নিজস্ব সংবাদদাতা : নির্বাচনী প্রচারে ব্যস্ত দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বৃহস্পতিবার সিউড়িতে তাঁর জনসভাকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ছে।
তবে এই সফর ঘিরেই নতুন করে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়-এর পড়ুয়া ও বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের সদস্যরা।তাঁদের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য হওয়া সত্ত্বেও সমাবর্তন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী সময় না দিলেও নির্বাচনী প্রচারে অংশ নিচ্ছেন, যা হতাশাজনক।
ফেব্রুয়ারি-মার্চ মাসে সমাবর্তন হওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি, ফলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে।এই প্রসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত জনসংযোগ আধিকারিক অতিগ ঘোষ জানান, রাজনৈতিক কর্মসূচি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুষ্ঠান সম্পূর্ণ আলাদা বিষয়। সমাবর্তনের প্রস্তুতি নেওয়া রয়েছে, তবে প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতি সম্পূর্ণ তাঁর দপ্তরের উপর নির্ভরশীল।
তাই এই নিয়ে অযথা অসন্তোষের কারণ নেই বলেই তিনি দাবি করেন।উল্লেখ্য, শেষবার ২০২৩ সালে বিশ্বভারতীতে সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়। দীর্ঘদিন স্থায়ী উপাচার্য না থাকায় এই প্রথায় বিঘ্ন ঘটে। নতুন উপাচার্য প্রবীরকুমার ঘোষ দায়িত্ব নেওয়ার পর পুনরায় নিয়মিত সমাবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা এখনও কার্যকর হয়নি।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গিয়েছে, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শেষ বা মার্চের শুরুতে আম্রকুঞ্জে অনুষ্ঠান করার পরিকল্পনা ছিল। সেখানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু এবং প্রাক্তন রাজ্যপাল সি ভি আনন্দ বোসকে আমন্ত্রণ জানানোর কথাও শোনা যায়।
কিন্তু এখনও পর্যন্ত কোনও নির্দিষ্ট দিন ঘোষণা হয়নি।এদিকে বিধানসভা নির্বাচনের ঘোষণার পর সমাবর্তনের ভবিষ্যৎ আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে এই নির্বাচনী মরশুমেই প্রথমবার বীরভূম সফরে আসছেন প্রধানমন্ত্রী, যিনি আবার বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্যও।
এই পরিস্থিতিতে ছাত্র সংগঠনগুলির একাংশের দাবি, পড়ুয়াদের স্বার্থের চেয়ে নির্বাচনী প্রচারকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সভাপতি সৌমিক আচার্য বলেন, দীর্ঘদিন ধরে প্রধানমন্ত্রীর সমাবর্তনে অনুপস্থিতি হতাশাজনক।
অন্যদিকে এসএফআই নেতা সৌভিক দাস বক্সির মতে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্যবাহী সমাবর্তন যথাযথ গুরুত্ব পাচ্ছে না।

Recent Comments