মুর্শিদাবাদের নির্বাচনী লড়াইয়ে প্রতিপক্ষকে বিঁধতে ‘এজেন্সি’ তত্ত্ব খাড়া করলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবারের রোড শো শেষে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের নিশানায় ছিল বিজেপি, নির্বাচন কমিশন, অধীর চৌধুরী এবং হুমায়ুন কবীর। তাঁর সাফ দাবি, ভোটের ময়দানে বিজেপির হয়ে পরোক্ষভাবে কাজ করছে তিনটি ভিন্ন শক্তি। এদের লক্ষ্য একটাই, তৃণমূলের ভোটব্যাঙ্কে থাবা বসানো। অভিষেক এদিন স্পষ্ট ভাষায় জানান, ‘যাঁরা ভোট ভাগ করার চেষ্টা করছেন, তাঁরা বিজেপির দালাল।’ আল-আমিন মিশন গ্রাউন্ড থেকে জিগরি মোড় পর্যন্ত জনজোয়ারে গা ভাসিয়ে বিরোধীদের কড়া বার্তা দেন তৃণমূলের ‘সেনাপতি’। মুর্শিদাবাদের মাটিতে দাঁড়িয়ে অভিষেক এদিন বিজেপির ‘তিন এজেন্সি’র ব্যাখ্যা দেন।
তাঁর মতে, প্রথম এজেন্সি হল নির্বাচন কমিশন, যারা সাধারণ মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দিচ্ছে। দ্বিতীয় এজেন্সি হিসেবে তিনি অধীর চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন কংগ্রেসকে চিহ্নিত করেন। তৃতীয় শক্তি হিসেবে তাঁর নিশানায় ছিল মিম এবং আম জনতা উন্নয়ন পার্টি। অভিষেকের অভিযোগ, এরা সকলে মিলে জেলায় একটি ‘বিপজ্জনক খেলা’ খেলছে। এই বিভাজনের রাজনীতির বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার ডাক দিয়েছেন তিনি। তাঁর আবেদন, ‘ভোটের সময় সকলকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকলে কেউ আমাদের ভাগ করতে পারবেন না। যারা আমাদের মধ্যে বিভাজন করতে চায়, তাদের যোগ্য জবাব দিতে হবে।’ ভোটের রাজনীতির পাশাপাশি জেলাবাসীর দীর্ঘদিনের যন্ত্রণা নদী ভাঙন নিয়েও বড় প্রতিশ্রুতি শোনা গিয়েছে অভিষেকের গলায়। ফরাক্কা ও শামসেরগঞ্জের নদী ভাঙন রোধে কেন্দ্র কেন পদক্ষেপ করছে না, সেই প্রশ্ন তোলেন তিনি।
অভিষেক জানান, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই সমস্যাকে ‘জাতীয় বিপর্যয়’ ঘোষণার দাবি জানালেও কেন্দ্র কান দেয়নি। রাজ্য সরকার ইতিমধ্যেই নিজস্ব তহবিল থেকে ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করে কাজ শুরু করেছে। এরপরই ফরাক্কা বাঁধের অব্যবহৃত জমি নিয়ে তাঁর ঘোষণা, ‘ফরাক্কা বাঁধে অনেক অব্যবহৃত জমি পড়ে আছে। সেগুলি কেন্দ্রের নিয়ন্ত্রণে। আমি কথা দিচ্ছি, আমরা পুনরায় নির্বাচিত হলে ওই জমিগুলি ফেরত পাওয়ার জন্য আন্দোলন শুরু করবে তৃণমূল।’ ঘরছাড়াদের আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, ‘নদী ভাঙনের কারণে যাঁরা ঘরবাড়ি হারিয়েছেন, তাঁরা সকলে সেই জমিতে একটি করে বাড়ি পাবেন।’ ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়া নিয়ে জেলার মানুষের দুশ্চিন্তা দূর করার চেষ্টা করেন অভিষেক।
তিনি বলেন, ‘যাঁদের নাম বাদ গিয়েছে, তাঁরা দুশ্চিন্তা করবেন না। আমরা ৪ তারিখে পুনরায় ক্ষমতায় আসার পর এক মাসের মধ্যে সকলের ভোটাধিকার ফিরিয়ে দেব।’ পাশাপাশি দিল্লির সংবিধান সংশোধনী বিল প্রসঙ্গে তাঁর মন্তব্য, ‘ওরা মহিলা বিলের কথা বলছে। কিন্তু ওটা মহিলা বিল ছিল না। ওটা ছিল ডিলিমিটেশন বিল। তৃণমূল কংগ্রেস দেখিয়ে দিয়েছে যে, বিজেপি চাইলেও দেশ ভাঙতে বা ভাগ করতে পারবে না।’ এদিন সবংয়ের এক তৃণমূল কর্মীর বাড়িতে ঢুকে হেনস্থার ঘটনাতেও বিজেপিকে তুলোধোনা করেন তিনি। তাঁর দাবি, বাংলার মানুষ গণতান্ত্রিক পথেই এর বদলা নেবে। সব মিলিয়ে মুর্শিদাবাদের প্রচার মঞ্চ থেকে কেন্দ্র এবং স্থানীয় বিরোধী নেতৃত্বের বিরুদ্ধে সুর সপ্তমে চড়ালেন অভিষেক

Recent Comments