বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণ। আর এই পার্বণের অন্যতম মূল কেন্দ্রবিন্দু হলো বাংলার ঐতিহ্যবাহী মন্দির এবং মঠগুলি। এই পুণ্যস্থানগুলির মধ্যে অন্যতম একটি হলো দক্ষিণেশ্বর রামকৃষ্ণ সংঘ আদ্যাপীঠ (Dakshineswar Ramkrishna Sangha Adyapeath)। সারা বছর ধরেই এখানে বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠান লেগেই থাকে, যেখানে ভিড় জমান অগণিত ভক্ত। তবে এবারের আয়োজন যেন সব কিছুকে ছাপিয়ে যেতে চলেছে। জানা গিয়েছে, দেবী আদ্যা (Goddess Adyama) মায়ের পবিত্র আবির্ভাব তিথি উপলক্ষে এক বিশাল কুমারী পুজোর আয়োজন করতে চলেছে মন্দির কর্তৃপক্ষ। নিউস্কোপ বাংলার নিজস্ব প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগামী ২৭ মার্চ, ২০২৬ (শুক্রবার) এই মেগা ইভেন্ট অনুষ্ঠিত হতে চলেছে।
কোথায় এবং কখন অনুষ্ঠিত হবে এই পুজো?
আদ্যাপীঠের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, আগামী ২৭ তারিখ সকাল ঠিক ৭টায় এই বিশেষ পুজোর সূচনা হবে। সম্পূর্ণ অনুষ্ঠানটি আয়োজিত হবে মন্দির প্রাঙ্গণের বিশাল নাটমন্দির অডিটোরিয়ামে (Nutmandir Auditorium)। প্রতি বছরের মতো এবারও দেবী আদ্যা মায়ের আবির্ভাব তিথিকে স্মরণীয় করে রাখতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই পুণ্য লগ্নে উপস্থিত থাকবেন মঠের সন্ন্যাসী, ব্রহ্মচারী এবং অগণিত পুণ্যার্থী।
একসঙ্গে ২০০০ কুমারী কন্যার আরাধনা!
এই অনুষ্ঠানের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হতে চলেছে এর বিশালতা। হিন্দু ধর্মে কুমারী পুজোর এক বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে। মনে করা হয়, কুমারী কন্যাদের মধ্যে সাক্ষাৎ ভগবতীর বাস। সেই বিশ্বাসকে পাথেয় করেই এই দিন প্রায় ২০০০ জন ছোট ছোট বালিকাকে কুমারী রূপে পুজো করা হবে। একসঙ্গে এত বিপুল সংখ্যক কুমারীর আরাধনা সচরাচর দেখা যায় না। লাল পাড় সাদা শাড়ি, আলতা, চন্দন এবং পুষ্পাভরণে সজ্জিতা এই ২০০০ বালিকাকে যখন একসঙ্গে আরতি করা হবে, তখন সেই দৃশ্য যে এক অভূতপূর্ব আধ্যাত্মিক পরিবেশের সৃষ্টি করবে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।
কর্তৃপক্ষের বক্তব্য এবং অন্যান্য অনুষ্ঠান
দক্ষিণেশ্বর রামকৃষ্ণ সংঘ আদ্যাপীঠের সাধারণ সম্পাদক তথা ট্রাস্টি ব্রহ্মচারী মুরাল ভাই (Brahmachari Mural Bhai) জানিয়েছেন যে, এটি তাদের একটি দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য। পূর্ববর্তী বছরগুলির রীতি মেনেই এই বছরও এই মেগা কুমারী পুজোর আয়োজন করা হয়েছে। সকাল ৭টায় কুমারী পুজোর পাশাপাশি সারাদিন ধরেই চলবে নানা ধরনের ধর্মীয় রীতিনীতি, জপ, ধ্যান এবং বিশেষ পুজো-পাঠ।
কলকাতা (Kolkata) শহর এবং তার পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলি থেকে প্রচুর ভক্তের সমাগম হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই ধরনের ধর্মীয় অনুষ্ঠান শুধুমাত্র আধ্যাত্মিক দিক থেকেই নয়, বরং বাংলার সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যেরও একটি বড় নিদর্শন। সব মিলিয়ে আগামী ২৭ মার্চ দক্ষিণেশ্বর আদ্যাপীঠ প্রাঙ্গণ যে এক মহামিলন তীর্থে পরিণত হতে চলেছে, তা নিশ্চিতভাবেই বলা যায়। দেবী আদ্যা মায়ের আশীর্বাদ লাভের আশায় এখন থেকেই দিন গুনছেন হাজার হাজার ভক্ত।

Recent Comments