রবিবার (Sunday) সকাল মানেই শহরবাসীর কাছে একটু দেরিতে ঘুম থেকে ওঠা, ছুটির মেজাজ, আর চায়ের কাপে চুমুক দিয়ে খবরের কাগজ পড়া। কিন্তু আজ, ছুটির এই আলসেমি মাখা সকালেই আচমকা বদলে গেল শহরের চিত্র। শহর কলকাতা (Kolkata)-র বুকে ফের একবার অতিসক্রিয় হয়ে উঠল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (Enforcement Directorate) বা ইডি (ED)। একটি জায়গায় নয়, বরং খোদ শহরের বুকে দুটি পৃথক ঠিকানায় একযোগে শুরু হল গোয়েন্দাদের জোড়া অভিযান। কাকভোরে যখন অনেকেই গভীর ঘুমের দেশে, ঠিক তখনই কেন্দ্রীয় বাহিনীর (Central Forces) জওয়ানদের কড়া পাহারায় শুরু হয় এই হাই-ভোল্টেজ তল্লাশি।
জানা গিয়েছে, এদিন ভোর থাকতেই ইডির একাধিক দলের আধিকারিকরা নির্দিষ্ট ঠিকানায় পৌঁছে যান। তাঁদের সাথে ছিল পর্যাপ্ত সংখ্যক সশস্ত্র জওয়ান। নির্দিষ্ট বাড়ি বা ফ্ল্যাটের সামনে পৌঁছানো মাত্রই জওয়ানরা গোটা এলাকা সম্পূর্ণভাবে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেন। বাড়ির সদর গেট ভেতর থেকে তালাবন্ধ করে দেওয়া হয়। স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়, তল্লাশি চলাকালীন বাড়ির ভেতরের কোনও সদস্য বাইরে বেরোতে পারবেন না। একইসঙ্গে, বাইরের কোনও ব্যক্তি, তা সে প্রতিবেশী হোক বা আত্মীয়, ভেতরে প্রবেশ করতে পারবেন না। একপ্রকার দুর্ভেদ্য দুর্গ তৈরি করে ফেলা হয় ওই এলাকাগুলোতে।
কী কারণে এই ম্যারাথন তল্লাশি, সে বিষয়ে তদন্তকারী আধিকারিকদের তরফে প্রাথমিকভাবে সংবাদমাধ্যমের সামনে কোনও মন্তব্য করা হয়নি। তবে ওয়াকিবহাল মহলের ধারণা, রাজ্যে (State) চলা সাম্প্রতিক দুর্নীতি এবং কোটি কোটি টাকার আর্থিক তছরুপের মামলার তদন্তের স্বার্থেই এই আচমকা হানা। ইডির গোয়েন্দাদের কাছে আগে থেকেই বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট তথ্য ও প্রমাণ ছিল বলে মনে করা হচ্ছে। সেই তথ্যের ওপর ভিত্তি করেই ছুটির দিনে এই ‘অপারেশন’-এর ছক কষা হয়েছিল, যাতে অভিযুক্তরা কোনওভাবেই প্রমাণ লোপাটের সুযোগ বা সময় না পান। সূত্র মারফত খবর, বাড়ির ভেতরে থাকা নথিপত্র, ল্যাপটপ (Laptop), মোবাইল ফোন (Mobile Phone) এবং অন্যান্য ডিজিটাল ডিভাইস খুঁটিয়ে পরীক্ষা করছেন আধিকারিকরা। প্রতিটি আলমারি এবং ড্রয়ার তন্নতন্ন করে খোঁজা হচ্ছে। ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের (Bank Account) পাসবই এবং বেনামি সম্পত্তির দলিলের খোঁজ চলছে বলেও জানা যা


Recent Comments