দুর্গাপুজোর আনন্দের মাঝেই কলকাতার চোরবাগানে ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক পদপিষ্টের ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে একাধিক পরিবারে। প্রিয়জনকে হারিয়ে দিশেহারা মৃতদের পরিজনদের পাশে দাঁড়াতে এবার তাঁদের বাড়িতে পৌঁছলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মঙ্গলবার বর্ধমানের মাধবডিহিতে গিয়ে মৃত মা টগর বেজ ও তাঁর ছেলে সন্দীপের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করেন তিনি।
শনিবার, দুর্গাপুজোর প্রথম সপ্তমীর সন্ধ্যায় বৃষ্টি ও দর্শনার্থীদের ভিড়ের চাপে চোরবাগান সর্বজনীনের পুজোমণ্ডপে ভয়াবহ বিপর্যয় ঘটে। মণ্ডপের গেট ভেঙে পড়ার পর পদপিষ্ট হয়ে প্রাণ হারান ১৯ জন। উৎসবের আনন্দ মুহূর্তের মধ্যে পরিণত হয় শোকে। এই ঘটনায় মৃতদের অধিকাংশই রাজ্যের বিভিন্ন জেলার বাসিন্দা বলে জানা যায়।
মৃতদের তালিকায় ছিল বর্ধমানের মাধবডিহির বাসিন্দা টগর বেজ ও তাঁর অষ্টম শ্রেণিতে পড়া ছেলে সন্দীপের নামও। পুজোর আনন্দ ভাগ করে নিতে ছেলেকে নিয়ে ঠাকুর দেখতে বেরিয়েছিলেন টগর। কিন্তু সেই আনন্দযাত্রাই শেষ পর্যন্ত তাঁদের জীবনের শেষ যাত্রা হয়ে ওঠে। চোরবাগানের মর্মান্তিক ঘটনায় মা ও ছেলেকে হারিয়ে শোকস্তব্ধ তাঁদের পরিবার।
দুর্ঘটনার পর থেকেই পরিস্থিতির উপর নজর রাখছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বিপর্যয়ে যাঁরা প্রিয়জনকে হারিয়েছেন, তাঁদের পরিবারের সঙ্গে সরাসরি দেখা করে পাশে থাকার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। সেই মতো মঙ্গলবার মাধবডিহিতে গিয়ে শোকাহত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন মুখ্যমন্ত্রী।
চোরবাগানের এই ঘটনা পুজোর নিরাপত্তা ও ভিড় নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। উৎসবের মরশুমে এমন মর্মান্তিক বিপর্যয়ে প্রাণহানির ঘটনায় শোকের আবহ তৈরি হয়েছে রাজ্যজুড়ে। স্বজন হারানোর যন্ত্রণা নিয়ে দিন কাটাচ্ছেন মৃতদের পরিবারগুলি। এই পরিস্থিতিতে তাঁদের পাশে দাঁড়ানো এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছে দেওয়া এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।


Recent Comments