অশোক সেনগুপ্ত
“If winter comes, can spring be far behind?” ২০৭ বছর আগে Percy Bysshe Shelley ‘Ode to the West Wind’-এ পংক্তিটি লিখেছিলেন। বঙ্গভাবনায় নিমজ্জিত কলমচি যদি ওই বিশ্বখ্যাত উক্তির ভাবনার অনুসরণে লেখেন বৈশাখ এসে গেল, বৈশাখী কি বেশি দূরে থাকতে পারে?
একটা দীর্ঘ জল্পনার অবসান হয়েছিল গত ৩ নভেম্বর। সে দিন তৃণমূল ভবনে পৌঁছে পুরনো দলে আনুষ্ঠানিক ভাবে প্রত্যাবর্তন করেন কলকাতার প্রাক্তন মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়ের। সঙ্গে ছিলেন বান্ধবী বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়ও। শাসকদলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সী এবং রাজ্যের মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস জোড়াফুলের উত্তরীয় পরিয়ে আনুষ্ঠানিক ভাবে তৃণমূলে স্বাগত জানান ওঁদের।
আনুষ্ঠানিক ভাবে তৃণমূলের তরফে জানানো হয়, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কর্মযজ্ঞে শামিল হওয়ার আর্জি জানিয়েছিলেন শোভন এবং বৈশাখী। তার পর দলের সর্বোচ্চ নেতৃত্বের অনুমোদনক্রমে তাঁদের তৃণমূলে ফেরানো হচ্ছে। শোভন বলেন, ‘‘আমার ধমনী, শিরা সবটাই তৃণমূলের। এটাই আমার ঘর, এটাই আমার সংসার। আমার কাজ হবে দলকে আরও শক্তিশালী করা।’’
আসল কথাটা হচ্ছে, ২০১৮ সালে কলকাতার মেয়র পদ এবং রাজ্যের মন্ত্রিসভা ছেড়ে বেরিয়ে গিয়েছিলেন শোভন। ২০২১ সালের আগে দিল্লি গিয়ে শোভন আনুষ্ঠানিক ভাবে যোগ দিয়েছিলেন বিজেপি-তে। গত বিধানসভা ভোটে শোভন-বৈশাখীর মমতা-বিরোধী পথ প্রচারের ছবি লোকে রীতিমত গপগপ করে গিলেছিল। কিন্তু পদ্মশিবিরে বেশি দিন থাকতে পারেননি শোভন। ‘দেশের কাজ করতে না পেরে’ পাগল হয়ে উঠছিলেন ওই ‘জুড়ি’। দলে, মানে তৃণমূলে ফেরার জন্য মাঝে বেশ কয়েক বার জল্পনা তৈরি হলেও তা জমাট বাঁধেনি। অবশেষে তৃণমূলে ফিরলেন তিনি।একটা ভালো সরকারি সংস্থার দায়িত্বও পেলেন। তার পর গল্পের গরু গাছে উঠতে থাকল।
অনেকেই আশা করছিলেন এবার ভোটের পর ববি হাকিমকে সরিয়ে কলকাতা পুরসভার ভার দেওয়া হবে ‘জলশোভন’-কে। নিজের কেন্দ্রে দলের প্রার্থী হওয়ার আশাও ছিল! সেটা হলে সাক্ষাৎকার দেওয়ার জন্য প্রস্তুত ছিলেন বৈশাখী। হ্যাঁ, শোভনকে প্রশ্ন করলে জবাবটা সাধারনত বৈশাখীই দেন।
কিন্তু টিকিটই পেলেন না শোভন! তাহলে বৈশাখী কেবল সেজেগুজে ঘরে বসে থাকবেন, তা কি হয় নাকি? কিন্তু ওই যে গোড়াতেই লিখেছি, “বৈশাখ এসে গেল, বৈশাখী কি বেশি দূরে থাকতে পারে?” পড়তে থাকুন নিউজস্কোপ, ঠিক জানতে পারবেন!


Recent Comments