গণতন্ত্রে প্রতিবাদ করার অধিকার রয়েছে প্রত্যেকের। তবে সেই প্রতিবাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত সমস্যার সমাধান, রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধি নয়। মঙ্গলবার এমনই বার্তা দিলেন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) প্রধান মোহন ভাগবত। কারও নাম সরাসরি উল্লেখ না করলেও তাঁর বক্তব্যে সাম্প্রতিক বিভিন্ন আন্দোলন এবং ‘ককরোচ জনতা পার্টি’কে নিশানা করা হয়েছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ।
ভাগবতের বক্তব্য, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় মানুষের অসন্তোষ প্রকাশের জন্য প্রতিবাদ জরুরি। কিন্তু সেই প্রতিবাদ যেন কোনও রাজনৈতিক দল বা গোষ্ঠীর ক্ষমতা দখলের হাতিয়ার হয়ে না ওঠে। ভোটে সাফল্য পাওয়া কিংবা রাজনৈতিক পরিবর্তন ঘটানোর উদ্দেশ্যে আন্দোলন পরিচালিত হলে তার মূল লক্ষ্য থেকে তা সরে যেতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।
এদিনের ভাষণে দেশের অভ্যন্তরে অশান্তি ও বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা নিয়ে সতর্ক করেন আরএসএস প্রধান। তাঁর কথায়, সমাজের মধ্যে অসন্তোষ বাড়িয়ে পরিস্থিতি অস্থির করে তোলার জন্য একাধিক শক্তি সক্রিয় রয়েছে। তাই সকলকে সতর্ক থাকতে হবে, যাতে কেউ এই ধরনের প্রচেষ্টার ফাঁদে পা না দেন।
সম্প্রতি ‘ককরোচ জনতা পার্টি’সহ কয়েকটি সংগঠনের আন্দোলনকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। সংগঠনটির প্রধান নেহা বোরা বাংলাদেশের ছাত্র আন্দোলন থেকে অনুপ্রেরণা পাওয়ার কথা প্রকাশ্যে জানিয়েছিলেন। বাংলাদেশের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পিছনে যে জুলাই আন্দোলন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিল, সেই আন্দোলনের কয়েকজন ছাত্রনেতাও নেহাদের আন্দোলনকে সমর্থন করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বিশিষ্ট আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণও প্রকাশ্যে ‘রেজিম চেঞ্জ’ বা শাসনব্যবস্থার পরিবর্তনের দাবি তুলেছেন বলে জানা গিয়েছে।
যদিও মোহন ভাগবত তাঁর বক্তব্যে কোনও সংগঠন বা ব্যক্তির নাম নেননি, তবু সাম্প্রতিক আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে তাঁর মন্তব্যকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। তাঁদের একাংশের মতে, আন্দোলনের উদ্দেশ্য এবং রাজনৈতিক পরিবর্তনের দাবিকে ঘিরেই এই বার্তা দিয়েছেন আরএসএস প্রধান।
ভাগবতের বক্তব্যের প্রশংসা করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও। তবে গণতন্ত্রে প্রতিবাদের অধিকার এবং আন্দোলনের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়ে এই মন্তব্য ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক আলোচনা শুরু হয়েছে।


Recent Comments