বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক মুখে রাজারহাট–গোপালপুর কেন্দ্রের রাজনৈতিক পারদ চরমে উঠল। শাসক শিবিরের অন্যতম পরিচিত মুখ অদিতি মুন্সি এবং দেবরাজ চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে নির্বাচনী হলফনামায় তথ্য গোপন ও বিপুল সম্পত্তি কেনা-বেচার অভিযোগ ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। ভোট যত এগোচ্ছে, রাজারহাট–গোপালপুর কেন্দ্রে লড়াইটা তত বেশি হয়ে দাঁড়াচ্ছে ‘আইনজীবী বনাম শিল্পী’-র। এই কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী, আইনজীবী তরুণজ্যোতি তেওয়ারি এবার সরাসরি প্রশ্ন তৃণমূল প্রার্থী অদিতি মুন্সির বিরুদ্ধে। তিনি ‘x – পোস্ট’বলেন “মুখ আর মুখোশ এক নয়”।
পেশায় আইনজীবী তরুণজ্যোতি তেওয়ারির মতামত অনুসারে সাধারণত তথ্য-প্রমাণ ছাড়া তিনি কথা বলেন না। এবার তিনি সরাসরি Banglarbhumi এবং Wbregistration পোর্টালের তথ্য উল্লেখ করে দাবি করেছেন, জগদীশপুর মৌজায় অদিতি মুন্সির নামে থাকা একাধিক জমির উল্লেখ তাঁর নির্বাচনী হলফনামায় নেই। তিনি প্রশ্ন তোলেন “এটা কি শুধুই ভুল নাকি ইচ্ছাকৃত গোপনীয়তা”। আইনজীবী তরুণজ্যোতির তথ্য অনুযায়ী, নির্বাচন ঘোষণার ঠিক আগে অর্থাৎ ২৫শে মার্চ ২০২৬ তারিখে একাধিক বড় সম্পত্তি, রাজারহাটের জমি এবং কালিম্পং এর বিশাল জমি বিক্রি ও ট্রান্সফার হয়েছে একই দিনেই। তিনি প্রশ্ন তোলেন “এটা কি কাকতালীয় নাকি পরিকল্পিত?”যাদের কাছেই জমিগুলি বিক্রি হয় অর্থাৎ ‘মানষ পাত্র’ ও ‘মানবী পাত্র’ তাদের সাথে অদিতি মুন্সির সম্পর্ক নিয়েও প্রশ্ন তোলেন আইনজীবী তরুণ জ্যোতি।
তরুণজ্যোতি জিজ্ঞেস করেন, যে আয় দেখানো হয়েছে সেই আয়ের সাথে এই বিপুল সম্পত্তি কেনা বেচার কোন মিল নেই কেন? তিনি এও দাবি জানান “কয়েক কোটি টাকার সম্পত্তি কিন্তু ঘোষিত আয় ও সম্পদের হিসাব তার কাছে খুবই সীমিত এটা কিভাবে সম্ভব ?”
আইনজীবী প্রার্থী তরুণজ্যোতি মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, Representation of the People Act, 1951-এর Section 125A অনুযায়ী, হলফনামায় ভুল তথ্য দেওয়া বা গোপন করা একটি গুরুতর অপরাধ। এছাড়া Bharatiya Nyaya Sanhita (BNS) অনুযায়ী মিথ্যা হলফনামা দেওয়ার জন্য প্রার্থীর বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়ের হতে পারে।
দুই প্রার্থীর মধ্যে এই নথিপত্র ভিত্তিক লড়াই রাজারহাট–গোপালপুরের সাধারণ মানুষকেও দ্বিধায় ফেলে দিয়েছে। একদিকে সেলিব্রেটি প্রার্থীর ভাবমূর্তি, অন্যদিকে আইনজীবীর তুলে ধরা সরকারি নথির চ্যালেঞ্জ। তরুণজ্যোতির এই ‘এক্স’ (টুইটার) পোস্ট এখন রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে। এখন দেখার, এই আইনি লড়াইয়ের শেষ কোথায় এবং ভোটাররা এই নথির লড়াইকে কীভাবে গ্রহণ করেন।
গণতন্ত্রে শেষ কথা বলে মানুষ। রাজারহাট-গোপালপুরের ভোটাররা কি এই ‘মুখ ও মুখোশ’-এর পার্থক্যের উত্তর পাবেন? নাকি এই অভিযোগগুলো কেবল নির্বাচনের উত্তাপে মিলিয়ে যাবে, তা সময়ই বলবে। তবে আপাতত তথ্যের যে পাহাড় সামনে এসেছে, তাতে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর অস্বস্তি যে কয়েক গুণ বাড়ল, তা বলাই বাহুল্য।


Recent Comments