প্রথম দফার ভোটে নজিরবিহীন অংশগ্রহণে রাজনৈতিক মহলে তুমুল চর্চা। বিপুল ভোটদানের কারণ হিসেবে শাসকদল মমতা ব্যানার্জি দাবি করেছেন, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ার আশঙ্কাই মানুষকে বুথমুখী করেছে। তাঁর কথায়, “অনেকের নাম বাদ গিয়েছিল, তাই কেউ ঝুঁকি নিতে চাননি। সকলে ভোট দিয়েছেন—এটা খুবই ভালো লক্ষণ।” তৃণমূলের মুখপাত্র কুনাল ঘোষও একই সুরে বলেন, চক্রান্তের বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছেন সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে মহিলাদের বিপুল অংশগ্রহণ শাসকদলের পক্ষে গিয়েছে।
অন্যদিকে, ভোটের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন নরেন্দ্র মোদি কৃষ্ণনগরের জনসভা থেকে তিনি বলেন, “গত ৫০ বছরে এটাই সবচেয়ে কম সহিংসতার নির্বাচন।” নিরাপত্তা ব্যবস্থাও ছিল নজিরবিহীন—রাজ্যজুড়ে প্রায় আড়াই লাখ নিরাপত্তারক্ষী মোতায়েন করা হয়েছিল। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমত শাহও কটাক্ষ করে বলেন, “তৃণমূলের দুর্নীতি ও গুন্ডারাজের সূর্য অস্ত গেছে।”ভোটের পরিসংখ্যান বলছে, জেলাওয়ারি ভোটদানে দেখা গিয়েছে অসাধারণ সক্রিয়তা। জলপাইগুড়িতে ৯৪.০৯%, বীরভূমে ৯৪.১৯%, মালদহে ৯৩.৪১% এবং মুর্শিদাবাদে ৯৩.৩২% ভোট পড়েছে। উত্তর দিনাজপুরে ৯৩.৩৩% এবং দক্ষিণবঙ্গের ঝাড়গ্রাম (৯২.০৪%), পশ্চিম মেদিনীপুর (৯১.৯৭%), বাঁকুড়া (৯১.৭৬%)-তেও উল্লেখযোগ্য অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা গিয়েছে। বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভোটের হার ছিল ৮৯.৯৩%, যা ইতিমধ্যেই ২০২৪ লোকসভা (৭৯.৮%) এবং ২০২১ বিধানসভা (৮৩.২%) নির্বাচনের রেকর্ড ছাপিয়ে যায়।প্রথম দফায় মোট ১৫২টি আসনে ভোটগ্রহণ হয়েছে।
এই বিপুল ভোটদানকে নিজেদের পক্ষে ইতিবাচক ইঙ্গিত হিসেবেই দেখছে তৃণমূল কংগ্রেস। তাদের দাবি, অন্তত ১২৫টি আসনে জয় নিশ্চিত, যা বেড়ে ১৩৫-ও হতে পারে। একই সঙ্গে নন্দীগ্রামে বিরোধী দলনেতা-শুভেন্দু অধিকারী র পরাজয়ের দাবিও তুলেছেন কুণাল ঘোষ। যদিও পালটা বিজেপির দাবি, তারাও ১২৫টি আসনে জয়ের পথে।সন্ধ্যায় আত্মবিশ্বাসী সুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “মানুষের নাড়ি যদি বুঝে থাকি, তবে বলব-আমরাই এখন চালকের আসনে।” যদিও রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, বেশি ভোট পড়া মানেই পরিবর্তনের ইঙ্গিত। এই তত্ত্ব অবশ্য খারিজ করেছেন তৃণমূল নেতা তিনি বিহারের নির্বাচনের উদাহরণ টেনে বলেন, বেশি ভোট পড়লেও সরকার ফের ক্ষমতায় আসতে পারে।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, মুর্শিদাবাদে সর্বাধিক ২২টি আসনে ভোটগ্রহণ হয়েছে। পূর্ব মেদিনীপুরে ১৬টি, পশ্চিম মেদিনীপুরে ১৫টি এবং মালদহ ও বাঁকুড়ায় ১২টি করে আসনে ভোট হয়েছে। উত্তরবঙ্গের কোচবিহার ও উত্তর দিনাজপুরে ৯টি করে আসনেও যথেষ্ট উৎসাহ লক্ষ্য করা গিয়েছে।এখন নজর দ্বিতীয় দফার দিকে। যদি একই ধারা বজায় থাকে, তবে পশ্চিমবঙ্গ ভোটদানের নিরিখে জাতীয় স্তরে নতুন নজির গড়তে পারে। ইতিমধ্যেই অসম (৮৫.৩৮%) এবং পুদুচেরি (৮৯.৯৩%)-র ভোটের হারকে ছাপিয়ে গিয়েছে প্রথম দফা। সবশেষে, ৪ জুন গণনায়ই নির্ধারিত হবে-এই রেকর্ড ভোেট কার পক্ষে যায়।

Recent Comments