রেলের জরুরি চেন (Alarm Chain) কি এখন নিছকই মজার বস্তু? পূর্ব রেলের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান সেই আশঙ্কাই বাড়িয়ে তুলছে। সামান্য ব্যক্তিগত কারণে বা নিছক মজা করার জন্য ট্রেনের চেন টেনে দেওয়ার ফলে বিঘ্নিত হচ্ছে রেলের স্বাভাবিক গতিপথ, যার খেসারত দিতে হচ্ছে সজল দত্তের মতো (নাম পরিবর্তিত) হাজার হাজার সাধারণ যাত্রীকে। মালদা থেকে হাওড়াগামী ১৩০১২ ডাউন ইন্টারসিটি এক্সপ্রেসে সজলের একটি গুরুত্বপূর্ণ চাকরির ইন্টারভিউ ছিল, কিন্তু মাঝপথে অকারণে চেন টানার ফলে ট্রেন দেরিতে পৌঁছানোয় তাঁর স্বপ্ন চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যায়।
পূর্ব রেলের মালদা ডিভিশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অকারণে চেন টানার ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছেবিভাগীয় বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সাহিবগঞ্জ–ভাগলপুর এবং মালদা টাউন–আজিমগঞ্জ সেকশন বর্তমানে এই ধরনের সমাজবিরোধী কার্যকলাপের প্রধান কেন্দ্র হয়ে উঠেছে।রেল কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, অ্যালার্ম চেন পুলিং (ACP) কোনো সাধারণ বিষয় নয়। ১৮৮৯ সালের রেলওয়ে আইনের ১৪১ নম্বর ধারা অনুযায়ী, কোনো যুক্তিসঙ্গত কারণ ছাড়া ট্রেনের চেন টানা একটি দণ্ডনীয় অপরাধ।• শাস্তি: ১ বছর পর্যন্ত জেল, ১,০০০ টাকা পর্যন্ত জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডই হতে পারে।• প্রথমবার অপরাধ: ন্যূনতম ৫০০ টাকা জরিমানা।• দ্বিতীয়বার বা তার বেশি: ন্যূনতম ৩ মাসের কারাদণ্ড বাধ্যতামূলক।
এই বিষয়ে পূর্ব রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক শ্রী শিবরাম মাঝি জানান:”জরুরি চেন জীবন-মরণের সংকটে ব্যবহারের জন্য দেওয়া হয়েছে। কিন্তু বর্তমানে দেখা যাচ্ছে অনেক যাত্রীই বন্ধুদের জন্য অপেক্ষা করতে বা বাড়ির কাছাকাছি নামার জন্য এটি ব্যবহার করছেন। এতে হাজার হাজার কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে। আমরা সাধারণ মানুষের কাছে আবেদন জানাচ্ছি, দয়া করে দায়িত্বশীল হোন। আপনাদের একটু সচেতনতা অন্য একজনের বড় ক্ষতি আটকাতে পারে।”রেলওয়ে প্রোটেকশন ফোর্স (RPF) এই ধরনের ঘটনা রুখতে কড়া নজরদারি চালাচ্ছে। সৎ যাত্রীদের যাত্রা মসৃণ রাখতে এবং ট্রেনের সময়ানুবর্তিতা বজায় রাখতে আগামী দিনে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।


Recent Comments