নিউজস্কোপ বাংলা স্পেশাল রিপোর্ট:
গত বিশ বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে প্রথমবারের মতো সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের (United States) একটি অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার ঘটনা বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। ইরানের (Iran) আকাশে মার্কিন ফাইটার জেট বিধ্বস্ত হওয়ার এই অভাবনীয় ঘটনা কেবল একটি সামরিক বা আর্থিক ক্ষতিই নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্যে (Middle East) পেন্টাগনের (Pentagon) দীর্ঘদিনের সাজানো রণকৌশল ও আকাশপথে তাদের নিরঙ্কুশ আধিপত্যের দাবিকে চরম প্রশ্নের মুখে ফেলে দিয়েছে।
ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ ও শ্বাসরুদ্ধকর উদ্ধার অভিযান
প্রাথমিক প্রতিবেদনগুলোতে এবং ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমগুলোতে জোরালো দাবি করা হয়েছিল যে, তাদের আধুনিক প্রতিরক্ষাব্যবস্থা যুক্তরাষ্ট্রের একটি সর্বাধুনিক এফ-৩৫ (F-35) স্টিলথ ফাইটার ভূপাতিত করেছে। কিন্তু পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক সামরিক বিশেষজ্ঞরা এবং ওপেন সোর্স ইন্টেলিজেন্স বা ওএসআইএনটি (OSINT) বিশ্লেষকরা সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ধ্বংসাবশেষ গভীরভাবে পরীক্ষা করে নিশ্চিত করেছেন যে, ভূপাতিত বিমানটি মূলত একটি এফ-১৫ই স্ট্রাইক ইগল (F-15E Strike Eagle)।
প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, বিমানটি ইরানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় কোহগিলুয়েহ এবং বোয়ার-আহমাদ (Kohgiluyeh and Boyer-Ahmad) প্রদেশে বিধ্বস্ত হয়। সাধারণত এ ধরনের বিমানে ক্রু হিসেবে একজন পাইলট এবং একজন ওয়েপন-সিস্টেম অফিসার থাকেন। বিধ্বস্ত হওয়ার পরপরই মার্কিন স্পেশাল ফোর্সেস অত্যন্ত দ্রুতগতিতে অভিযান চালিয়ে একজন ক্রু সদস্যকে সফলভাবে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। তবে অপরজনের খোঁজ এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করেছে কারণ, ইরান সরকার তাদের স্থানীয় জনগণ এবং পাহাড়ি যাযাবর সম্প্রদায়কে মার্কিন পাইলটকে খুঁজে বের করে বন্দি করার জন্য প্রকাশ্য আহ্বান জানিয়েছে।
আকাশ আধিপত্যের দাবি বনাম যুদ্ধক্ষেত্রের বাস্তব চিত্র
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) সম্প্রতি অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সাথে দাবি করেছিলেন যে, মার্কিন বাহিনীর হামলায় ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা, নৌবাহিনী এবং সামরিক যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রায় পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। তার এই দাবির ঠিক পরপরই ইরানের আকাশে মার্কিন সামরিক আকাশযান ভূপাতিত হওয়ার ঘটনা প্রমাণ করে যে, তেহরান এখনও তাদের শক্তিশালী এবং কার্যকর আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা অত্যন্ত সঙ্গোপনে টিকিয়ে রেখেছে।
সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন বাহিনী মধ্যপ্রাচ্যে ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড (USS Gerald R. Ford) এর মতো বিশালাকার এবং বিশ্বের সর্ববৃহৎ বিমানবাহী রণতরি মোতায়েন করেছে। জাহাজটি আটলান্টিক মহাসাগর থেকে জিব্রাল্টার প্রণালী হয়ে ভূমধ্যসাগরে (Mediterranean Sea) প্রবেশ করেছে। এই অঞ্চলে এফ-২২ র্যাপ্টর (F-22 Raptor) এবং অন্যান্য অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমানের বিশাল উপস্থিতি থাকা সত্ত্বেও এ ধরনের বিপর্যয় মার্কিন সামরিক কৌশল নির্ধারকদের নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে।
কেন প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে পেন্টাগনের রণকৌশল?
একটানা কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা এই তীব্র সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র ১২ হাজার ৫০০-এর বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। এত বিপুল পরিমাণ বোমাবর্ষণ ও ধ্বংসযজ্ঞের পরও ইরান কীভাবে এমন একটি উন্নত ফাইটার জেটকে পরাস্ত করার মতো নিখুঁত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সচল রাখল, তা নিয়ে এখন বিশ্বব্যাপী সামরিক মহলে তুমুল জল্পনা-কল্পনা চলছে। মার্কিন জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জানিয়েছেন যে, তারা ইরানের অভ্যন্তরে গবেষণাকেন্দ্রগুলোতে হামলা শুরু করেছেন। কিন্তু এই যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে কৌশলগত এবং লজিস্টিক দিক থেকে পেন্টাগনকেই বড় ধরনের পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হবে।


Recent Comments