২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের রণদামামা বেজে গিয়েছে। এবারের নির্বাচনে রাজ্যের অন্যতম ‘হটসিট’ হয়ে উঠেছে পানিহাটি বিধানসভা কেন্দ্র। একদিকে তৃণমূলের দীর্ঘদিনের চেনা জমি রক্ষা করার লড়াই, অন্যদিকে আরজি কর কাণ্ডের ‘অভয়া’ আবেগ এবং বামেদের যুব নেতৃত্বের কামব্যাক— সব মিলিয়ে পানিহাটির সমীকরণ এখন যথেষ্ট জটিল।প্রার্থীদের লড়াই ও বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটপানিহাটিতে এবার লড়াই মূলত ত্রিমুখী হতে চলেছে। শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস থেকে শুরু করে বিজেপি ও বামেদের হেভিওয়েট প্রার্থীরা নির্বাচনী ময়দানে একে অপরকে টেক্কা দিচ্ছেন।
আরজি কর কাণ্ডের নির্যাতিতার মা (যাঁকে মানুষ ‘অভয়া’-র মা হিসেবে চেনেন) এবার বিজেপির টিকিটে দাঁড়িয়েছেন। তাঁর প্রচারে ‘বিচারের দাবি’ এবং ‘আবেগ’ বড় হাতিয়ার হয়ে উঠেছে। সিপিআইএম প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন যুব নেতা কলতান দাশগুপ্ত। আরজি কর ইস্যুতে লাগাতার আন্দোলনে থাকা এবং কলতানকে নিয়ে বাম শিবিরে ব্যাপক উন্মাদনা লক্ষ করা যাচ্ছে।বিদায়ী বিধায়ক নির্মল ঘোষের পরিবর্তে তৃণমূল এবার প্রার্থী করেছে তাঁর পুত্র তীর্থঙ্কর ঘোষকে (রত্না ঘোষ নামটির বদলে তীর্থঙ্করই মূল প্রশাসনিক ও দলীয় ভরসা হিসেবে বর্তমানে সক্রিয়)। রত্না ঘোষও দলের অন্যতম মুখ হিসেবে প্রচার সামলাচ্ছেন, তবে লড়াইয়ের কেন্দ্রে রয়েছেন তীর্থঙ্কর।কোথায় দাঁড়িয়ে তৃণমূল কংগ্রেস?তৃণমূলের জন্য পানিহাটি রক্ষা করা এবার বড় চ্যালেঞ্জ। তবে দলের রণকৌশলে একাধিক শক্তির দিক রয়েছে। তৃণমূল মূলত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সামাজিক প্রকল্প ও এলাকার উন্নয়নকে সামনে রেখেই লড়াই দিচ্ছে। ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ বা স্থানীয় পরিষেবাগুলি তাদের ভোটব্যাঙ্কের মূল ভিত্তি। পানিহাটি তৃণমূলের অত্যন্ত শক্তিশালী গড়। দীর্ঘদিনের কাউন্সিলর এবং বুথ স্তরের কর্মীদের সক্রিয়তা বিরোধী শিবিরের জন্য উদ্বেগের কারণ।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, বিজেপি ও বামেদের মধ্যে বিরোধী ভোট ভাগাভাগি হলে তার প্রত্যক্ষ সুবিধা পেতে পারে তৃণমূল।লড়াইয়ের ‘এক্স-ফ্যাক্টর’আরজি কর কাণ্ডের রেশ পানিহাটির মধ্যবিত্ত সমাজ ও মহিলাদের মনে কতটা প্রভাব ফেলবে, তার ওপর নির্ভর করছে বিজেপির সাফল্য। সোশ্যাল মিডিয়া এবং রাজপথ— দুই জায়গাতেই কলতান দাশগুপ্তের জনপ্রিয়তা তরুণ প্রজন্মের ভোটারদের তৃণমূল বা বিজেপি থেকে বামেদের দিকে টানে কি না, সেটাই দেখার।পানিহাটিতে লড়াইটা এখন আর শুধু উন্নয়নের নয়, বরং এটি হয়ে দাঁড়িয়েছে ‘আবেগ বনাম সংগঠন’-এর যুদ্ধ। তৃণমূলের সুসংহত সংগঠনের সামনে বিজেপি ও বামেদের জোড়া চ্যালেঞ্জ কতটা কঠিন হয়, তার উত্তর দেবে ১৬ মে-র ব্যালট বাক্স।


Recent Comments