তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে চলা রাজনৈতিক টানাপোড়েন এবার প্রকাশ্যে আরও স্পষ্ট হয়ে উঠল। লোকসভার প্রবীণ সাংসদ সুদীপ বন্দোপাধ্যায়-কে ঘিরে দিল্লির রাজনৈতিক মহলে ‘বিদ্রোহী শিবিরে’ যোগদানের জল্পনা তৈরি হতেই তৃণমূলের দুই সাংসদ মহুয়া মৈত্র এবং সাগরিকা ঘোষ প্রকাশ্যে তাঁর বিরুদ্ধে অবস্থান নেন। একজন রাজনৈতিক কটাক্ষে সরব হয়েছেন, অন্যজন মনে করিয়ে দিয়েছেন সংবিধানের দলত্যাগ বিরোধী আইনের কঠোর বিধান।
সম্প্রতি দিল্লিতে বিজেপির শীর্ষ নেতা ভূপেন্দ্র ইয়াদাভ-এর বাসভবনে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই সামাজিক মাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান মহুয়া মৈত্র। তিনি দাবি করেন, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় দলের সহকর্মীদের জানিয়েছিলেন যে তিনি অসুস্থতার কারণে কলকাতার একটি হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। কিন্তু পরে তাঁকে দিল্লিতে দেখা যাওয়ায় তাঁর বক্তব্যের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। মহুয়ার অভিযোগ, এই ঘটনার মধ্য দিয়েই সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রকৃত রাজনৈতিক অবস্থান সামনে চলে এসেছে।
অন্যদিকে সাগরিকা ঘোষ বিষয়টিকে আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে ব্যাখ্যা করেছেন। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, কোনও সাংসদ বা বিধায়ক মূল দলের সদস্য হয়েও সংসদ বা বিধানসভার ভিতরে পৃথক গোষ্ঠী তৈরি করতে পারেন না। সংবিধানের দশম তফসিল অনুযায়ী দলত্যাগ বিরোধী আইন এমন পদক্ষেপকে স্বীকৃতি দেয় না। তাঁর বক্তব্য, যদি কোনও জনপ্রতিনিধি দলীয় অবস্থান থেকে সরে গিয়ে আলাদা রাজনৈতিক ব্লক গঠনের চেষ্টা করেন, তাহলে তাঁর সদস্যপদ খারিজ হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে লোকসভায় তৃণমূলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুখ ছিলেন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে দলের অন্দরে তাঁর ভূমিকা ও অবস্থান নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠছিল। সেই আবহেই তাঁকে ঘিরে তৈরি হওয়া নতুন জল্পনা এবং দলেরই দুই সাংসদের প্রকাশ্য সমালোচনা তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ অস্বস্তিকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।
এখনও পর্যন্ত সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের তরফে এই বিতর্ক নিয়ে বিস্তারিত কোনও প্রতিক্রিয়া সামনে আসেনি। তবে মহুয়া মৈত্রের রাজনৈতিক আক্রমণ এবং সাগরিকা ঘোষের আইনি সতর্কবার্তার পর বিষয়টি যে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। রাজনৈতিক মহলের নজর এখন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরবর্তী পদক্ষেপ এবং তৃণমূল নেতৃত্বের অবস্থানের দিকে।


Recent Comments