নিজস্ব সংবাদদাতা: রাজ্যের দুই জেলায় পৃথক তিনটি ঘটনায় গরু পাচারের অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়াল। পূর্ব বর্ধমান ও পশ্চিম মেদিনীপুরে পুলিশের অভিযানে উদ্ধার হয়েছে বহু গরু ও বলদ। গ্রেফতার করা হয়েছে মোট ছয় জনকে, পাশাপাশি আটক করা হয়েছে একটি কন্টেনারের চালককে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার ভোরে পূর্ব বর্ধমানের বর্ধমান থানার পুলিশ গোপন সূত্রে খবর পেয়ে অভিযান চালায়। জিটি রোড ধরে কাটোয়ার দিকে যাওয়ার সময় একটি গাড়ি থেকে ১১ জোড়া বলদ উদ্ধার করা হয়। ঘটনায় শেখ রফিকুল ইসলাম ও মিন্টু শেখ নামে দুই ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশ। ধৃতদের কাছ থেকে বলদের বৈধ কাগজপত্র চাওয়া হলে তারা তা দেখাতে পারেননি। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, ঝাড়খণ্ড থেকে অবৈধভাবে বলদ এনে পাচারের উদ্দেশ্যে কাটোয়ায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। ধৃতদের বিরুদ্ধে স্বতঃপ্রণোদিত মামলা রুজু করে আদালতে তোলা হলে বিচারক তাঁদের বিচারবিভাগীয় হেফাজতের নির্দেশ দেন।
অন্যদিকে, একই দিনে কাটোয়া শহরের মাধাইতলা এলাকায় আরও একটি গরু পাচারের অভিযোগ সামনে আসে। স্থানীয়দের দাবি, পাঁচটি গরু ভাগীরথী নদীপথে পাচারের উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। অভিযোগ, বিজেপি ও বজরং দলের কর্মী-সমর্থকেরা চার জনকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেন। এ সময় অভিযুক্তদের মারধরের ঘটনাও ঘটে বলে অভিযোগ উঠেছে। পরে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং চার জনকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতদের কাছ থেকেও গরুর মালিকানা সংক্রান্ত কোনও বৈধ নথি পাওয়া যায়নি। উদ্ধার হওয়া গরুগুলি আপাতত পুলিশি হেফাজতে রাখা হয়েছে।
এ দিকে পশ্চিম মেদিনীপুরের দাঁতন থানার সোনাকোনিয়া নাকা চেকপোস্ট এলাকায় তল্লাশির সময় একটি গরুভর্তি কন্টেনার আটক করে পুলিশ। ওই কন্টেনার থেকে ৩৩টি গরু উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, কন্টেনারটি ওড়িশা থেকে খড়্গপুরের দিকে যাচ্ছিল। ঘটনায় গাড়ির চালককে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে পুলিশ।
ঘটনাগুলিকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পুলিশ গোটা পাচারচক্রের সঙ্গে আর কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখছে।

Recent Comments