ফের শিরোনামে কলকাতা পুরসভা (Kolkata Municipal Corporation)। এবার এক মহিলার শ্লীলতাহানি এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে গ্রেফতার করা হলো ১১৪ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কংগ্রেস (Trinamool Congress) কাউন্সিলর বিশ্বজিৎ মণ্ডলকে। রিজেন্ট পার্ক (Regent Park) থানার পুলিশের এই পদক্ষেপের জেরে রাজনৈতিক মহলে রীতিমতো চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে।
অভিযোগকারিণী ওই মহিলার দাবি, ২০২৪ সালের মার্চ মাসে প্রথমবার এবং গত ৯ মে দ্বিতীয়বার তাঁর শ্লীলতাহানি করেছেন এই জনপ্রতিনিধি। শুধু শারীরিক নিগ্রহই নয়, ওই মহিলার অভিযোগ, বিশ্বজিৎ মণ্ডল তাঁকে উদ্দেশ্য করে অত্যন্ত অশালীন ভাষা প্রয়োগ করেছেন এবং বিভিন্ন সময়ে হুমকিও দিয়েছেন।
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে ভুক্তভোগী মহিলা সম্প্রতি রিজেন্ট পার্ক থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই তদন্তে নেমে পুলিশ তিন বারের এই জয়ী কাউন্সিলরকে গ্রেফতার করেছে।
উল্লেখ্য, বিশ্বজিৎ মণ্ডল রাজনীতির আঙিনায় বেশ পরিচিত মুখ। ১১৪ নম্বর ওয়ার্ডটি আগে যাদবপুর (Jadavpur) বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত ছিল, যা পরবর্তীকালে আসন পুনর্বিন্যাসের ফলে টালিগঞ্জ (Tollygunge) বিধানসভার অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। ২০১০, ২০১৫ এবং ২০২১ সালে পরপর তিনবার এই ওয়ার্ড থেকে জয়লাভ করে তিনি নিজের রাজনৈতিক আধিপত্য বজায় রেখেছিলেন।
স্থানীয় রাজনীতিতে তিনি টালিগঞ্জের প্রাক্তন বিধায়ক তথা রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের (Arup Biswas) ঘনিষ্ঠ বলয়ের নেতা হিসেবে পরিচিত। ফলে, তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা এই অভিযোগ রাজনৈতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।গত কয়েক দিনে কলকাতা পুরসভার একাধিক কাউন্সিলরের গ্রেফতারি এক ভয়াবহ পরিস্থিতির ইঙ্গিত দিচ্ছে।
গত ২৩ মে তোলাবাজির অভিযোগে ১২৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সুদীপ পোল্লে-কে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। এরপর গত ২ জুন তোলাবাজির একই অভিযোগে ৩৬ নম্বর ওয়ার্ডের শচীন সিংহ এবং ১০৬ নম্বর ওয়ার্ডের অরিজিৎ দাসকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়।
সেই ধারাবাহিকতা অব্যাহত রেখে বুধবার তোলাবাজি ও হুমকির একাধিক ধারায় অভিযুক্ত ৪২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মহেশকুমার শর্মাকে গ্রেফতার করে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।সপ্তাহের ব্যবধানে শাসকদলের চারজন কাউন্সিলরের গ্রেফতারি কলকাতা পুরসভার প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক ইমেজে বড়সড় ধাক্কা দিয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
বিশেষ করে, জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে বারবার তোলাবাজি বা শ্লীলতাহানির মতো গুরুতর অভিযোগ ওঠায় বিরোধী দলগুলো তীব্র আক্রমণ শুরু করেছে।পুলিশি সূত্রে খবর, ধৃত কাউন্সিলরকে জেরা করে ঘটনার নেপথ্যে আরও কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
অভিযোগকারিণীর বয়ান অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখছে প্রশাসন। এই গ্রেফতারির পর ওই ওয়ার্ডের প্রশাসনিক কাজকর্ম কীভাবে সামলানো হবে বা আইনি জটিলতা কতদূর গড়াবে, সেটাই এখন দেখার।


Recent Comments