নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম বা মহিলা সংরক্ষণ বিলে প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনতে না পারার কারণে জাতির উদ্দেশে ভাষণে হতাশা প্রকাশ করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি এই ব্যর্থতার জন্য দেশের মা, বোন এবং কন্যাদের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করেন, বিরোধী দলগুলোর স্বার্থান্বেষী রাজনীতির কারণেই এই সংশোধনী সংসদে পাশ হতে পারেনি।
বিরোধীদের কড়া সমালোচনা
প্রধানমন্ত্রী কংগ্রেস, তৃণমূল কংগ্রেস (টিএমসি), ডিএমকে এবং সমাজবাদী পার্টির মতো বিরোধী দলগুলোর তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি অভিযোগ করেন, এই দলগুলি দেশের স্বার্থের চেয়ে নিজেদের দলীয় স্বার্থকে বড় করে দেখেছে। সংসদে যখন নারী স্বার্থ সংক্রান্ত এই প্রস্তাবটি পড়ে যায়, তখন এই পরিবারতান্ত্রিক দলগুলো উল্লাসে মেতে উঠেছিল বলে তিনি মন্তব্য করেন। মোদীর মতে, এটা কেবল একটি বিলের পতন ছিল না, বরং তা ছিল দেশের নারীদের আত্মসম্মান ও অধিকারের ওপর আঘাত। তিনি বলেন, ২১ শতকের মহিলারা সব নজর রাখছেন এবং এই বিরোধিতার জন্য বিরোধী দলগুলিকে জনগণ ক্ষমা করবে না।
সংশোধনীর উদ্দেশ্য ও ডিলিমিটেশন নিয়ে বিরোধীদের ‘ভ্রান্তি’
মোদী তাঁর ভাষণে স্পষ্ট করেন যে নারী শক্তি বন্দন সংশোধনী কারো অধিকার কেড়ে নেওয়ার জন্য ছিল না, বরং এটি ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচন থেকে নারীদের নতুন সুযোগ ও সমানাধিকার দেওয়ার একটি মহৎ প্রচেষ্টা ছিল। এর মাধ্যমে সমস্ত রাজ্যে সমান অনুপাতে মহিলাদের ক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্য ছিল।প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করেন যে কংগ্রেস এবং তার সহযোগী দলগুলো ডিলিমিটেশন বা আসন পুনর্বিন্যাস নিয়ে অনবরত মিথ্যাচার করছে এবং বিভাজনের রাজনীতি করছে। তিনি আশ্বাস দেন যে, ডিলিমিটেশনের কারণে কোনো রাজ্যের অংশীদারিত্বের অনুপাত বা প্রতিনিধিত্ব কমবে না, বরং সমান অনুপাতে আসন বাড়বে। তা সত্ত্বেও বিরোধী দলগুলো এই সংশোধনী মানতে নারাজ।
কংগ্রেসের ‘নেতিবাচক রাজনীতি‘
ভাষণে কংগ্রেসের দীর্ঘদিনের রাজনীতির কঠোর সমালোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি কংগ্রেসকে ‘অ্যান্টি-রিফর্ম’ বা সংস্কার-বিরোধী দল হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তিনি উল্লেখ করেন, কংগ্রেস ডিজিটাল পেমেন্ট, জিএসটি, ট্রিপল তালাক বাতিল, ৩৭০ ধারা বিলোপ, সিএএ, এবং এক দেশ এক নির্বাচন সহ বিভিন্ন সংস্কারমূলক পদক্ষেপের বিরোধিতা করে এসেছে। মোদীর দাবি, কংগ্রেসের এই নেতিবাচক মানসিকতা এবং দীর্ঘসূত্রীতা কারণেই ভারত তার কাঙ্ক্ষিত উন্নয়নের শিখরে পৌঁছতে পারেনি।ভবিষ্যতের সংকল্পপ্রধানমন্ত্রী বলেন যে, সংসদে বিলটি পাশ করানোর জন্য প্রয়োজনীয় ৬৬% ভোট না পেলেও দেশের ১০০% নারীর আশীর্বাদ তাঁর সাথে রয়েছে। তিনি দেশের সমস্ত নারীদের আশ্বস্ত করে বলেন, মহিলা সংরক্ষণের পথে আসা সমস্ত বাধা দূর করতে তাঁর সরকার বদ্ধপরিকর। তিনি বলেন, “আমাদের সাহস অটুট এবং আমাদের উদ্দেশ্য দৃঢ়। বিরোধী দলগুলি নারীদের ক্ষমতায়ন আটকাতে পারবে না, এটি কেবল সময়ের অপেক্ষা। সবশেষে তিনি বলেন” নারী ক্ষমতায়নের প্রতি বিজেপি ও এনডিএ-র সংকল্প অক্ষুণ্ণ রয়েছে


Recent Comments