উৎসবের আমেজ ফিকে করে ফের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের সাক্ষী থাকল জম্মু ও কাশ্মীর (Jammu and Kashmir)। পবিত্র ঈদের নামাজের ঠিক পরেই উপত্যকার পুলওয়ামা (Pulwama) জেলায় নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে গুলির লড়াইয়ে খতম হলো নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তৈবা (Lashkar-e-Taiba) বা LeT-র এক শীর্ষ কম্যান্ডার। গোয়েন্দা সূত্রে পাওয়া নির্দিষ্ট খবরের ভিত্তিতে চালানো এই অভিযানে বড় সাফল্য পেল ভারতীয় সেনা এবং জম্মু ও কাশ্মীর (Jammu and Kashmir) পুলিশ।
অপারেশনের নেপথ্য কাহিনী
সূত্রের খবর, ঈদের দিন সকাল থেকেই দক্ষিণ কাশ্মীরের পুলওয়ামা (Pulwama) জেলার লিটার (Litter) এলাকায় সন্দেহভাজন কিছু গতিবিধি লক্ষ্য করা যায়। স্থানীয় পুলিশের বিশেষ শাখা খবর পায় যে, ওই গ্রামের একটি বাড়িতে লুকিয়ে রয়েছে লস্কর জঙ্গিরা। দেরি না করে ভারতীয় সেনার রাষ্ট্রীয় রাইফেলস (Rashtriya Rifles), সিআরপিএফ (CRPF) এবং জম্মু ও কাশ্মীর (Jammu and Kashmir) পুলিশের স্পেশাল অপারেশন গ্রুপ (Special Operation Group) পুরো এলাকাটি ঘিরে ফেলে।নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতি টের পেতেই জঙ্গিরা অতর্কিতে গুলি চালাতে শুরু করে। পালটা জবাব দেয় জওয়ানরাও। বেশ কিছুক্ষণ চলে এই এনকাউন্টার (Encounter)। অবশেষে বাহিনীর নিখুঁত নিশানায় প্রাণ হারায় লস্করের ওই দুর্ধর্ষ কম্যান্ডার। মৃত জঙ্গির পরিচয় নিশ্চিত করেছে প্রশাসন। জানা গিয়েছে, নিহত ওই জঙ্গি নেতার নাম ওয়াসিম শাহ (Waseem Shah), যে দীর্ঘকাল ধরে উপত্যকায় নাশকতামূলক কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিল। তার সঙ্গেই নিসার আহমেদ মীর (Nisar Ahmad Mir) নামে আরও এক জঙ্গি খতম হয়েছে বলে খবর।
সাধারণ মানুষের সুরক্ষা ও সতর্কতা
ঘটনার গুরুত্ব বিচার করে প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এনকাউন্টার (Encounter) চলাকালীন যাতে কোনো সাধারণ মানুষের ক্ষতি না হয়, তার জন্য বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছিল। সংঘর্ষ শেষ হওয়ার পর ঘটনাস্থল থেকে একে-৪৭ (AK-47) এবং একে-৫৬ (AK-56) সহ বিপুল পরিমাণ অস্ত্রশস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এই ঘটনার পর যাতে নতুন করে কোনো উত্তেজনা না ছড়ায়, সেই কারণে পুলওয়ামা (Pulwama) সহ পার্শ্ববর্তী এলাকায় মোবাইল ইন্টারনেট (Mobile Internet) পরিষেবা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।
কেন এই অপারেশন গুরুত্বপূর্ণ?
নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, ওয়াসিম শাহ (Waseem Shah) ছিল লস্কর-ই-তৈবা (Lashkar-e-Taiba) সংগঠনের অন্যতম প্রধান মস্তিষ্ক। জম্মু ও কাশ্মীর (Jammu and Kashmir)-এর শোপিয়ান (Shopian) জেলার বাসিন্দা ওয়াসিম দীর্ঘদিন ধরে তরুণদের উগ্রপন্থার দিকে টেনে আনার কাজ করছিল। তাকে খতম করা ভারতীয় সেনার কাছে একটি বড় জয় হিসেবে দেখা হচ্ছে। কাশ্মীর উপত্যকায় শান্তি বজায় রাখতে সেনার পক্ষ থেকে জিরো টলারেন্স (Zero Tolerance) নীতি নেওয়া হয়েছে।বর্তমানে পুরো এলাকাটি জুড়ে চিরুনি তল্লাশি বা সার্চ অপারেশন (Search Operation) চালানো হচ্ছে। সেনার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, উপত্যকার শান্তিশৃঙ্খলা বিঘ্নিত করার কোনো প্রচেষ্টাই সফল হতে দেওয়া হবে না। ঈদের আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার দিনেই এই সংঘর্ষ নতুন করে মনে করিয়ে দিল যে, সীমান্তে শান্তি ফেরাতে জওয়ানদের লড়াই কতটা কঠিন ও আত্মত্যাগের।


Recent Comments