তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ফোন করেছিলেন দলের সদ্য প্রাক্তন তৃণমূল নেত্রী মঞ্জু বসুকে।
অনুরোধ করেন নোয়াপাড়া কেন্দ্রে দলীয় প্রার্থীর হয়ে প্রচার করতে। ক্ষুব্ধ নেত্রী তাঁকে স্পষ্টত জানিয়ে দেন, দলে যখন তাঁর প্রয়োজন ফুরিয়ে গিয়েছে, যিনি তাঁকে রাজনীতি থেকে দূরে ঠেলে ঘরে ঢুকিয়ে দিলেন, তখন প্রশ্নই আসে না প্রার্থীর হয়ে কাজ করার।
এই সঙ্গে, তাঁর প্রয়াত স্বামী (তৃণমূল নেতা বিকাশ বসু)-র ছবিকে ব্যবহার করে তৃণমূল দল ভোটে রাজনৈতিক ফায়দা লুটেছে বলে এদিন বিস্ফোরক অভিযোগ করেছেন মঞ্জু বসু। স্বামী খুনে বিচার না-মেলা নিয়েও এদিন তাঁর পুরনো দলকে কাঠগড়ায় তুলেছেন তিনি। একই সঙ্গে জানিয়ে দিয়েছেন যে তিনি অন্য কোনও দলে যোগ দেবেন না৷
ভোটের মুখে নোয়াপাড়ায় তৃণমূলের গলার কাঁটা হয়ে উঠেছেন মঞ্জু। শনিবার নোয়াপাড়া বিধানসভা এলাকায় নিজের বাড়িতে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে দল ছাড়ার কারণ ব্যাখা করতে গিয়ে বিস্ফোরক দাবি করলেন তৃণমূলের প্রবীণ নেত্রী মঞ্জু বসু।
তিনি বলেন, “দল থেকে শুধু অপমান ছাড়া কিছুই পেলাম না। সবার আগে মান-সম্মান। শিক্ষিত সমাজ সেটাই আশা করে। যাঁরা মেরুদণ্ড সোজা রেখে রাজনীতি করে তাঁরা সব সময় চাইবে আগে মান, তার পর যাক প্রাণ!”
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে কেন কথা বলতে যাবে? তিনিই তো আমাকে রাজনীতিতে নিয়ে এসেছিলেন। আবার তিনিই আমাকে রাজনীতি থেকে সন্ন্যাস নিতে বাধ্য করালেন। এই নিয়ে কিছু বলার নেই। কারণ, দলটা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। টিকিট দেওয়া না-দেওয়া সম্পূর্ণ তাঁর ব্যাপার।”
সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ফোনেও বরফ গলল না! শেষ পর্যন্ত দলের সঙ্গে যাবতীয় সম্পর্ক ছিন্ন করে রাজনৈতিক সন্ন্যাস নিলেন নোয়াপাড়ার বিদায়ী বিধায়ক তথা তৃণমূল নেত্রী মঞ্জু বসু। শাসক দলের প্রাক্তন এই ‘অভিমানী’ বিধায়ক দলেরই কর্ত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলে কার্যত ক্ষোভ উগরে দিলেন সংবাদমাধ্যমের সামনে।


Recent Comments