বাঙালির পঁচিশে বৈশাখ আর রাজনীতির ময়দানে বিজেপির বিপুল জয়— এই দুই মাহেন্দ্রক্ষণকে সাক্ষী রেখে এক অনন্য নজির গড়লেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। শনিবার কলকাতার ব্রিগেডে নতুন সরকারের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে বাংলার অগণিত মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশে তিনি বেছে নিলেন বিনম্র শ্রদ্ধার পথ। কোনো দীর্ঘ ভাষণ নয়, বরং বাংলার ‘জনশক্তি’র সামনে সাষ্টাঙ্গ প্রণাম জানিয়ে এক ঐতিহাসিক মুহূর্তের জন্ম দিলেন তিনি।
পঁচিশে বৈশাখের আবহ ও শ্রদ্ধাঞ্জলিআজ কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৬তম জন্মজয়ন্তী। এই বিশেষ দিনটিতেই রাজ্যের প্রথম বিজেপি সরকারের শপথগ্রহণের দিন ধার্য করা হয়েছিল। অনুষ্ঠানের শুরুতেই মঞ্চে রাখা কবিগুরুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর অত্যন্ত ভক্তিভরে প্রণাম জানান বিশ্বকবিকে। বাঙালির সংস্কৃতির প্রতি তাঁর এই বিশেষ সম্মান প্রদর্শন শুরুতেই উপস্থিত জনতাকে উদ্বেলিত করে তোলে।সাষ্টাঙ্গ প্রণাম ও সেই চিরন্তন বার্তাএদিন ব্রিগেড ছিল কানায় কানায় পূর্ণ। সেই জনসমুদ্রের দিকে তাকিয়ে প্রধানমন্ত্রী হঠাৎই নতজানু হন এবং সটান শুয়ে পড়ে বাংলার মাটিকে প্রণাম জানান। মঞ্চে উপস্থিত কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব থেকে শুরু করে সামনের সারিতে থাকা অগণিত মানুষের কাছে এটি ছিল এক অপ্রত্যাশিত কিন্তু অত্যন্ত প্রভাবশালী দৃশ্য।
এই ঘটনার কিছু পরেই প্রধানমন্ত্রী তাঁর ব্যক্তিগত সমাজমাধ্যম হ্যান্ডেলে সেই বিশেষ মুহূর্তের ভিডিও পোস্ট করে নিজের মনের অনুভূতি ব্যক্ত করেন। সেখানে তিনি লেখেন:“আমি পশ্চিমবঙ্গের জনশক্তির কাছে মাথা নত করছি।”
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও গুরুত্বগত ৪ মে-র নির্বাচনী ফলাফলে ২০৭টি আসনে জয় পেয়ে পশ্চিমবঙ্গে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে ভারতীয় জনতা পার্টি। আজকের এই শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং নবনিযুক্ত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বাংলার মানুষের এই বিপুল সমর্থনের প্রতি দায়বদ্ধতা প্রকাশ করতেই প্রধানমন্ত্রী এমন বিনম্র ভঙ্গি বেছে নিয়েছেন।
শপথগ্রহণের এই মেগা ইভেন্টে মোদী নিজেকে বাংলার আশীর্বাদপ্রার্থী হিসেবেই তুলে ধরলেন। ব্রিগেডের মাঠ থেকে প্রধানমন্ত্রীর এই সাষ্টাঙ্গ প্রণামের দৃশ্য এখন রাজ্য রাজনীতির ইতিহাসে এক স্মরণীয় ফ্রেম হিসেবে চিহ্নিত হয়ে রইল।


Recent Comments