back to top
Tuesday, May 12, 2026
Leaderboard Ad Space (728x90) - Responsive
Homeবিবিধবাবাকে হারিয়েও থামেনি লড়াই, মাধ্যমিকে রাজ্যে প্রথম রায়গঞ্জের অভিরূপ

বাবাকে হারিয়েও থামেনি লড়াই, মাধ্যমিকে রাজ্যে প্রথম রায়গঞ্জের অভিরূপ

জীবনের কঠিন বাস্তবতাকে সঙ্গী করেই সাফল্যের শিখরে পৌঁছাল উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জের ছাত্র অভিরূপ ভদ্র। ২০২৬ সালের মাধ্যমিক পরীক্ষায় ৬৯৮ নম্বর পেয়ে রাজ্যে একাই প্রথম স্থান অধিকার করেছে রায়গঞ্জের সারদা বিদ্যা মন্দিরের এই কৃতী পড়ুয়া। শতাংশের হিসেবে তার প্রাপ্তি ৯৯.৭১।অভিরূপের এই সাফল্যের পিছনে রয়েছে এক অনুপ্রেরণার গল্প।

২০২০ সালে, তখন সে ক্লাস ফাইভের ছাত্র, আচমকাই বাবাকে হারায়। সেই কঠিন সময়ের পর মা-ই হয়ে ওঠেন তার সবচেয়ে বড় শক্তি। পেশায় নার্স মা একা হাতে সংসার সামলানোর পাশাপাশি ছেলের পড়াশোনার সমস্ত দায়িত্ব পালন করেছেন।ফল প্রকাশের পর অভিরূপ জানায়, ভালো ফলের আশা ছিল ঠিকই, কিন্তু রাজ্যে প্রথম হবে তা কখনও ভাবেনি। তার কথায়, “প্রথমে বলব আমার মা আমাকে সবচেয়ে বেশি সাহায্য করেছে। পাশাপাশি আমার শিক্ষকরা, টিউটোরিয়ালের স্যাররা এবং পাথফাইন্ডারে দেওয়া মক টেস্টও আমাকে অনেক সাহায্য করেছে। স্কুল থেকেও নিয়মিত ছোট ছোট মক টেস্ট ও সেমিনারের আয়োজন করা হয়েছিল, যাতে ছাত্রছাত্রীরা পরীক্ষার জন্য আরও ভালোভাবে প্রস্তুতি নিতে পারে। সেগুলো আমার খুব উপকারে এসেছে।”

সে আরও জানায়, ধারাবাহিকভাবে পড়াশোনা করাকেই সাফল্যের মূল চাবিকাঠি বলে মনে করে সে। নির্দিষ্ট সময় ধরে নয়, বরং প্রতিদিনের লক্ষ্য স্থির করেই পড়াশোনা করত অভিরূপ। আগের দিনই ঠিক করে রাখত পরদিন কতটা পড়বে, আর সেই লক্ষ্য পূরণ না হওয়া পর্যন্ত পড়াশোনা চালিয়ে যেত।পড়াশোনার পাশাপাশি বই পড়া ও সিনেমা দেখা ছিল তার প্রিয় শখ। বিশেষ করে স্বামী বিবেকানন্দের লেখা বই তাকে সবচেয়ে বেশি অনুপ্রাণিত করেছে। ভৌতবিজ্ঞান ও ইতিহাস ছিল তার পছন্দের বিষয়।

ক্রিকেট খেলতেও ভালোবাসে অভিরূপ, যদিও পড়াশোনার ক্ষতি না হয়, সেদিকেও সবসময় নজর রাখত।ভবিষ্যতে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার স্বপ্ন দেখছে এই কৃতী ছাত্র। তার এই সাফল্যে স্কুলের শিক্ষকদের অবদানও গুরুত্বপূর্ণ বলে জানিয়েছে সে। জানা গিয়েছে, পড়াশোনায় তাকে সাহায্য করেছেন মোট ৯ জন গৃহশিক্ষক।অভিরূপের মা আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, “ও নিজের পড়াশোনা নিজেই খুব গুছিয়ে করত। আমি শুধু ওর প্রয়োজনীয় জিনিস আর খাওয়াদাওয়ার দিকে নজর রাখতাম। ভালো ফল করবে জানতাম, প্রথম দশে থাকতে পারে বলেও ভেবেছিলাম। কিন্তু রাজ্যে প্রথম হবে, আর ওর নাম সবাই শুনবে, সেটা সত্যিই ভাবতে পারিনি।”

আরো পড়ুন:  লিখনশৈলীতে বসন্ত-ভাবনার রূপান্তর

সংগ্রাম, অধ্যবসায়, মায়ের অদম্য সমর্থন এবং শিক্ষকদের সঠিক দিশা—এই সবকিছুর সমন্বয়েই আজ সাফল্যের নতুন ইতিহাস গড়ল রায়গঞ্জের অভিরূপ ভদ্র।

Author

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Demo Ad
Sponsored Links

Most Popular

Recent Comments