Thursday, February 26, 2026
Leaderboard Ad Space (728x90) - Responsive
Homeসম্পাদকীয়হাতের মুঠোয় সস্তা ডেটা, কিন্তু হারিয়ে যাচ্ছে মনোযোগ: ‘ডিজিটাল ঋণের’ ফাঁদে ভারতের...

হাতের মুঠোয় সস্তা ডেটা, কিন্তু হারিয়ে যাচ্ছে মনোযোগ: ‘ডিজিটাল ঋণের’ ফাঁদে ভারতের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম

অর্থনৈতিক সমীক্ষায় উঠে এল ‘ডিজিটাল ঋণ’-এর (Digital Debt) অশনি সংকেত! ৫জি-র গতি আর রিলসের (Reels) নেশায় কীভাবে তলিয়ে যাচ্ছে ভারতের (India) তরুণ প্রজন্ম? নিমহানস (NIMHANS) ও এএসইআর (ASER) রিপোর্টের ভিত্তিতে তৈরি এই বিশেষ প্রতিবেদনে পড়ুন বিস্তারিত।

রাত তখন প্রায় দুটো। কলকাতার (Kolkata) উত্তর দিকের একটি মধ্যবিত্ত পাড়ায় ষোলো বছরের ছেলেটা তখনও জেগে। বালিশের নিচে লুকিয়ে রাখা ফোনের আলোয় একটার পর একটা Reel দেখে যাচ্ছে। মাঝরাতের ঘুম নেই, পরদিন পরীক্ষা আছে — কিন্তু থামা নেই। পর্দার ওপারে algorithm তাকে টেনে রেখেছে, ঠিক যেন অদৃশ্য এক চুম্বক।

এই দৃশ্যটা শুধু একটি বাড়ির গল্প নয়। এটা আজকের ভারতের (India) কোটি কোটি তরুণের রাতের ছবি। আর এই ছবির পেছনে আছে একটা বিশাল, জটিল এবং ভয়াবহ বাস্তবতা — যাকে বিশেষজ্ঞরা এখন নাম দিয়েছেন “digital debt” বা ডিজিটাল ঋণ।


সংযোগের জয়, কিন্তু কীসের বিনিময়ে?

২০১৬ সালের শেষের দিকে যখন Jio বাজারে এলো, তখন অনেকেই ভেবেছিলেন এটা একটা বিপ্লব। এবং সত্যিই তাই ছিল। মাত্র কয়েক বছরের মধ্যে ভারতের (India) internet ব্যবহারের চিত্র আমূল পাল্টে গেল। যে দেশে একসময় data ছিল বিলাসিতা, সেখানে হঠাৎ করেই তা হয়ে উঠল সস্তা এবং প্রায় সবার নাগালের মধ্যে। পাড়ার চায়ের দোকানদার থেকে শুরু করে দূরের গ্রামের কৃষক — সবার হাতে পৌঁছে গেল smartphone।

২০২৬ সালে এসে সেই ছবিটা আরও স্পষ্ট। ভারতে (India) এখন প্রায় ৯৭ কোটি internet সংযোগ রয়েছে। ৮৫ শতাংশেরও বেশি পরিবারে ঢুকে গেছে smartphone। ডিজিটাল অর্থনীতি এখন দেশের মোট আয়ের ১২ থেকে বেড়ে ৭৪ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। সংখ্যাগুলো চোখ ধাঁধানো। কিন্তু এই সাফল্যের আড়ালে যে দাম চুকোতে হচ্ছে, সেটা কেউ সরাসরি বলছে না।

Economic Survey 2025-26 সেই সত্যটাই সামনে আনল। সরকারি এই সমীক্ষায় পরিষ্কার বলা হয়েছে — এই “connectivity victory” এসেছে একটি মোটা মানসিক ও শারীরিক মূল্য দিয়ে। বিশেষত ১৫ থেকে ২৪ বছর বয়সী তরুণ প্রজন্মের ওপর এই চাপ সবচেয়ে বেশি।


Jio Effect এবং 5G — থামার জায়গা আর নেই

“Jio effect” কথাটা এখন শুধু telecom industry-র পরিভাষা নয়, এটা একটা সামাজিক ঘটনার নাম। সস্তা data এবং ভর্তুকি দেওয়া hardware মিলিয়ে ভারতের (India) internet ব্যবহারের ধরনটাই বদলে গেছে। আগে internet ব্যবহার হতো মেপে, সীমিত। এখন সেটা হয়ে উঠেছে অবিরাম, সীমাহীন।

২০২৪ এবং ২০২৫ সালে সারা দেশে দ্রুত ছড়িয়ে পড়া 5G পরিকাঠামো এই প্রবণতাকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে গেছে। শহরে এবং আধা-শহরে এখন প্রায় সর্বত্র 5G পৌঁছে গেছে। এর ফলে “High-Intensity Streaming” — মানে একটানা উচ্চমানের ভিডিও দেখার অভ্যাস — একটা স্বাভাবিক ব্যাপার হয়ে গেছে।

আজকের প্রজন্মের কাছে digital engagement মানে আর আলাদা করে কিছু একটা করা নয়। এটা তাদের অস্তিত্বের একটা স্তর হয়ে গেছে। সকালে উঠে ফোন দেখা, খেতে খেতে Reel দেখা, বাথরুমে ফোন নিয়ে যাওয়া, ঘুমানোর আগে পর্যন্ত scroll করা — এটাই এখন স্বাভাবিকতার সংজ্ঞা হয়ে গেছে।

আর শুধু শহর নয়, গ্রামীণ ভারতেও (India) এই ছবি আলাদা নয়। সেখানে smartphone প্রায়ই পরিবারের একমাত্র computing device। তথ্য, বিনোদন, ব্যবসা — সবকিছুর জন্যই নির্ভরতা এই একটি যন্ত্রের ওপর। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শহরের বস্তি এবং আধা-শহরাঞ্চলগুলো এখন “health hotspot” হয়ে উঠেছে — যেখানে বাইরে খেলার মাঠ নেই, খোলা আকাশ নেই, আছে শুধু screen। আর সেই screen-এর আসক্তিই ধীরে ধীরে সামাজিক বিচ্ছিন্নতা তৈরি করছে।


৮২ শতাংশ জানে ফোন চালাতে, কিন্তু পড়াশোনায় ব্যবহার করে মাত্র ৫৭ শতাংশ

Annual Status of Education Report (ASER) 2024-এর তথ্যগুলো একটু থামিয়ে দেওয়ার মতো। ১৪ থেকে ১৬ বছর বয়সী কিশোর-কিশোরীদের ওপর করা এই সমীক্ষায় দেখা গেছে, ৯০ শতাংশের বাড়িতে smartphone আছে। ৮২.২ শতাংশ জানে কীভাবে সেটা চালাতে হয়। কিন্তু এই ফোন social media এবং বিনোদনের জন্য ব্যবহার করছে ৭৬ শতাংশ, আর পড়াশোনার কাজে ব্যবহার করছে মাত্র ৫৭ শতাংশ।

আরো পড়ুন:  “একভিড় হরিয়াল পাখিউড়ে গেলে মনে হয়, দু' পায়ে হেঁটেকতদূর যেতে পারে মানুষ একাকী।”

সংখ্যাটা ছোট নয়। কারণ এই যে ১৯ শতাংশের ফারাক — এটাই আসলে একটা বিশাল “distraction tax”। দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের শেখার হাতিয়ারটাই তাদের মনোযোগ নষ্টের প্রধান কারণ হয়ে উঠছে। Economic Survey 2025-26-ও বলেছে, এই digital আসক্তি পড়াশোনার ফলাফলকে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত করছে। শুধু তাই নয়, কর্মক্ষেত্রেও উৎপাদনশীলতা কমছে — কারণ মনোযোগ ধরে রাখার ক্ষমতাটাই ক্ষয় হয়ে যাচ্ছে ধীরে ধীরে।

একটা লিঙ্গ-বৈষম্যের কথাও উঠে এসেছে এই সমীক্ষায়। মাত্র ২৬.৯ শতাংশ মেয়ের নিজের smartphone আছে, যেখানে ছেলেদের ক্ষেত্রে সংখ্যাটা ৩৬.২ শতাংশ। এই ব্যবধান একদিক থেকে মেয়েদের অতিরিক্ত screen time থেকে বাঁচাচ্ছে বটে, কিন্তু অন্যদিক থেকে তাদের digital দক্ষতা অর্জনের সুযোগও কমিয়ে দিচ্ছে। একটা সমস্যার সমাধান করতে গিয়ে আরেকটা সমস্যা তৈরি হচ্ছে।

কেরালার (Kerala) কথা বলতে গেলে, সেখানে শিক্ষামূলক কাজে smartphone-এর ব্যবহার ৮০ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে। কিন্তু এটা দেশের সার্বিক চিত্র নয়, এটা ব্যতিক্রম।


Reel-এর ফাঁদ: মস্তিষ্কে যা হচ্ছে, তা উদ্বেগজনক

Instagram Reels এবং YouTube Shorts — এই দুটো platform এখন ভারতের (India) ডিজিটাল জীবনের অন্যতম কেন্দ্র। আর এই platform-গুলো ঠিক কোন বয়সের মানুষদের টার্গেট করে তৈরি? ১৫ থেকে ২৪ বছর। অর্থাৎ, যে বয়সে মস্তিষ্কের বিকাশ এখনও চলছে, ঠিক সেই বয়সের মানুষগুলোকেই সবচেয়ে বেশি টানছে এই content।

বেঙ্গালুরুর (Bengaluru) NIMHANS-এর Service for Healthy Use of Technology (SHUT) Clinic-এর গবেষকরা বলছেন, বিষয়টা শুধু “বেশি ফোন দেখা”-র মধ্যে সীমিত নয়। এর প্রভাব পড়ছে মস্তিষ্কের গভীরে। যে brain circuits মনোযোগ, পুরস্কারের অনুভূতি এবং আত্মনিয়ন্ত্রণ নিয়ন্ত্রণ করে, সেগুলোর পরিপক্বতার ওপর প্রভাব ফেলছে এই অতিরিক্ত digital উদ্দীপনা।

“Infinite scroll”-এর ধারণাটা এখানে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। একটা video শেষ হতে না হতেই আরেকটা শুরু। থামার জায়গা নেই, বিরতি নেই। এই দ্রুত content switching মস্তিষ্কের sustained attention-কে, মানে দীর্ঘ সময় মনোযোগ ধরে রাখার ক্ষমতাকে, ধীরে ধীরে ক্ষয় করে দিচ্ছে। Working memory-তেও পড়ছে নেতিবাচক প্রভাব।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন Alpha brainwave pattern-এর কথা। গভীর শিক্ষার জন্য, সৃজনশীল চিন্তার জন্য এই ধরনের মস্তিষ্কতরঙ্গ দরকার। কিন্তু short-form video-র উচ্চ-গতির stimulus-response loop এই pattern-কে ক্রমাগত বাধা দিচ্ছে। ফলে পড়াশোনার সময় মনোযোগ আসছে না, কোনো কিছু গভীরভাবে ভাবা যাচ্ছে না।

এর সাথে যোগ হচ্ছে Fear of Missing Out বা FOMO-র সমস্যা। algorithm বারবার নতুন content দেখাচ্ছে, ফলে “হয়তো একটা মিস করে ফেলব” — এই অনুভূতি রাতের ঘুমকে কেড়ে নিচ্ছে। রাত জেগে screen দেখার ফলে blue light melatonin-এর ক্ষরণ কমিয়ে দিচ্ছে — মস্তিষ্ককে বুঝাচ্ছে যেন এখন দুপুর। এই “sleep debt” বা ঘুমঘাটতি শুধু পরের দিনের ক্লান্তিতে সীমিত নয়। দীর্ঘমেয়াদে এটা হৃদরোগ, metabolic সমস্যাসহ একাধিক শারীরিক অসুস্থতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।


ADHD-র ঢেউ: রোগ না সংস্কৃতি?

ভারতে (India) Attention-Deficit/Hyperactivity Disorder বা ADHD-র রোগনির্ণয় এবং চিকিৎসার বাজার দ্রুতগতিতে বাড়ছে। ২০৩০ সাল পর্যন্ত এই বাজারে প্রতি বছর ৬.২ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পাওয়ার পূর্বাভাস দেওয়া হচ্ছে। কেউ বলবেন, এটা ভালো খবর — রোগ নির্ণয় বাড়ছে, মানে সচেতনতা বাড়ছে। কিন্তু চিকিৎসকরা একটু ভিন্ন কথা বলছেন।

তাঁরা বলছেন, ADHD-র এই উত্থানের পেছনে শুধু diagnostic tool-এর উন্নতি নেই। বরং যে hyper-stimulated digital পরিবেশে ভারতের (India) তরুণ প্রজন্ম বড় হচ্ছে, সেটাই অনেকাংশে দায়ী। প্রতি মুহূর্তে নতুন notification, নতুন content — এই পরিবেশে বড় হলে মনোযোগ ধরে রাখার অভ্যাস তৈরি হওয়া কঠিন।

আর এই সমস্যার চিকিৎসার সুযোগ? সেখানেও বিশাল ফাঁক। ভারতে (India) প্রায় ২০ কোটি মানুষ মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছেন। কিন্তু চিকিৎসা পাচ্ছেন ১৫ থেকে ২০ শতাংশও না। বাকি ৮০ থেকে ৮৫ শতাংশের কাছে পৌঁছাচ্ছে না কোনো সাহায্য। ৬০ শতাংশ তরুণ মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য সাহায্য চাইতেই রাজি নন।

আরো পড়ুন:  দিনভর জানলাম ‘চানক্য’ আর নেই, আসল চানক্যর পরিচয় কী

Tech addiction-এর জন্য বিশেষায়িত clinic, যেমন NIMHANS-এর SHUT Clinic, মূলত বড় শহরগুলোতেই সীমাবদ্ধ। দেশের বিশাল গ্রামীণ এবং আধা-শহর জনগোষ্ঠীর কাছে এই সেবা পৌঁছায় না।

এর ফাঁকে একটা নতুন প্রবণতা মাথা তুলছে — Instagram-এ “digital self-diagnosis”। মানুষ নিজেই নিজের রোগ নির্ণয় করার চেষ্টা করছেন social media-র মাধ্যমে। সচেতনতা বাড়ছে, এটা একদিক থেকে ভালো। কিন্তু ভুল নির্ণয়ও বাড়ছে, এবং professional clinic-গুলোতে চাপ বাড়ছে।

আরও একটি উদ্বেগের কথা বলেছেন বিশেষজ্ঞরা। বাড়ির ছোটদের — কখনো কখনো দুই বছরের শিশুকেও — “digital babysitter” হিসেবে ফোন বা tablet দিয়ে রাখছেন অভিভাবকরা। এই বয়সে অতিরিক্ত screen time মস্তিষ্কের প্রাথমিক বিকাশে ব্যাঘাত ঘটাচ্ছে এবং পরবর্তীকালে মনোযোগ সংক্রান্ত সমস্যার বীজ বপন করছে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।


সংখ্যায় বলা যাক পুরো ছবিটা

সমস্যাটার গভীরতা বোঝার জন্য কয়েকটা সংখ্যা দেখা দরকার।

৩৭.৭ শতাংশ ছাত্রছাত্রী মাঝারি মাত্রার depression-এ ভুগছেন। ১৩.১ শতাংশ গুরুতর depression-এ আক্রান্ত। বিশ্বে যত তরুণ আত্মহত্যা করেন, তার প্রায় ৪০ শতাংশই ভারতের (India)। Tele-MANAS helpline-এ এখন পর্যন্ত ৩২ লক্ষ কল এসেছে — এই সংখ্যাটাই বলে দেয় সমস্যাটা কতটা বিস্তৃত।

এই তথ্যগুলো দেখলে বোঝা যায়, এটা শুধু কয়েকজনের ব্যক্তিগত সমস্যা নয়। এটা একটা জাতীয় সংকট।


ডাক্তাররা কী বলছেন?

NIMHANS-এর SHUT Clinic-এর প্রধান ডঃ মনোজ কুমার শর্মা (Dr. Manoj Kumar Sharma) বলেছেন, digital hygiene মানে শুধু screen time কমানো নয়। এটা হলো “intentional use” — সচেতনভাবে technology ব্যবহার করা। Notification বন্ধ রাখা, ঘুমের ঘরে ফোন না নিয়ে যাওয়া, হাঁটা-পথচলা বা আঁকাআঁকির মতো offline শখ ফের গড়ে তোলা — এই ছোট ছোট অভ্যাসগুলোই পার্থক্য তৈরি করতে পারে।

শিশু ও কিশোর মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডঃ অমিত সেন (Dr. Amit Sen) বলছেন, ২৭ শতাংশ ভারতীয় (Indian) ছাত্রছাত্রী মাঝারি থেকে গুরুতর depression-এ আক্রান্ত — এই সংখ্যাটাই প্রমাণ করে যে মানসিক স্বাস্থ্যে বিনিয়োগ এখন জাতীয় অগ্রাধিকার হওয়া উচিত।

Sir Ganga Ram Hospital-এর ডঃ রোমা কুমার (Dr. Roma Kumar) বলেছেন, pandemic পরিস্থিতি এই screen dependency-কে “জীবনের বাধ্যতামূলক অংশ” করে দিয়েছে। এখন সেটা থেকে বেরিয়ে আসতে দরকার কর্মক্ষেত্র এবং বিদ্যালয়ে technology-free zone, “buddy system”-এর মতো সামাজিক সহায়তা।


সরকার কী করছে? নীতি বনাম বাস্তব

Economic Survey 2025-26 একটা বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে “digital divide” মোকাবেলা করাই ছিল সরকারের প্রধান লক্ষ্য। এখন সেই লক্ষ্য পাল্টাচ্ছে। “Digital wellness” বা ডিজিটাল সুস্থতার দিকে নজর ঘুরছে।

প্রস্তাবিত পদক্ষেপগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো বিদ্যালয়গুলোতে বাধ্যতামূলক “Digital Wellness Curriculum”। এই curriculum-এ থাকবে screen time সচেতনতা, cyber safety এবং মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক শিক্ষা। ১৬ বছরের কম বয়সীদের social media ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞার কথাও আলোচনা হচ্ছে। এর পাশাপাশি, শহর ও গ্রামে “Offline Youth Hubs” তৈরির প্রস্তাব রয়েছে — এমন জায়গা যেখানে তরুণরা screen ছাড়া সময় কাটাতে পারবেন, সামাজিক বন্ধন তৈরি করতে পারবেন।

Online Gaming (Regulation) Act 2025 এবং প্রস্তাবিত Digital India Act-এর মাধ্যমে আইনগত কাঠামোও তৈরির চেষ্টা চলছে। Tech company-গুলোকে “safety-by-design” নীতি মেনে চলতে বলা হচ্ছে — মানে, infinite scroll-এর মতো feature-গুলোর জন্য তারাও দায়ী থাকবে।

কিন্তু নীতি আর বাস্তব প্রয়োগের মাঝে যে ফাঁক, সেটা এখনও বিশাল। Tele-MANAS helpline-এর ৩২ লক্ষ কল প্রমাণ করে চাহিদা আছে — কিন্তু পরিকাঠামো সেই চাহিদা মেটাতে পারছে কিনা, সেটা বড় প্রশ্ন।


কেরালার (Kerala) পথ: ‘Digital Mukti Divas’ থেকে শিক্ষা

কেরালার (Kerala) কিছু বিদ্যালয় একটা উদ্যোগী পদক্ষেপ নিয়েছে। NIMHANS-এর “DigiMukti” বা Digital Liberation কার্যক্রমের অনুপ্রেরণায় তারা শুরু করেছে “Digital Mukti Divas” — প্রতি বছরের ১০ ডিসেম্বর পালিত একটি আন্তর্জাতিক Digital Detox Day।

আরো পড়ুন:  কলকাতার মৃতপ্রায় কিডনি: পূর্ব কলকাতা জলাভূমির ধ্বংসের কাহিনী

এই উদ্যোগে রয়েছে বেশ কিছু উপাদান। প্রতিদিনের পাঠ্যক্রমে বাধ্যতামূলক শারীরিক কার্যকলাপ এবং মাঠে খেলার সুযোগ। নির্দিষ্ট সময়ে সব digital teaching tool সরিয়ে হাতে-কলমে শিক্ষার ব্যবস্থা। এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ — অভিভাবকদের প্রশিক্ষণ। কারণ শিশুরা যা দেখে তাই শেখে। বাড়িতে বাবা-মা সারাদিন ফোনে ডুবে থাকলে সন্তানকে ফোন না দেওয়ার কথা বললে কাজ হয় না।

কর্মক্ষেত্রেও পরিবর্তন আসছে। বিশেষত সৃজনশীল এবং academic ক্ষেত্রে “Analog Days” বা “device-free period” চালু করা হচ্ছে। গবেষণায় দেখা গেছে, constant notification থেকে আসা “cognitive residue” — মানে মাথার মধ্যে চিন্তার যে অবশিষ্ট থেকে যায় — গভীর কাজ করার ক্ষমতাকে মারাত্মকভাবে কমিয়ে দেয়। কিছুটা structured screen-free সময় এই সমস্যা লাঘব করতে পারে।


পৃথিবী কী করছে: দক্ষিণ কোরিয়া (South Korea) থেকে স্ক্যান্ডিনেভিয়া (Scandinavia)

ভারত (India) একা নয় এই সংকটে। দক্ষিণ কোরিয়ায় (South Korea) tech addiction-এর জন্য “rescue camps” চালু হয়েছে বহু বছর আগেই। স্ক্যান্ডিনেভিয়ার (Scandinavia) দেশগুলো “friluftsliv” — মানে “খোলা বাতাসের জীবন” — নামের একটি দর্শন মেনে চলে, যেখানে প্রকৃতিতে সময় কাটানো, হাতের কাজ, এবং শারীরিক কার্যকলাপকে মানসিক সুস্থতার অংশ হিসেবে দেখা হয়। এই approach-গুলো dopamine loop পুনর্গঠনে সাহায্য করে।

ভারতের (India) “Offline Youth Hubs”-এর ধারণাটা এই আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতারই প্রতিধ্বনি। তরুণদের শুধু “log off করো” বলা অর্থহীন, যদি তাদের যাওয়ার মতো বিকল্প জায়গা না থাকে। শহরের ছোট ফ্ল্যাটে বন্দী তরুণের কাছে ফোনটাই একমাত্র escape। সেই escape-এর বিকল্প তৈরি না করে আসক্তি ছাড়ানো সম্ভব নয়।


আসলে কী হারিয়ে যাচ্ছে?

ভারত (India) তার “demographic dividend”-এর কথা বলে গর্বিত। মানে, বিশাল তরুণ জনগোষ্ঠী যারা আগামী দশকগুলোতে দেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। কিন্তু এই প্রজন্মের মনোযোগ ক্ষমতা যদি ক্রমশ ক্ষয় হতে থাকে, তাহলে এই সম্পদ কি আর সম্পদ থাকবে?

একটু ভাবুন। যে প্রজন্ম দীর্ঘ সময় একটা কিছুতে মনোযোগ দিতে পারে না, যারা তিন মিনিটের বেশি video দেখতে অস্বস্তি পায়, যাদের sleep debt ক্রমাগত বাড়ছে — তারা কি জটিল engineering সমস্যা সমাধান করতে পারবে? গভীর গবেষণা করতে পারবে? সৃজনশীল উদ্ভাবন করতে পারবে?

এই প্রশ্নগুলোর উত্তর এখনই খোঁজা দরকার। কারণ সংকটটা ভবিষ্যতের নয়, বর্তমানের।


শেষ কথা: সংযোগ থাকুক, কিন্তু নিয়ন্ত্রণটাও হাতে রাখুন

ভারতের (India) digital বিপ্লব অবশ্যই একটা ঐতিহাসিক অর্জন। কোটি কোটি মানুষের কাছে তথ্য, সুযোগ এবং সংযোগ পৌঁছে দেওয়া — এই কাজ ছোট নয়। কিন্তু সেই অর্জনের সাথে এসেছে একটা নীরব সংকটও। আর সেই সংকট এখন অস্বীকার করার উপায় নেই।

“Digital divide” থেকে “Digital wellness” — এই যাত্রাটা এখন জরুরি। Technology যেন tool থাকে, addiction না হয়। ফোনটা যেন আমাদের ব্যবহার করি, ফোন যেন আমাদের ব্যবহার না করে।

রাত দুটোয় ঘুম না হওয়া সেই ষোলো বছরের ছেলেটার কথা মনে পড়ছে? সে একা নয়। লক্ষ লক্ষ কিশোরের এই রাতগুলো একদিন একটা জাতির ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে। সেই ভবিষ্যৎটা কেমন হবে — সেটা অনেকটাই নির্ভর করছে আজকের সিদ্ধান্তের ওপর। বাবা-মার সিদ্ধান্ত, বিদ্যালয়ের সিদ্ধান্ত, সরকারের সিদ্ধান্ত এবং সবার আগে — তরুণ প্রজন্মের নিজেদের সিদ্ধান্ত।

তথ্যসূত্র: Economic Survey 2025-26, ASER 2024, NIMHANS SHUT Clinic গবেষণা, বিভিন্ন মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য এবং জাতীয় স্তরের গবেষণা প্রতিবেদন

Authors

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Demo Ad
Sponsored Links

Most Popular

Recent Comments