নিজস্ব সংবাদদাতা: গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় ভোটদান নাগরিকের মৌলিক অধিকার, তবে তা কখনওই জোর করে চাপিয়ে দেওয়া যায় না—এই বার্তাই স্পষ্ট করে দিল সুপ্রিম কোর্ট। বাধ্যতামূলক ভোটদানের দাবি জানিয়ে দায়ের হওয়া একটি জনস্বার্থ মামলা খারিজ করে দিয়ে শীর্ষ আদালত জানিয়ে দিয়েছে, কাউকে ভোট দিতে বাধ্য করা বিচারবিভাগের আওতায় পড়ে না।
প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বে বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ও বিচারপতি বিপুল এম পাঞ্চোলির বেঞ্চ স্পষ্ট ভাষায় জানায়, আইনের শাসনে চলা দেশে সচেতনতা বৃদ্ধিই গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করার একমাত্র পথ, জবরদস্তি নয়। আদালতের মতে, ভোট না দিলে শাস্তি দেওয়া বা সরকারি সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত করার মতো সিদ্ধান্ত নীতিনির্ধারণী ক্ষেত্রের বিষয়, যা আদালতের নির্দেশে কার্যকর করা সম্ভব নয়।
শুনানিতে প্রধান বিচারপতি উল্লেখ করেন, গত ৭৫ বছর ধরে দেশের মানুষ গণতন্ত্রের প্রতি আস্থা রেখেছে। প্রত্যাশা থাকে, প্রত্যেক নাগরিক ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেবেন। কিন্তু কেউ যদি ভোট না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন, তা সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত পছন্দ—এ ক্ষেত্রে আদালতের হস্তক্ষেপের সুযোগ নেই।
দরিদ্র ও প্রান্তিক মানুষের বাস্তব পরিস্থিতির কথাও তুলে ধরে আদালত প্রশ্ন তোলে—যাঁদের প্রতিদিন দিনমজুরি করে সংসার চালাতে হয়, তাঁদের কাছে ভোট দেওয়ার জন্য কাজ ছেড়ে যাওয়ার দাবি কতটা বাস্তবসম্মত? অনেক ক্ষেত্রেই ভোটের দিনও তাঁদের কাছে কর্মদিবস হিসেবেই গুরুত্বপূর্ণ। এই বাস্তবতাকে উপেক্ষা করে ভোট না দেওয়াকে অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করা উচিত নয় বলেই মত আদালতের।
এছাড়াও, ভোট না দিলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তাবের তীব্র সমালোচনা করে বেঞ্চ জানায়, আইনি চাপ সৃষ্টি করে নয়, বরং স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের মাধ্যমেই গণতন্ত্রের প্রকৃত বিকাশ সম্ভব।
সব মিলিয়ে সুপ্রিম কোর্টের এই রায়ে স্পষ্ট হয়েছে—ভোট দেওয়া নাগরিকের অধিকার হলেও, তা সম্পূর্ণভাবে তাঁর নিজস্ব ইচ্ছার উপর নির্ভরশীল। গণতন্ত্রের শক্তি জবরদস্তিতে নয়, মানুষের সচেতন ও স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণেই নিহিত।

Recent Comments