গণতন্ত্রের সবচেয়ে বড় উৎসব হল নির্বাচন। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে (West Bengal) এই উৎসব যেন বারবারই আতঙ্কের সমার্থক হয়ে দাঁড়ায়। আজ প্রথম দফার ভোটগ্রহণ শুরু হতেই সেই চেনা অশান্ত ছবির পুনরাবৃত্তি ঘটল রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে। সকাল থেকে বুথে বুথে সাধারণ মানুষের লম্বা লাইন দেখা গেলেও, বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে একাধিক জেলা থেকে আসতে শুরু করেছে সংঘর্ষ ও উত্তেজনার খবর।
আজ সবচেয়ে বেশি উত্তেজনা ছড়িয়েছে মুর্শিদাবাদ (Murshidabad) এবং মালদহ (Malda) জেলায়। কোথাও প্রার্থীকে ঘিরে বিক্ষোভ, কোথাও আবার শাসকদলের নিজেদের মধ্যেই চরম গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব। সব মিলিয়ে প্রথম দফার ভোটে রাজ্যের সার্বিক পরিস্থিতি যথেষ্ট উদ্বেগজনক।
মুর্শিদাবাদ জেলার ভরতপুর এবং সংলগ্ন এলাকায় সকাল থেকেই থমথমে পরিবেশ ছিল। বেলা গড়ালে সেই চাপা উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করে। তৃণমূল কংগ্রেস (Trinamool Congress)-এর দাপুটে নেতা ও বিধায়ক হুমায়ুন কবীর (Humayun Kabir)-কে ঘিরে রীতিমতো রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় এলাকাটি। স্থানীয় সূত্রে খবর, একটি নির্দিষ্ট বুথের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে হুমায়ুন সেখানে পৌঁছাতেই তাঁর দলেরই একাংশ তাঁর বিরুদ্ধে ‘গো ব্যাক’ স্লোগান দিতে শুরু করে।মুহূর্তের মধ্যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। শুরু হয় দু’পক্ষের মধ্যে তীব্র বচসা এবং এরপর তা গড়ায় হাতাহাতিতে।
পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছায় যে বিশাল পুলিশ বাহিনী এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীকে লাঠিচার্জ করে উন্মত্ত ভিড় সামলাতে হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের চোখেমুখে ছিল স্পষ্ট আতঙ্কের ছাপ। আমাদের ক্যামেরার সামনে এক সাধারণ ভোটার হতাশার সুরে বলেন, “আমরা তো শুধু নিজের ভোটটা শান্তিতে দিতে চাই। কিন্তু নেতাদের নিজেদের এই লড়াইয়ের মাঝে পড়ে আমাদেরই প্রাণ ওষ্ঠাগত। ভয়ে বুথে যাওয়ার সাহস পাচ্ছি না।” এই ঘটনায় শাসকদলের দীর্ঘদিনের অন্তর্কলহ আরও একবার ভোট ময়দানে প্রকাশ্যে এল বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল রাজনৈতিক মহল।
, উত্তরের আরেক জেলা মালদহের মোথাবাড়ি (Mothabari)-তেও ছবিটা খুব একটা আলাদা নয়। সকাল থেকে শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণের কথা প্রশাসন দাবি করলেও, বেলা বাড়তেই একটি বুথে ভুয়ো ভোট ও বুথ জ্যামের অভিযোগ তুলে শুরু হয় প্রবল হট্টগোল। বিরোধী দলের পোলিং এজেন্টদের বুথ থেকে জোরপূর্বক বের করে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে শাসকদলের কর্মীদের বিরুদ্ধে।এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই দলের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক ধস্তাধস্তি শুরু হয়। মোথাবাড়ির রাস্তায় বাঁশ ও লাঠি হাতে দাপাদাপি করতে দেখা যায় অনেককে। খবর পেয়ে পুলিশ ও র্যাফ পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে পৌঁছালে তাদের ঘিরেও বিক্ষোভ দেখান উত্তেজিত জনতা। বেশ কিছুক্ষণ ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া পুরোপুরি বন্ধ থাকে ওই নির্দিষ্ট বুথটিতে। পরে অতিরিক্ত কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা এসে লাঠি উঁচিয়ে জমায়েত হটিয়ে দিলে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়।অন্যান্য জেলার হালহকিকতশুধু মুর্শিদাবাদ বা মালদহ নয়, প্রথম দফার এই নির্বাচনে রাজ্যের অন্যান্য প্রান্ত থেকেও বিক্ষিপ্ত অশান্তির খবর ক্রমাগত আসছে।


Recent Comments