অশোক সেনগুপ্ত
“শহুরে অঞ্চলে ভোটদানের প্রবণতা কমার লক্ষণ দেখা দিয়েছে। এই ছবিটা বদলাতে হবে”। মঙ্গলবার দক্ষিণ কলকাতায় ওম্যানস ক্রিস্টান কলেজে এক আলোচনায় একাধিক ভোটকর্তা এই মন্তব্য করেন। সেই সঙ্গে তাঁরা অঙ্গীকার করেন, অবাধে, শান্তিপূর্ণ পরিবেশে তৈরি এবং ভোটদাতাদের সবাই ভোটকেন্দ্রে যাতে আসেন, তার সব রকম ব্যবস্থা করা হবে।
এসভিপ (ASVEEP) কথাটাকে টেনে বড় করলে দাঁড়ায় ‘Systematic Voters’ Education and Electoral Participation’। ২০০৯ সালে ভারত সরকার এটি চালু করে। এ দিনের আলোচনা ছিল মূলত এই সচেতনতার বিষয়টিকে কেন্দ্র করে। এতে অংশ নেন নির্বাচন কমিশনের ডেপুটি ডিরেক্টর (মিডিয়া) অপূর্ব কুমার সিং, রাজ্যের অতিরিক্ত মুখ্য নির্বাচন আধিকারিক অরিন্দম নিয়োগী, ‘ডিরেক্টর অফ ল্যান্ড রেকর্ডস অ্যান্ড সার্ভে’ এবং দক্ষিণ কলকাতা জেলার নির্বাচনী অফিসার রনধীর কুমার, উপ মুখ্য নির্বাচন আধিকারিক সুব্রত পাল, ‘এসভিপ’-এর নোডাল অফিসার শাশ্বতী দাস প্রমুখ।
অরিন্দম নিয়োগী বলেন, গত নির্বাচনে রাজ্যে ভোটদানের প্রদত্ত শতাংশ ৮২ হলেও সেই তুলনায় কলকাতার মত শহুরে অঞ্চলে এই হার একটু কম। এই সার্বিক হার বাড়াতে হবে। এটা আমাদের নিছক কর্তব্য নয়, সফল ভোটের জন্যও আবশ্যিক। অধিক মাত্রায় ভোটদাতার সমন্বয়ে নির্ঝঞ্ঝাটে নির্বাচন প্রক্রিয়ার জন্য সব রকম চেষ্টা চলছে। ৪ লক্ষ ২৯ হাজারের ওপর বিভিন্ন ধরণের অভিযোগ লিপিবদ্ধ হয়েছে। নগদ ও সামগ্রি মিলিয়ে ১৮৩ কোটি ৯৩ লক্ষ টাকার জিনিস উদ্ধার হয়েছে। পুলিশ ও প্রশাসনের বিভিন্ন বিভাগ সব রকম চেষ্টা করছে নির্বাচন যেন উৎসবের পরিবেশে হয়।
অপূর্ব সিংও শহুরে এলাকায় ভোট কমার ব্যাপারটা অস্বস্তিকর বলে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, নির্বাচনে আমাদের সকলের ভূমিকাই গুরুত্বপূর্ণ। ডিইও, সিইও, ইসি-র পাশাপাশি সংবাদমাধ্যম, সামাজিক মাধ্যকেও সজাগ থাকতে হবে। মিসইনফরমেশন, ডিসইনফরমেশন-এর এই সময়ে সংশ্লিষ্ট ধারণা ও সচেতনতার অভাব সমস্যা তৈরি করতে পারে।
রনধীর কুমার বলেন, ভারত হল গণতন্ত্রের জননী। বিশ্বের সর্ববৃহৎ গণতন্ত্র এই দেশ। ১৯৫২ থেকে স্বাধীন ভারতে নির্বাচন শুরু। মহিলাদের আমরাই প্রথম ভোটদানের সুযোগ দিয়েছি। হবু ভোটাররা এখন ১ জানুয়ারি থেকে বছরে চার বার নাম তোলার সুযোগ পাবেন। নাগরিক ভোটদাতা হিাবে আপনারা সবাই পাশে থাকুন। অনিয়ম বা বেআইনি কিছু দেখলে ‘সি-ভিজিল’ অ্যাপে ছবি তুলে সেটা দিয়ে দিন, দ্রুততার ঙ্গে যথোপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইলেকটোরাল লিটারেসি ক্লাবের সদস্যদেরও এ ব্যাপারে একটা বড় ভূমিকা আছে। প্রতিটি নাগরিকের ভোটই মূল্যবান
সুব্রত পাল বলেন, অবাধ ও স্বচ্ছ নির্বাচনের সব রকম চেষ্টা করা হচ্ছে। ভোটের পর্ব, পশ্চিমবঙ্গের গর্ব— এটাই হোক আমাদের প্রকৃত আপ্তবাক্য।
সমবেতরা দাঁড়িয়ে ‘ভোটারের শপথবাক্য’ পাঠ করেন। বলেন, “আমরা ভারতীয় নাগরিকগণ গণতন্ত্রে পূর্ণ আস্থা রেখে এতদ্বারা অঙ্গীকার করছি যে, আমরা আমাদের দেশের গণতান্ত্রিক ঐতিহ্য ও অবাধ, পক্ষপাতহীন, শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের মর্যাদার ঊর্ধে তুলে ধরব। এবং, প্রত্যেক নির্বাচনে নির্ভয়ে, কোনও রকম ধর্মীয়, জাতিগত, বর্ণগত, গোষ্ঠীগত, ভাষাগত পার্থক্য বিবেচনা না করে বা অন্য কোনও প্রলোভনে প্রভাবিত না হয়ে আমাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করব।”
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কলেজের টিচার্স ইনচার্জ-সহ একাধিক শিক্ষক, রাসবিহারী বিধানসভা কেন্দ্রের কিছু বিএলও, ইলেকশন লিটারেসি ক্লাবের কিছু সক্রিয় স্বেচ্ছাসেবী, জাতীয় ভোটার দিবস উপলক্ষে আহুত প্রবন্ধ প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থানাধিকারী শুচিস্মিতা চক্রবর্তী প্রমুখ। অনুষ্ঠানশেষে ফ্লেক্সের ফলকে অবাধ ও মুক্ত ভোটের ইচ্ছে প্রকাশ করে আগ্রহীরা তাঁদের মন্তব্য লেখেন।


Recent Comments