পাঞ্জাবের মোহালিতে এক ভয়ংকর হত্যাকাণ্ড ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। প্রেমের সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার ক্ষোভ থেকেই অফিসের মধ্যেই প্রাক্তন প্রেমিকাকে নৃশংসভাবে খুন করার অভিযোগ উঠেছে এক যুবকের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি এতটাই ভয়াবহ যে অফিসের সিসিটিভি ফুটেজ দেখে শিউরে উঠছেন তদন্তকারীরাও।
মৃত তরুণীর নাম ডিম্পল। তিনি মোহালির একটি বেসরকারি ‘প্যাকার্স অ্যান্ড মুভার্স’ সংস্থায় কর্মরত ছিলেন। অভিযুক্ত যুবকের নাম হরবিন্দর মান ওরফে হ্যারি। জানা গিয়েছে, গত তিন বছর ধরে একই অফিসে কাজ করার সূত্রেই তাঁদের পরিচয়। ধীরে ধীরে সেই বন্ধুত্ব প্রেমের সম্পর্কে বদলে যায়। তবে কয়েক মাস আগে তাঁদের সম্পর্ক ভেঙে যায়। অভিযোগ, বিচ্ছেদের পর থেকেই ডিম্পলকে ফের সম্পর্কে ফিরতে চাপ দিচ্ছিল হ্যারি। কিন্তু তরুণী স্পষ্টভাবেই সেই প্রস্তাব ফিরিয়ে দেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা প্রায় ৭টা ৪০ মিনিট নাগাদ আচমকাই অফিসে ঢুকে পড়ে হ্যারি। তখন নিজের ডেস্কে বসে কাজ করছিলেন ডিম্পল। আচমকা পিছন থেকে এসে ধারালো অস্ত্র নিয়ে তরুণীর উপর হামলা চালায় সে। পরিস্থিতি বুঝে প্রাণ বাঁচাতে অফিসের দরজার দিকে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন ডিম্পল। কিন্তু অভিযুক্ত তাঁকে তাড়া করে ধরে ফেলে।
সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গিয়েছে, চুলের মুঠি ধরে টেনে মাটিতে ফেলে একের পর এক ছুরির কোপ মারতে থাকে হ্যারি। তদন্তকারীদের দাবি, তরুণীর শরীরে ২০টিরও বেশি আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গিয়েছে। অফিসের কয়েকজন কর্মী তাঁকে বাঁচানোর চেষ্টা করলেও অভিযুক্তের ভয়ঙ্কর আচরণের সামনে কেউ এগোতে পারেননি।
ডিম্পল মাটিতে লুটিয়ে পড়ার পরও থামেনি হ্যারি। এরপর সে অফিসের ভিতরে ফিরে গিয়ে নিজের গলায়ও ধারালো অস্ত্র চালিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গিয়েছে।
ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় মোহালি থানার পুলিশ। রক্তাক্ত অবস্থায় দু’জনকেই হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা ডিম্পলকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। ইতিমধ্যেই সিসিটিভি ফুটেজ, ফরেনসিক নমুনা এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান সংগ্রহ করেছে পুলিশ। কী কারণে এই ভয়ঙ্কর হামলা, শুধুই সম্পর্ক ভাঙার ক্ষোভ নাকি এর পিছনে অন্য কোনও কারণ রয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এই ঘটনায় গোটা এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অফিসের সহকর্মীদের অনেকেই জানিয়েছেন, কয়েক মিনিটের মধ্যেই হাসিখুশি অফিসের পরিবেশ রক্তাক্ত বিভীষিকায় পরিণত হয়েছিল। প্রেমে প্রত্যাখ্যান যে এত ভয়ঙ্কর রূপ নিতে পারে, সেই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে সকলের মনে।


Recent Comments