ঘটেছিল, তার প্রসঙ্গও তুলে ধরেন মমতা। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “ওটা গলির মধ্যে ছিল। হেলমেট না দিলে পাথরটা ওর মাথায় লাগত।”
এর পাশাপাশি, ঘটনার পর হাসপাতালের অসহযোগিতার প্রসঙ্গও টেনে আনেন তিনি।এদিন রানি রাসমণি অ্যাভিনিউতে (Rani Rashmoni Avenue) ধর্নার অনুমতি না মেলায় পুলিশের ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করেন মমতা। তিনি বলেন, “আমাদের এখানে ধর্নায় মাইকের অনুমতি দেওয়া হয়নি। হ্যান্ড মাইক নিয়ে বলতে হচ্ছে। এ ভাবে আমাকে আটকাতে পারবে না। যেখানে পারব বসে পড়ব। বাবা সাহেব অম্বে়ডকরের মূর্তিতে মালা দিতে কি আমাকে আটকাতে পেরেছে না জানতে পেরেছে?”
তিনি আরও বলেন, মহাত্মা গান্ধীর মূর্তির সামনে শপথ নিয়েছেন, যতদিন এই অত্যাচার চলবে, ততদিন লড়াই চালিয়ে যাবেন। তাঁর স্লোগান এখন— “করেঙ্গে ইয়া মরেঙ্গে।” মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পুলিশের উদ্দেশেও কড়া বার্তা দেন। তিনি বলেন, “যাঁরা আসছেন, তাঁদের ঢুকতে দিন। না হলে লালবাজার ঘেরাও হবে। নবান্না ঘেরাও হবে। সব থানা ঘেরাও হবে।”
তবে একই সঙ্গে তিনি এও বলেন যে, পুলিশ হয়তো চেয়ারের নির্দেশে কাজ করছে, তাই ব্যক্তিগতভাবে তিনি পুলিশকে দায়ী করছেন না।পশ্চিমবঙ্গে ‘বুলডোজার’ রাজনীতির অভিযোগ তুলে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে (Narendra Modi) উদ্দেশ্য করে মমতা বলেন, ” দেখুন কার উপর আপনি দায়িত্ব দিয়েছেন। কী হচ্ছে পশ্চিমবঙ্গে। এ সব কিছু তো আপনাকে দেখতে হবে।”
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই ধর্না রাজনৈতীক মহলে চাঞ্চল্যকর পরিবেশ সৃষ্টি করেছে।


Recent Comments