অশোক সেনগুপ্ত
মঙ্গলবার কলকাতার প্রাণকেন্দ্র ধর্মতলায়
তৃণনূলনেত্রী তথা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি মন্তব্যে বিভিন্ন মহলে প্রবল প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। যার রেশ ভারত-বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ওপর এসে পড়ছে বলে মনে করছেন নেটনাগরিকদের একাংশ। পোস্ট করার পর ১০ ঘন্টায় বুধবার সকাল ৭টা ৪৫-এ ১ হাজারের ওপর প্রতিক্রিয়া এসেছে। এঁদের মধ্যে আছেন বাংলাদেশের বহু মানুষ। তাঁরা ভারতের ওপর ক্ষিপ্ত। শেয়ার হয়েছে ৫৬৪। অন্যদিকে তাঁর বিরুদ্ধে উঠেছে ‘রাষ্ট্রদ্রোহী’-র অভিযোগ।
বিবিসি নিউজ বাংলা ডিজিটাল লিখেছে, “বাংলাদেশে… কাকে দিয়ে খুন করিয়েছিলেন?” মঙ্গলবার ২রা জুন কলকাতার ধর্মতলায় একটি ধর্না মঞ্চ থেকে বড় দাবি করলেন সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী।
ওই ধর্না মঞ্চ থেকে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্সের প্রশংসা করে তিনি বলেন, “বাংলাদেশ থেকে একটা বড় খুনিকে এসটিএফ অ্যারেস্ট করেছিল জেনে রাখুন। যা নিয়ে বাংলাদেশে অনেক রেভল্যুশন হয়েছিল। অন্য দেশের কথা আমি বলছি না, আমার সেই অধিকার নেই, কিন্তু আমার মুখ্য বক্তব্য হলো, তারা মেঘালয় দিয়ে বাংলায় চলে আসে। তখন আমাদের এসটিএফ তাদের ধরে।”
উল্লেখ্য, চলতি বছরেরই মার্চ মাসে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স বাংলাদেশে ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে দুই মূল অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে। ধৃতদের নাম ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে রাহুল এবং আলমগীর হোসেন। এই দুই অভিযুক্ত মেঘালয় হয়ে পশ্চিমবঙ্গে ঢুকেছিল বলে জানিয়েছিল পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ। এর পরে অভিযুক্ত ফিলিপ সাংমা নামে একজনকে নদিয়ার শান্তিপুরের কাছ থেকে গ্রেফতার করে এসটিএফ।
এর আগে ফয়সাল করিম মাসুদকে ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের মূল অভিযুক্ত বলে ঘোষণা দিয়েছিল ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। তবে এই ঘটনটির দিকেই তিনি নির্দেশ করছেন কিনা, তা স্পষ্ট জানাননি সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মিজ্. ব্যানার্জী।
সাবেক মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “তার পরে হোম মিনিস্টার নিজে আমাকে ফোন করে বলেন… আপনি বেঙ্গল পুলিশকে বলে দিন এই কথা যেন বাইরে না যায়। এটা দেশের স্বার্থে।” মমতা ব্যানার্জী প্রশ্ন তোলেন, “কাকে দিয়ে খুন করিয়েছিলেন? কার কার নাম বেরিয়েছিল? আজ গভর্নমেন্ট চেঞ্জ হলেও আমি তো সবটাই জানি। আমার হৃদয়টাই একটা কথা ভাণ্ডার, তথ্য ভাণ্ডার, সত্য ভাণ্ডার।”
বিতর্ক ও প্রশ্ন উঠেছে মূলত এই শেষ পরিচ্ছেদ নিয়ে। প্রতিক্রিয়ায় মহম্মদ মোস্তাফিজ রহমান লিখেছেন, “আস্তে আস্তে থলের বিড়াল বের হবে!” জুনায়েদ আহমেদ লিখেছেন, “আমার ভাই হাদীকে মেরে ফেললো ভারতীয় আধিপত্যবাদ। যারা নিজ দেশের জন্য জীবন দেন আল্লাহ তাদের শহীদী মর্যাদা দেন। নিজ দেশের জন্য জীবন দিয়ে আমাদের ভাই ওসমান হাদী শহীদী মর্যাদা লাভ করলো। আমরাও হাদী ভাইয়ের দেখানো পথে লড়ে যাবো ইনশাআল্লাহ।”
বশির উদ্দিন আহমেদ লিখেছেন, “দিদি, চিপায় পড়ছেন তো তাই সত্য ধরছেন!” মহম্মদ আফরুজ আলম লিখেছেন, “শহীদ শরীফ ওসমান হাদীর রক্তের দাগ এখনো শুকায়নি। মমতা ব্যানার্জীর এই বিস্ফোরক প্রশ্নই প্রমাণ করে, সত্য আর চাপা থাকবে না। অবিলম্বে আন্তর্জাতিক তদন্তের মাধ্যমে খুনি ও তাদের নেপথ্যের নায়কদের মুখোশ উন্মোচন করা হোক!”
মহম্মদ সোলেমান হাসান লিখেছেন, “জাস্ট নামটা একবার বলেন, তারপর বাকীটা ইতিহাস হয়ে থাকবে ইনশাআল্লাহ।” তনবীর লিখেছেন, “জানলে এতদিন বলেন নাই কেন?
নাসির সাগর লিখেছেন, “কী সাংঘাতিক! খুনী প্রতিবেশী!” ইসমাইল মিয়া লিখেছেন, “
হাদী হত্যার পিছনে ভারত জড়িত প্রমানিত হলো”। জামিউল ইসলাম লিখেছেন, “নিরস্ত্র মানুষকে অস্ত্রের মাধ্যমে হত্যা করার নাম জুলুম! আমরাও জানতে চাই- ভদ্রতার মুখোশের আড়ালে কে কে ছিলো এবং এখনো আছে। পুরো লিস্টটাই দিয়ে দেন দিদি।”
সইফুল ইসলাম লিখেছেন, “দিল্লির সাথে আতাত করে তোমরা ওসমান হাদীকে মেরেছো। আজ না হোক কাল বীর হাদীর বিচার এই দেশের মাটিতে হবেই হবে ইনশাআল্লাহ। মনে রেখো মীরজাফরেরা হাদীকে খুন করলেও হাদীর কনসেপ্ট এদেশের মানুষ অন্তরে লালন করেই বাঁচবে।”
অন্যদিকে, অনুপ সরকার লিখেছেন, “এবার অ্যারেস্ট হবে, সব সীমা অতিক্রম করেছে।” দেবনারায়ণ সরকার লিখেছেন, “মমতা বেগম অনেক চেষ্টা করেছিল পশ্চিমবাংলাকে বাংলাস্থান বানিয়ে রাজ করতে! কিন্তু মানুষে তাকে ছুঁড়ে ফেলে দিয়েছে! সব শ্যাষ!”
রামকান্ত দাস লিখেছেন, “ভারতের আইন যে কত দুর্বল এই মহিলাকে রিচার্জ করলেই বোঝা যায়।” শ্যামল বিশ্বাস লিখেছেন, “2026 সালের বিধানসভা নির্বাচনে হারার আগেও রাষ্ট্রদ্রোহী ছিল, নির্বাচনে হারার পরেও আরও অধিক রাষ্ট্রদ্রোহী হয়েছে। বাবলু দেব লিখেছেন, “পাগলা দিদি আরো পাগলা হয়ে গেলো”।
বর্ণালী বিশ্বাস লিখেছেন, “দিদি মনে হচ্ছে বাংলাদেশের বাইরে আর কিছুই ভাবতে পারছেন না.. উনি বরং বাংলাদেশেই যান; বাংলাদেশের মানুষ ও দিদিকে খুবই মিস করে।” পার্থ দাস লিখেছেন, “এর কথা কেউ সিরিয়াসলি নেয় না।” আশিস দেবনাথ লিখেছেন, “আপনারা সজাগ থাকবেন….
এতদিন উনি (মমতা)কিছু বলেন নি,এখন ঝগড়া লাগানোর জন্য অনেক মিথ্যা কথা বলবেন….”।
সুব্রত নন্দী লিখেছেন, “এই আপনি বসুন তো বসুন শুধু বড় বড় কথা!” আর্জুমান ভৌমিক লিখেছেন, “সব হারিয়ে এখন নতুন ইস্যু তৈরি করেছে। সব জানা থাকলে এতদিন কেন বললেন না। আপনি নিজেও ক্ষমতার লোভ সামলাতে পারেন নাই। নিজেকে নিয়ে ভাবুন।”
সইফুল সরকার লিখেছেন, “ক্ষমতার জন্য মহিলাটা পাগল হয়ে গেলো।” নীরেশ চন্দ্র পাল লিখেছেন, “সোনালী গুহের মুখে শুনেছি, বেগম নাকি একবার প্রেগন্যান্ট হয়ে গেছিল! যেহেতু বিয়ে হয়নি, নিশ্চয়ই কোন ভাতার দ্বারা হয়েছে। সেটা কে ছিল? সিদ্দিকুল্লা না ববি হাকিম?”
(উল্লেখিত প্রতিক্রিয়াগুলো ব্যক্তিগত মন্তব্য। এর জন্য সংবাদমাধ্যম দায়ী নয়)।


Recent Comments