পশ্চিমবঙ্গ থেকে নিজেদের কার্যক্রম গুটিয়ে নেওয়ার ইঙ্গিত দিল রাজনৈতিক পরামর্শদাতা সংস্থা আইপ্যাক (I-PAC)। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর তারা আর রাজ্যে তাদের কার্যক্রম চালাবে না। ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটে তৃণমূল কংগ্রেসের বিপুল জয়ের পর এই সংস্থার সাথে ২০২৬ সাল পর্যন্ত চুক্তির মেয়াদ বাড়ানো হয়েছিল। সেই চুক্তির মেয়াদ শেষ হতেই তারা বাংলা থেকে বিদায় নিতে পারে বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে।
২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে রাজ্যে তৃণমূলের ধাক্কার পর রাজনৈতিক কৌশলী প্রশান্ত কিশোরের হাত ধরে বাংলায় যাত্রা শুরু করেছিল আইপ্যাক। ২০২১-এর ‘বাংলা নিজের মেয়েকেই চায়’ প্রচার এবং ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনেও এই সংস্থাটি তৃণমূলের নির্বাচনী কৌশল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। তবে চুক্তির মেয়াদ শেষের পাশাপাশি বর্তমান সময়ে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার ক্রমাগত চাপও এই সিদ্ধান্তের পেছনে একটি বড় কারণ হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
সম্প্রতি কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) আইপ্যাকের ওপর তাদের নজরদারি বাড়িয়েছে। কয়লা পাচার মামলা ও আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত অভিযোগে সংস্থার সহ-প্রতিষ্ঠাতা ভিনেশ চান্ডেলকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পাশাপাশি সংস্থার উচ্চপদস্থ আধিকারিক প্রতীক জৈনের বাসভবনেও তল্লাশি চালানো হয়েছে। এই কেন্দ্রীয় তদন্ত এবং গ্রেফতারির আবহে সংস্থার কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে বলেই রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা।
তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরমহলের খবর অনুযায়ী, নির্বাচনী রণকৌশল এবং সংগঠনের কাজে দল এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি স্বনির্ভর। ২০২৬-এর নির্বাচনী লড়াই শেষ হওয়ার পর আইপ্যাক না থাকলেও দলের সাংগঠনিক কাজে খুব একটা সমস্যা হবে না বলেই মনে করছেন দলের একাংশ। তবে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে একাধিকবার এই সংস্থার কর্মীদের পাশে দাঁড়াতে দেখা গেছে।


Recent Comments