নিরাপত্তার নিশ্ছিদ্র দুর্গে পরিণত ইসলামাবাদবিশ্ব রাজনীতির মঞ্চে এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং সংবেদনশীল মোড় আসতে চলেছে। দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক অচলাবস্থা কাটিয়ে অবশেষে আলোচনার টেবিলে বসতে চলেছে আমেরিকা (United States) ও ইরান (Iran)। আর এই দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দেশের মধ্যে মধ্যস্থতা বা সমঝোতার ক্ষেত্র হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে পাকিস্তানকে (Pakistan)। বৈঠক শুরু হওয়ার আগেই রাজধানী ইসলামাবাদ (Islamabad) শহরকে এক দুর্ভেদ্য দুর্গে পরিণত করা হয়েছে। নিরাপত্তার খাতিরে শহরের আনাচে-কানাচে মোতায়েন করা হয়েছে সেনাবাহিনী, আর আকাশপথে চলছে অত্যাধুনিক ড্রোনের মাধ্যমে নজরদারি।
নিরাপত্তার কঠোর ঘেরাটোপঐতিহাসিক এই বৈঠককে ঘিরে ইসলামাবাদে এখন সাজ সাজ রব। তবে এই আয়োজন উৎসবের নয়, বরং সর্বোচ্চ সতর্কতার। পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, বিদেশি প্রতিনিধিদের সুরক্ষায় কোনো ধরনের আপস করা হবে না। বিশেষ করে ‘রেড জোন’ বা যেখানে মূল বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা, সেখানে সাধারণ মানুষের প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।শহরের গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে সেনাবাহিনীর (Army) সাঁজোয়া যান অবস্থান নিয়েছে। প্রতিটি চেকপোস্টে কড়া তল্লাশি চালানো হচ্ছে। শুধুমাত্র পরিচয়পত্র যাচাই করেই নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের ভেতরে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে।
গোয়েন্দা সংস্থাগুলো দিনরাত এক করে কাজ করছে যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এই আন্তর্জাতিক আলোচনার পরিবেশ নষ্ট করতে না পারে।আকাশপথে নজরদারি ও যাতায়াত নিয়ন্ত্রণমাটিতে সেনার টহলের পাশাপাশি আকাশপথকেও পুরোপুরি সুরক্ষিত করা হয়েছে। বিশেষ নজরদারি ড্রোনের মাধ্যমে গোটা শহরের ওপর নজর রাখা হচ্ছে। এছাড়াও হেলিকপ্টারের মাধ্যমে নির্দিষ্ট সময় অন্তর টহল দেওয়া হচ্ছে। ইসলামাবাদের আকাশসীমায় ড্রোন বা অন্য কোনো ব্যক্তিগত উড়ান ওড়ানোর ওপর সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে প্রশাসন।শহরবাসীর যাতায়াতের ক্ষেত্রেও বেশ কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। অনেক গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা ডাইভার্ট করে দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে বের না হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। মূলত আমেরিকান এবং ইরানি প্রতিনিধিদের কনভয় চলাচলের সময় যাতে কোনো যানজট বা নিরাপত্তার ঝুঁকি না থাকে, সেজন্যই এই বিশেষ ব্যবস্থা।
কেন এই সমঝোতা বৈঠক গুরুত্বপূর্ণ?
আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে এই বৈঠককে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। ওয়াশিংটন (Washington) এবং তেহরান (Tehran)-এর মধ্যকার উত্তেজনা দীর্ঘদিনের। বিশেষ করে পারমাণবিক চুক্তি এবং মধ্যপ্রাচ্যে প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই দেশের সম্পর্ক তলানিতে ঠেকেছিল। এই প্রেক্ষাপটে ইসলামাবাদে দুই দেশের প্রতিনিধিদের মুখোমুখি হওয়া বড় ধরনের কোনো ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বৈঠক সফল হলে কেবল মধ্যপ্রাচ্য নয়, বরং গোটা বিশ্বের জ্বালানি বাজার এবং ভূ-রাজনীতিতে এক বড় ধরনের স্বস্তি ফিরতে পারে। আর এই পুরো প্রক্রিয়ায় আয়োজক দেশ হিসেবে পাকিস্তানের ভূমিকাও বিশ্বদরবারে নতুন করে মূল্যায়িত হবে।


Recent Comments