মতুয়া গড় ঠাকুরনগরে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রথম সফর ঘিরে সাজো সাজো রব। আন্তর্জাতিক গোঁসাই সম্মেলনে যোগ দিতে রবিবার ঠাকুরবাড়িতে পৌঁছন মুখ্যমন্ত্রী। মন্দিরে পুজো দেওয়ার পর তাঁর জন্য বিশেষ মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করা হয় শান্তনু ঠাকুরের বাড়িতে। আর সেই আয়োজনের দায়িত্ব নিজের হাতেই সামলালেন শান্তনু ঠাকুরের স্ত্রী তথা বিধায়ক সোমা ঠাকুর। সকাল থেকেই রান্নাঘরে ব্যস্ততা ছিল তুঙ্গে। মুখ্যমন্ত্রীর আপ্যায়নে বাঙালি খাবারের পাশাপাশি রাখা হয়েছে ঠাকুরবাড়ির নিজস্ব বিশেষ পদও।
জানা গিয়েছে, মুখ্যমন্ত্রীর জন্য রান্না করতে নিজেই রান্নাঘরে নেমেছিলেন সোমা ঠাকুর। তাঁর কথায়, সমস্ত পদ নিজের হাতেই তৈরি করেছেন তিনি। মেনুতে রয়েছে একাধিক মাছ, মাংস এবং নানা ধরনের বাঙালি পদ। বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে রাখা হয়েছে ঠাকুরবাড়ির ঐতিহ্যবাহী চিংড়ি পিঠে।
মধ্যাহ্নভোজের মেনুতে রয়েছে গরম ভাত, উচ্ছে ভাজা, বেগুন ভাজা, পমফ্রেট মাছ, চিংড়ির মালাইকারি, মটন এবং দেশি মুরগির ঝোল। এছাড়াও থাকছে চিংড়ি দিয়ে মোচা, ইলিশ ভাপা ও ইলিশ ভাজা। সবশেষে রয়েছে দই ও মিষ্টি। বাঙালির পছন্দের একাধিক পদ দিয়ে সাজানো হয়েছে এই বিশেষ ভোজের আয়োজন।
তবে এই মেনুর অন্যতম আকর্ষণ ঠাকুরবাড়ির বিশেষ চিংড়ি পিঠে। ঐতিহ্যবাহী এই পদ দিয়েই মুখ্যমন্ত্রীর আপ্যায়নে বিশেষত্ব আনতে চেয়েছেন সোমা ঠাকুর। অতিথি আপ্যায়নে ঠাকুরবাড়ির নিজস্ব রন্ধনশৈলীও উঠে এসেছে এই আয়োজনের মধ্যে দিয়ে।
রবিবার ঠাকুরনগরে পৌঁছে প্রথমে ঠাকুরবাড়ির মন্দিরে পুজো দেন শুভেন্দু অধিকারী। ঘণ্টা বাজিয়ে প্রদীপ হাতে আরতিও করেন তিনি। তাঁর সঙ্গে ছিলেন শান্তনু ঠাকুর ও সোমা ঠাকুর। এরপর ঠাকুরনগরে সভায় যোগ দেওয়ার কথা ছিল মুখ্যমন্ত্রীর। সভা শেষে শান্তনু ঠাকুরের বাড়িতে মধ্যাহ্নভোজ সারেন তিনি। পরে বিকেলে কলকাতার উদ্দেশে রওনা দেওয়ার কথা।
ঠাকুরবাড়িতে তিন গোঁসাই ঠাকুরকে বরণ করার পর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, মতুয়াদের আশীর্বাদেই তিনি মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন। তাঁদের সেবা করতেই তিনি ঠাকুরবাড়িতে এসেছেন বলে জানান শুভেন্দু অধিকারী।
রাজনৈতিক কর্মসূচির পাশাপাশি এদিন ঠাকুরবাড়ির আতিথেয়তাও ছিল বিশেষ আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু। ইলিশ, চিংড়ি থেকে মটন—বাঙালির প্রিয় খাবারের সমাহারে মুখ্যমন্ত্রীর জন্য সাজানো হয়েছিল এক বিশেষ মধ্যাহ্নভোজ।


Recent Comments