নিজস্ব সংবাদদাতা: ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার হিলি ব্লকে দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের কাজ ফের গতি পাচ্ছে। সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকায় জমি অধিগ্রহণের জটিলতা কাটাতে এবার বিশেষ উদ্যোগ নিল প্রশাসন। কৃষকদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় নথি ও ‘নো অবজেকশন’ সংগ্রহের জন্য আগামী ১৮ মে থেকে ৩১ মে পর্যন্ত একাধিক বিশেষ ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়েছে।
হিলি ব্লকের শ্রীরামপুর, শ্রীকৃষ্ণপুর উত্তর, জামালপুর, গোবিন্দপুর, আগ্রা, বৈগ্রাম, হাড়িপুকুর, উজাল দক্ষিণপাড়া, গোসাইপুর, ডুমরন, চকগোপাল, গয়েশপুর, মথুরাপুর ও লোকমা-সহ বিস্তীর্ণ সীমান্তবর্তী এলাকায় এখনও স্থায়ী কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ সম্পূর্ণ হয়নি। প্রায় ৩৭ কিলোমিটার সীমান্তজুড়ে কোথাও অস্থায়ীভাবে বাঁশ ও তারের বেড়া থাকলেও বহু জায়গায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা অপর্যাপ্ত বলেই মনে করছে প্রশাসন।
সীমান্তের ফাঁকফোকর ব্যবহার করে অনুপ্রবেশ, চোরাচালান কিংবা জঙ্গি সংগঠনের সদস্যদের ভারতে ঢোকার আশঙ্কা দীর্ঘদিন ধরেই রয়েছে। সেই কারণেই সীমান্ত এলাকায় স্থায়ী কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে কেন্দ্রীয় সরকার। এর জন্য প্রয়োজনীয় জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে প্রশাসনকে।
ভূমি ও ভূমি রাজস্ব দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, হিলি ব্লকের ১৬টি সীমান্তবর্তী মৌজায় নির্দিষ্ট তারিখ অনুযায়ী ক্যাম্প করা হবে। প্রতিদিন দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলবে এই শিবির। সেখানে জমির মালিকদের কাগজপত্র যাচাই করে ‘নো অবজেকশন সার্টিফিকেট’ গ্রহণ করা হবে। পরে সরকারি নির্ধারিত মূল্যে জমি অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হাতে তুলে দেওয়া হবে।
এই বিষয়ে হিলি ব্লক ভূমি ও ভূমি রাজস্ব দপ্তরের আধিকারিক দীপেশ মল্লিক জানান, সীমান্তবর্তী এলাকার জমি অধিগ্রহণের জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় আলাদা আলাদা দিনে ক্যাম্পের মাধ্যমে কৃষকদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় নথি সংগ্রহ করা হবে এবং নিয়ম মেনেই জমি অধিগ্রহণের কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে।

Recent Comments