ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ডস ব্যুরো (NCRB)-র সাম্প্রতিক রিপোর্টে কলকাতাকে আবারও ভারতের ‘সবচেয়ে নিরাপদ শহর’-এর তকমা দেওয়া হয়েছে। পরপর তিনবার এই শিরোপা। পরিসংখ্যান বলছে, দিল্লিতে যেখানে প্রতি লক্ষে অপরাধের হার আকাশছোঁয়া, সেখানে কলকাতায় তা নগন্য। কিন্তু পরিসংখ্যান কি সবসময় সত্যি কথা বলে?
তকমা বনাম বাস্তব: আজকের আনন্দপুরের অগ্নিকাণ্ড চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল শহরের ‘ফায়ার সেফটি’ বা অগ্নিসুরক্ষার কঙ্কালসার দশা। যেখানে ২১টি তাজা প্রাণ ঝরে গেল প্রশাসনের নাকের ডগায় চলা এক বেআইনি কারখানায়। এটা কি নাগরিকদের নিরাপত্তার গাফিলতি নয়? অন্যদিকে, পার্ক স্ট্রিটের মতো হাই-প্রোফাইল এলাকায় খাবারের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন বা রাতের শহরে ছোটখাটো ছিনতাইয়ের ঘটনা—এগুলো কি ‘সেফ সিটি’-র ইমেজে দাগ ফেলছে না?
নাগরিকরা কী বলছেন? সল্টলেকের বাসিন্দা সুমিতা রায় বলছেন, “রাস্তায় হাঁটতে ভয় লাগে না ঠিকই, কিন্তু যেভাবে বেআইনি নির্মাণ আর অগ্নিকাণ্ড বাড়ছে, তাতে বাড়িতে থেকেও নিরাপদ বোধ করি না।” সমাজতাত্ত্বিকদের মতে, নারী নির্যাতন বা বড় অপরাধ কম হওয়া অবশ্যই স্বস্তির, কিন্তু ‘নিরাপত্তা’ মানে শুধু ক্রাইম কম হওয়া নয়, বরং নাগরিকদের সামগ্রিক সুরক্ষাও বটে। কলকাতা নিরাপদ, কিন্তু ‘আত্মতুষ্টি’ যেন সেই নিরাপত্তাকে নড়বড়ে না করে দেয়—এটাই এখন প্রশাসনের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ।
