নিজস্ব সংবাদদাতা: প্রকাশিত হল ২০২৬ সালের উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার ফলাফল। চলতি বছরে রাজ্যের সার্বিক পাশের হার দাঁড়িয়েছে ৯১.২৩ শতাংশ। গত বছরের তুলনায় এ বার ফলাফলে সামান্য উন্নতি হয়েছে। বিশেষভাবে নজর কেড়েছে ছাত্রীরা, পাশের হারে তারা ছেলেদেরও পিছনে ফেলেছে। জেলার নিরিখে সর্বোচ্চ সাফল্য এসেছে পূর্ব মেদিনীপুর থেকে, যেখানে পাশের হার ৯৪.১৯ শতাংশ।
উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এ বছর মোট ৬ লক্ষ ২৬ হাজার ২৫৮ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়। তার মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ৫ লক্ষ ৭১ হাজার ৩৫৫ জন। ফলপ্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই বিভিন্ন স্কুলে শুরু হয়েছে উচ্ছ্বাস, আনন্দ আর উদযাপনের আবহ।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, মাত্র ৭৬ দিনের মধ্যেই এ বছরের ফল প্রকাশ করা হয়েছে। গত ১২ ফেব্রুয়ারি শুরু হয়েছিল উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা এবং শেষ হয় ২৭ ফেব্রুয়ারি। দ্রুততার সঙ্গে মূল্যায়ন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই ফল প্রকাশ করল সংসদ।
শিক্ষা সংসদ জানিয়েছে, ফলপ্রকাশের দিনই ছাত্র-ছাত্রীদের হাতে তুলে দেওয়া হবে মার্কশিটের হার্ডকপি, পাশের শংসাপত্র এবং রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট। ফলে ফল জানার পর প্রয়োজনীয় নথি পেতেও কোনও সমস্যায় পড়তে হবে না পরীক্ষার্থীদের।
এ বছর পরীক্ষার ব্যবস্থাপনাতেও ছিল বিশেষ চ্যালেঞ্জ। একই পরীক্ষাকেন্দ্রে একসঙ্গে বসেছিল উচ্চ মাধ্যমিকের চতুর্থ সেমিস্টারের পরীক্ষার্থী, তৃতীয় সেমিস্টারের সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষার্থী এবং পুরনো সিলেবাসের ছাত্র-ছাত্রীরা। শিক্ষক সংকট কাটাতে প্রাথমিক, উচ্চ প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষকদেরও পরীক্ষার গার্ড হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল বলে জানিয়েছিল শিক্ষা সংসদ।
গত বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার সার্বিক পাশের হার ছিল ৯০.৭৯ শতাংশ। সেই তুলনায় এ বছর আরও উন্নতি হয়েছে ফলাফলে। শিক্ষা মহলের মতে, নতুন সেমিস্টার পদ্ধতি এবং দ্রুত মূল্যায়ন প্রক্রিয়ার মধ্যেও ছাত্র-ছাত্রীরা যেভাবে সাফল্য অর্জন করেছে, তা যথেষ্ট প্রশংসনীয়।
ফল প্রকাশের পর এখন কলেজে ভর্তির প্রস্তুতিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে সফল পরীক্ষার্থীরা। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে আজ আনন্দ, স্বস্তি এবং ভবিষ্যতের নতুন স্বপ্নে মুখর উচ্চ মাধ্যমিক উত্তীর্ণ ছাত্র-ছাত্রীরা।

Recent Comments