Thursday, February 26, 2026
Leaderboard Ad Space (728x90) - Responsive
Homeবিজ্ঞানআস্ত একটা তারা গিলে খেয়েছে! বছর পেরিয়ে গেলেও মহাকাশে অনবরত 'ঢেঁকুর' তুলে...

আস্ত একটা তারা গিলে খেয়েছে! বছর পেরিয়ে গেলেও মহাকাশে অনবরত ‘ঢেঁকুর’ তুলে চলেছে এক রাক্ষুসে ব্ল্যাক হোল

মহাকাশের রহস্যময় দানব বলা হয় ব্ল্যাক হোল (Black Hole) বা কৃষ্ণগহ্বরকে। এর খিদে এতটাই মারাত্মক যে, বিশাল নক্ষত্র বা গ্রহ গিলে খেতে এর এক সেকেন্ডও সময় লাগে না। এমনকি আলোর কণাও এর আকর্ষণ থেকে পালাতে পারে না। কিন্তু এবার এমন এক ব্ল্যাক হোলের সন্ধান মিলেছে, যার কাণ্ডকারখানা দেখে রীতিমতো হতবাক বিজ্ঞানীরা! আস্ত একটি নক্ষত্রকে (Star) গিলে ফেলার কয়েক বছর পরও সেটি অনবরত ‘ঢেঁকুর’ (Belching) তুলছে এবং নক্ষত্রের অবশিষ্টাংশ মহাকাশে উগরে দিচ্ছে।

কোথায় রয়েছে এই রাক্ষুসে ব্ল্যাক হোল? বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, পৃথিবী থেকে প্রায় ৬৫.৫ কোটি আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত এই কৃষ্ণগহ্বরটি। এর আকার আমাদের সূর্যের (Sun) চেয়েও প্রায় ৫০ লক্ষ গুণ বড়! অন্যদিকে, যে নক্ষত্রটিকে সে গিলে খেয়েছে, সেটিও ছিল আমাদের সূর্যের চেয়ে ১০ গুণ বড়।

কেন এই ‘ঢেঁকুর’ তোলা? নক্ষত্র গিলে খাওয়ার ঘটনা মহাকাশ বিজ্ঞানে খুব একটা বিরল নয়। কিন্তু এই ব্ল্যাক হোলের ক্ষেত্রে বিষয়টি অন্যরকম। বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন, নক্ষত্রটিকে গিলে ফেলার পর প্রায় দু’বছর একেবারে চুপচাপ ছিল এই দানবীয় গহ্বর। এরপর আচমকাই এটি থেকে রেডিও রশ্মি (Radio Emissions) এবং পদার্থ ছিটকে বেরোতে শুরু করে। গত ছ’বছর ধরে এই ‘ঢেঁকুর তোলা’র প্রক্রিয়া চলছে।

‘স্প্যাগেটিফিকেশন’ (Spaghettification) কী? আমেরিকার অ্যারিজোনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (University of Arizona) জ্যোতির্পদার্থবিদ কেট আলেকজান্ডার এই প্রক্রিয়ার ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তিনি বলেন, যখন কোনো নক্ষত্র ব্ল্যাক হোলের খুব কাছাকাছি চলে আসে, তখন ব্ল্যাক হোলের প্রবল মহাকর্ষীয় টানে (জোয়ার-ভাটার মতো শক্তি) সেটি ছিন্নভিন্ন হয়ে যায়। এই ঘটনাকেই বিজ্ঞানের ভাষায় ‘স্প্যাগেটিফিকেশন’ বলা হয়।

এর পর নক্ষত্রটির গ্যাসীয় অংশ উত্তপ্ত হয়ে ব্ল্যাক হোলের ভেতরে প্রবেশ করতে থাকে। কিন্তু যে অংশগুলো ব্ল্যাক হোলের ‘লক্ষ্মণরেখা’ বা ইভেন্ট হরাইজন (Event Horizon) পার হতে পারে না, সেগুলোই রেডিও রশ্মি ও পদার্থের স্রোত হিসেবে ছিটকে বেরিয়ে আসে। বিজ্ঞানীরা এই ঘটনাকে এক শিশুর খাবার মুখে নিয়ে চিবিয়ে আবার থুথু করে ফেলে দেওয়ার সঙ্গে তুলনা করেছেন।

আরো পড়ুন:  ২৯ কোটি বছর আগের বমির জীবাশ্ম! প্রাচীন শিকারিদের 'খাদ্যাভ্যাস' নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য পেলেন বিজ্ঞানীরা

এই মহাজাগতিক ‘ঢেঁকুর’ ঠিক কবে থামবে, তা এখনও নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না গবেষকরা। তবে এই বিরল ঘটনা ব্ল্যাক হোল নিয়ে বিজ্ঞানীদের গবেষণায় যে নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে, তা বলাই বাহুল্য।

Author

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Demo Ad
Sponsored Links

Most Popular

Recent Comments