কৃষ্ণনগরের জনসভা থেকে বাংলার নির্বাচনী আবহে জোরালো রাজনৈতিক বার্তা দিলেন নরেন্দ্র মোদি। তাঁর দাবি, গত পাঁচ দশকের মধ্যে এ বারই রাজ্যে সবচেয়ে কম হিংসার ঘটনা ঘটছে—যা নির্বাচনী ব্যবস্থাপনায় এক গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য। প্রথম দফার ভোট চলাকালীনই নির্বাচন কমিশনের ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি বলেন, অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট করাতে কমিশন যথেষ্ট দক্ষতার পরিচয় দিয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে উঠে আসে অতীতের ভোট-পরিস্থিতির প্রসঙ্গও। বিরোধীদের কটাক্ষ করে তিনি অভিযোগ করেন, আগে খুনের ঘটনাকেও ‘আত্মহত্যা’ বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হতো। সেই প্রেক্ষিতেই এ বারের ভোটে সাধারণ মানুষের নির্ভয়ে বুথমুখী হওয়াকে তিনি গণতন্ত্রের জয়ের নিদর্শন হিসেবে তুলে ধরেন। তাঁর কথায়, “ভয় কাটিয়ে মানুষ পরিবর্তনের লক্ষ্যে এগোচ্ছে, তাই রেকর্ড হারে ভোট দিচ্ছে বাংলা।”রাজনৈতিক আক্রমণেও ছিলেন সরব। তৃণমূলকে নিশানা করে দুর্নীতি ও ‘জঙ্গলরাজ’-এর অভিযোগ তোলেন তিনি। ‘ঝালমুড়ি’ বিতর্ক টেনে কটাক্ষ করে বলেন, “ঝালমুড়ি আমি খেয়েছি, কিন্তু ঝাল লেগেছে তৃণমূলের।” তাঁর দাবি, সাধারণ মানুষই এবার পরিবর্তনের শঙ্খ বাজিয়েছেন।নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক ব্যবস্থার প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী জানান, ভোটের পর রাজ্যে নতুন সুরক্ষার পরিবেশ তৈরি হবে। সীমান্ত এলাকায় অনুপ্রবেশ রুখতে বিএসএফ ও পুলিশের সমন্বয় আরও জোরদার করা হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।
মতুয়া সম্প্রদায় ও শরণার্থীদের উদ্দেশে তাঁর বার্তা—ভয়ের কোনও কারণ নেই, তাঁদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা হবে। ক্ষমতায় এলে সিএএ-র বাস্তবায়নে গতি আনার প্রতিশ্রুতিও দেন।নারী সুরক্ষাকে গুরুত্ব দিয়ে প্রতিটি ব্লকে মহিলা থানা গড়ে তোলার কথা বলেন তিনি। পাশাপাশি ‘মাতৃশক্তি ভরসা কার্ড’-এর মাধ্যমে বছরে ৩৬ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তার প্রতিশ্রুতিও তুলে ধরেন। দুর্নীতির বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নিয়ে তাঁর স্পষ্ট বার্তা, লুটের টাকা ফেরত দেওয়া হবে জনগণকে—এটাই মোদীর গ্যারান্টি।

Recent Comments