রাজনীতির ময়দানে কৌশল বদলানো বা নতুন ছক কষা নতুন কিছু নয়। তবে আসন্ন নির্বাচনগুলোর কথা মাথায় রেখে ভারতীয় জনতা পার্টি বা বিজেপি (BJP) এবার এক সম্পূর্ণ অভিনব কৌশল গ্রহণ করেছে। রাজনৈতিক মহলের অন্দরে কান পাতলে এখন একটাই কথা জোরালোভাবে শোনা যাচ্ছে, আর তা হলো— ‘মাঠ ছোট করে গোলে পৌঁছনোর অঙ্ক’। কিন্তু এই রূপক কথার আসল রাজনৈতিক অর্থ ঠিক কী?
সাধারণত যেকোনো রাজনৈতিক দল নির্বাচনে গোটা রাজ্য বা দেশ জুড়ে সমানভাবে ঝাঁপাতে চায়, যাতে সর্বত্র একটি হাওয়া তৈরি হয়। তবে ভারতের (India) বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে, বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গ (West Bengal) রাজ্যের মাটিতে দাঁড়িয়ে, পদ্ম শিবির তাদের চিরাচরিত রণনীতিতে ব্যাপক বদল এনেছে। নয়াদিল্লি (New Delhi) থেকে আসা শীর্ষ নেতৃত্বের কড়া নির্দেশ হলো— যে কেন্দ্রগুলোতে দলের জেতার সম্ভাবনা তুলনামূলকভাবে কম, সেখানে অহেতুক সময়, এনার্জি ও অর্থ নষ্ট করা যাবে না। তার বদলে যে আসনগুলোতে দলের জেতার সম্ভাবনা প্রবল এবং নিজেদের সংগঠন মজবুত, সেগুলোর দিকেই সম্পূর্ণ নজর দিতে হবে। রাজনীতির পরিভাষায় একেই বলা হচ্ছে ‘মাঠ ছোট করা’।
দলীয় সূত্রে খবর, রাজ্যের প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্রকে গতবারের ফলাফল এবং বর্তমান সংগঠনের ভিত্তিতে ‘এ’, ‘বি’, ‘সি’ এবং ‘ডি’— এই চারটি বিশেষ ক্যাটাগরিতে ভাগ করা হয়েছে। এর মধ্যে ‘এ’ এবং ‘বি’ ক্যাটাগরির বুথগুলোর ওপর সবচেয়ে বেশি জোর দেওয়া হচ্ছে। কলকাতা (Kolkata) এবং এর পার্শ্ববর্তী শহরতলি থেকে শুরু করে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় এই নির্দিষ্ট বুথভিত্তিক কৌশল প্রয়োগ করা হচ্ছে। দলের কোর কমিটির বৈঠকে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে যে, দুর্বল জায়গাগুলোতে শক্তি ক্ষয় করার বদলে, শক্তিশালী দুর্গগুলোকে আরও অভেদ্য করতে হবে। অর্থাৎ, পুরো মাঠ জুড়ে অগোছালো ফুটবল না খেলে, প্রতিপক্ষের ডি-বক্সে সরাসরি আক্রমণ জানানোর নিখুঁত গাণিতিক নীতি নিয়েছেন দলের স্ট্র্যাটেজিস্টরা।
হুগলি (Hooghly) এবং পূর্ব মেদিনীপুর (Purba Medinipur) জেলার বেশ কয়েকটি ব্লকে ইতিমধ্যেই এই মডেলে কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে। ‘পান্না প্রমুখ’ বা ভোটার তালিকার প্রতিটি পাতার দায়িত্বে থাকা কর্মীদের সক্রিয়তা কয়েকগুণ বাড়ানো হয়েছে। এই কর্মীদের একমাত্র কাজ হলো নিজেদের দায়িত্বে থাকা নির্দিষ্ট সংখ্যক ভোটারের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা এবং তাদের অভাব-অভিযোগ শোনা। বড় নেতাদের মেগা র্যালির ওপর নির্ভরশীল না থেকে, একেবারে তৃণমূল স্তরের কর্মীদের মাধ্যমে বুথ জেতার এই ছক বিজেপির এই নতুন পরিকল্পনার মূল স্তম্ভ।
এর পাশাপাশি, ডিজিটাল প্রচারেও এসেছে বড়সড় পরিবর্তন। রাজ্যভিত্তিক ঢালাও প্রচারের বদলে, নির্দিষ্ট এলাকার স্থানীয় সমস্যা নিয়ে টার্গেটেড বিজ্ঞাপন বা প্রচার চালানো হচ্ছে। সোশ্যাল মিডিয়া, বিশেষ করে ফেসবুক (Facebook) ও হোয়াটসঅ্যাপের (WhatsApp) মাধ্যমে নির্দিষ্ট এলাকার মানুষের কাছে সরাসরি পৌঁছে যাচ্ছে দলের বার্তা।


Recent Comments