অশোক সেনগুপ্ত
জন্মের পর ৩২ বছরে এই প্রথম রাজ্য নির্বাচন কমিশনে কমিশনার, যুগ্ম সচিব, সচিব— উধাও ৩ মাথাই। রাজ্যের ১২টি জেলা ১৫টি মিউনিসিপালিটির মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে গিয়েছে অনেক দিন আগেই। এ ছাড়া আরও ৭টি মিউনিসিপালিটি ভেঙে দেওয়া হয়েছিল বিভিন্ন সময়ে।
মেয়াদ উত্তীর্ণ মিউনিসিপালিটিগুলো হল—
কার্শিয়াং ও মিরিক (দার্জিলিং জেলা ), কালিম্পং (কালিম্পং জেলা), রায়গঞ্জ (উত্তর দিনাজপুর জেলা), ডোমকল (মুর্শিদাবাদ), পূজালি (দক্ষিণ ২৪ পরগনা), ধূপগুড়ি (জলপাইগুড়ি), পাঁশকুড়া ও হলদিয়া (পূর্ব মেদিনীপুর), বুনিয়াদপুর (দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা), কুপার্স ক্যাম্প নোটিফায়েড এরিয়া (নদিয়া), দুর্গাপুর (পশ্চিম বর্ধমান), নৈহাটি (বীরভূম), হাওড়া ও বালি (হাওড়া জেলা)।
এইসব মিউনিসিপালিটির ওয়ার্ডের সংখ্যা ও শেষ ভোটগ্রহণের তারিখ হল—কার্শিয়াং (২০ ও ১৪-৫-১৭), মিরিক (৯ ও ১৪-৫-১৭), কালিম্পং (২৩ ও ১৪-৫-১৭), রায়গঞ্জ (২৭ ও ১৪-৫-১৭), ডোমকল (২১ ও ১৪-৫-১৭), পূজালি (১৬ ও ১৪-৫-১৭), ধূপগুড়ি (১৬ ও ১৩-৮-১৭), পাঁশকুড়া (১৮ ও ১৩-৮-১৭), হলদিয়া (২৯ ও ১৩-৮-১৭), বুনিয়াদপুর (১৪ ও ১৩-৮-১৭), কুপার্স ক্যাম্প নোটিফায়েড এরিয়া (১২ ও ১৩-৮-১৭), দুর্গাপুর (৪৩ ও ১৩-৮-১৭), নৈহাটি(১৬ ও ১৪-৫-১৭), হাওড়া (৬৬ ও ২২-১১-১৩), বালি (৩৫ ও ৩-১০-১৫),
১২-১১-২১ তারিখে হাওড়া থেকে পৃথক হয়েছিল বালি মিউনিসিপালিটি।
ভেঙে দেওয়া মিউনিসিপালিটিগুলো হল নদিয়া জেলার গয়েশপুর, কৃষ্ণনগর ও চাকদা (ওয়ার্ড যথাক্রমে ১৮, ২৫ ও ২১, ভেঙে দেওয়ার তারিখ যথাক্রমে ২-১-২৬, ২৭-১০-২৫ ও ১৬-১২-২৫-এ), পশ্চিম মেদিনীপুরের খড়্গপুর (৩৫টি ওয়ার্ড, ভেঙে দেওয়া হয় ২১-১-২৬-এ), উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাট (২৩টি ওয়ার্ড, ভেঙে দেওয়া হয় ১৯-১২-২৫-এ), মুর্শিদাবাদের জঙ্গিপুর (২১টি ওয়ার্ড, ভেঙে দেওয়া হয় ১৯-১২-২৫-এ), পুরুলিয়া (২৩টি ওয়ার্ড, ভেঙে দেওয়া হয় ১৬-১২-২৫-এ)।
এগুলোর প্রতিটিতেই নির্বাচিত পর্ষদ না থাকায় নানা ধরণের সমস্যা হচ্ছে। রাজ্য বিজেপি-র প্রভাবশালী একটি মহল চাইছে দ্রুত এগুলোয় ভোট নেওয়া হোক। যাতে বিধানসভা ভোটের ঝড়ো হাওয়ার সুফল তাতেও পাওয়া যায়। কিন্তু এর জন্য আগাম প্রস্তুতি দরকার। বিষয়টা সম্পর্কে যথেষ্ঠ অভিজ্ঞ প্রশাসক না থাকলে কমিশন প্রতি পদে হোঁচট খাবে।
হোঁচট খাওয়ার কারণ, ভোটের আগে প্রতিটি মিউনিসিপালিটির জনসংখ্যার ভিত্তিতে তফশিলি জাতি, উপজাতি ও মহিলাদের সংরক্ষিত ওয়ার্ড চিহ্ণিতকরণ, সেগুলোর খসরা প্রকাশ, আপত্তির সময়সীমা ধার্য, তার পর শুনানী, চূড়ান্ত ভোটারতালিকা প্রকাশ প্রভৃতি ছাড়াও প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে সমন্বয়-বৈঠক, ভোটগ্রহণ কেন্দ্রর ব্যবস্থাপনা ও আনুষঙ্গিক নানা প্রক্রিয়ায় সময় লাগে। কিছুকাল বাদেই শুরু হয়ে যাবে দুর্গাপুজোর প্রস্তুতি। বিভিন্ন দলের কর্মীরা তাতে ব্যস্ত থাকবেন। ভোটের আগে তাঁদের সঙ্গেও কমিশন-কর্তার আলোচাআবশ্যিক। উদ্যোগী হয়ে কমিশনের কাজগুলো কে করাবেন?
কেন কমিশন মুণ্ডহীন? গত অক্টোবর মাসে অবসর নিয়েছেন কমিশনের যুগ্ম সচিব। গত ২০ সেপ্টেম্বর কমিশনার রাজীব সিনহার পুনর্নিয়োগের মেয়াদ শেষ হয়েছে। ২০১৮-র ১ সেপ্টেম্বর কমিশনের সচিব হন নীলাঞ্জন শান্ডিল্য। ‘একা কুম্ভ রক্ষা করে’-র মত আগামী নির্বাচনগুলো সংগঠিত করার পরিকল্পনা করছিলেন তিনি। কিন্তু সোমবার প্রথম বিজেপি সরকারের রাজ্য মন্ত্রিসভার প্রথম দিনই পুনর্নিয়োগপ্রাপ্ত সরকারি নানা বিভাগের আধিকারিকদের বসিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। দ্রুততার সঙ্গে তৈরি হয় ২৪৩ জনের নামতালিকা। তার মধ্যে আছে
নীলাঞ্জনবাবুর নাম। বুধবার থেকে তিনি আর দফতরে আসবেন না। গোটা ঘটনায় বিস্মিত ওয়াকিবহাল মহল।
প্রসঙ্গত, প্রত্যক্ষ সরকারি নিয়ন্ত্রণ থেকে বিভিন্ন মিউনিসিপালিটির নির্বাচনকে মুক্ত রাখার চেষ্টায় ১-৯-৯৪-তে সংবিধানের ৭৩ ও ৭৪ ধারা সংশোধনের মাধ্যমে গোটা দেশে রাজ্য নির্বাচন কমিশন তৈরির সিদ্ধান্ত হয়েছিল। এর পর এ রাজ্যে তৈরি হয় এই কমিশন।


Recent Comments