গত কয়েক সপ্তাহ ধরে সোনা ও রুপোর বাজারে যে আগুন জ্বলছিল, তাতে অবশেষে বড়সড় স্বস্তির নিঃশ্বাস পড়ল। সোমবার সপ্তাহের শুরুতেই সোনা এবং রুপোর দামে ঐতিহাসিক ধস নামতে দেখা গেল। এমসিএক্স (MCX) সূচকে একধাক্কায় রুপোর দাম কমল ১৩,০০০ টাকারও বেশি! পাল্লা দিয়ে দাম কমেছে সোনারও। টানা ঊর্ধ্বমুখিতার পর আচমকা এই বিপুল পতন সাধারণ ক্রেতা এবং মধ্যবিত্তের মুখে চওড়া হাসি ফুটিয়েছে।
বাজারের লেটেস্ট রিপোর্ট অনুযায়ী, সোমবার এমসিএক্স-এ রুপোর দাম প্রায় ৬% বা ১৩,৬০৬ টাকা কমেছে। এর ফলে প্রতি কেজি রুপোর দাম এক লাফে নেমে এসেছে ২ লক্ষ ১৩ হাজার ১৬৬ টাকায়। অন্যদিকে, সোনার দামেও প্রায় ৫% পতন রেকর্ড করা হয়েছে। একধাক্কায় প্রতি ১০ গ্রাম সোনার দাম ৭,১১৫ টাকা থেকে ৮,০৮৯ টাকা পর্যন্ত কমে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ লক্ষ ৩৭ হাজার ৩৭৭ টাকায়। গত কয়েক দশকের মধ্যে একদিনে এত বড় পতন যথেষ্ট বিরল ঘটনা বলে মনে করছেন বাজার বিশেষজ্ঞরা।
হঠাৎ হুড়মুড়িয়ে কেন কমল দাম !!তার পতনের নেপথ্যে রয়েছে বেশ কয়েকটি জোরালো কারন।
মধ্যপ্রাচ্যে ইরান কেন্দ্রিক যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বিশ্বজুড়ে শেয়ার বাজারে প্রবল অস্থিরতা ও রক্তক্ষয় তৈরি হয়েছে। নগদের সংকট বা ‘লিকুইডিটি ক্রাইসিস’ মেটাতে বড় বিনিয়োগকারীরা তড়িঘড়ি সোনা ও রুপো বিক্রি করে দিচ্ছেন। বাজারে হঠাৎ করে এই দুই ধাতুর জোগান বিপুলভাবে বেড়ে যাওয়ায় দাম হুড়মুড়িয়ে পড়ছে।
যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের (Crude Oil) দাম আকাশছোঁয়া। এর ফলে তৈরি হওয়া প্রবল মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কায় বিনিয়োগকারীরা এখন সোনা থেকে বিনিয়োগ কমিয়ে দ্রুত মুনাফা তুলে নেওয়ার (Profit Booking) দিকে ঝুঁকছেন।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ‘ফেড রিজার্ভ’-এর সুদের হার কমানোর কোনো ইঙ্গিত না দেওয়া এবং বন্ড ইল্ড ও আন্তর্জাতিক বাজারে ডলারের চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে সোনার সাময়িক আকর্ষণ কিছুটা কমেছে।
ক্অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা জানাচ্ছেন, এই পতনকে এখনই দীর্ঘমেয়াদী মনে করার কোনো কারণ নেই। ভূ-রাজনৈতিক সংকট বা যুদ্ধ পরিস্থিতি আরও ঘোরালো হলে যেকোনো সময় দাম ফের ঊর্ধ্বমুখী হতে পারে। তাই এই মুহূর্তে এককালীন বিপুল অঙ্কের টাকা বিনিয়োগ না করে, অল্প অল্প করে বা এসআইপি (SIP)-এর মাধ্যমে সোনা কেনা সবচেয়ে সুরক্ষিত ও বুদ্ধিমানের কাজ হবে।


Recent Comments