নন্দীগ্রামকে তিনি শুধু একটি বিধানসভা কেন্দ্র হিসেবে দেখেন না, এ কথা আগেও বহুবার বলেছেন শুভেন্দু অধিকারী। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর প্রথমবার নন্দীগ্রামে এসে রবিবার যে ভাষণে তিনি নিজেকে ‘আত্মীয়’ বলে তুলে ধরলেন, তাতে স্পষ্ট হয়ে গেল, রাজনৈতিকভাবে এই জমির সঙ্গে নিজের সম্পর্ককে আরও গভীর ও আবেগঘন স্তরে নিয়ে যেতে চাইছেন তিনি।
একইসঙ্গে সেই মঞ্চ থেকেই উঠে এল প্রশাসনিক কড়া বার্তা, রাজনৈতিক প্রতিশোধের অভিযোগ, উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি এবং তৃণমূলের বিরুদ্ধে ভবিষ্যৎ অভিযানের ইঙ্গিত ।
বিধানসভা ভোটে নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর, দুই কেন্দ্র থেকেই জয়ী হওয়ার পর সংবিধানের নিয়ম মেনে একটি আসন ছাড়তেই হত শুভেন্দুকে। শেষ পর্যন্ত নন্দীগ্রাম ছেড়ে ভবানীপুর রাখার সিদ্ধান্ত নেয় বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। কিন্তু এই সিদ্ধান্ত যে স্থানীয় স্তরে একাংশ কর্মী-সমর্থকের মনে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে, তা বিলক্ষণ জানেন শুভেন্দুও। সেই কারণেই সভার শুরু থেকেই বারবার সম্পর্কের প্রশ্নটিকে সামনে আনেন তিনি।
তাঁর বক্তব্যে ছিল এক ধরনের আবেগঘন রাজনৈতিক পুনর্নির্মাণের চেষ্টা। “২০০৩ সাল থেকে যেমন দেখেছেন, এখনও তেমনই দেখতে পাবেন আমাকে। আমি আপনাদের আত্মীয় ছিলাম, আছি, থাকব”, এই বার্তা শুধু আশ্বাস নয়, বরং নন্দীগ্রামের সঙ্গে নিজের রাজনৈতিক পরিচয়কে স্থায়ীভাবে জুড়ে রাখার কৌশল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। কারণ নন্দীগ্রাম শুধু একটি আসন নয়, শুভেন্দুর রাজনৈতিক উত্থানের অন্যতম প্রতীক। ২০০৬-২০০৭ সালের জমি আন্দোলন থেকেই রাজ্য রাজনীতিতে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা বিস্তার লাভ করেছিল।
সেই ইতিহাসকেই আবার সামনে এনে তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, তখন তিনি দক্ষিণ কাঁথির বিধায়ক হয়েও নন্দীগ্রামের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। অর্থাৎ, সাংবিধানিকভাবে বিধায়ক না থাকলেও রাজনৈতিক ও প্রশাসনিকভাবে যে নন্দীগ্রাম তাঁর ‘অধিক্ষেত্র’ এর বাইরের নয়, সেটাই বোঝাতে চেয়েছেন তিনি।
কিন্তু শুধু আবেগ নয়, ভাষণের দ্বিতীয় স্তরে ছিল সরাসরি রাজনৈতিক আক্রমণ। শুভেন্দুবাবুর বক্তব্যে বারবার উঠে আসে ‘৩৪ বছরের সিপিএম’ এবং ‘১৫ বছরের তৃণমূল’ শাসনের প্রসঙ্গ। তাঁর দাবি, এই দীর্ঘ সময়ের ‘পার্টিতন্ত্র’ এবং দুর্নীতির ফলে বাংলার প্রশাসনিক কাঠামো ভেঙে পড়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের সহযোগিতার উল্লেখ করে তিনি বলেন, “মোদিজির সাহায্যে বাংলাকে আবার সোনার বাংলায় পরিণত করতে হবে।”
এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে সুকৌশলে শুভেন্দু একদিকে যেমন ‘ডবল ইঞ্জিন’ তত্ত্বকে সামনে এনেছেন, তেমনই বোঝানোর চেষ্টা হয়েছে যে, পরিবর্তনের পর্ব ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে৷


Recent Comments