কলকাতার লালবাজারে বুধবার এক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার সাক্ষী থাকল রাজ্য পুলিশ। দীর্ঘদিন ধরে মাওবাদী সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থাকা নেত্রী শকুন্তলা মাহাতো ওরফে ‘পুষ্পা’ আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণ করলেন কলকাতা পুলিশের কাছে। পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দের হাতে তিনি একটি এসএলআর রাইফেল, ৪০ রাউন্ড কার্তুজ এবং একটি ম্যাগাজিন তুলে দেন।
পশ্চিম মেদিনীপুরের বেলপাহাড়ির মেচুয়া গ্রামের বাসিন্দা শকুন্তলা মাহাতো গত দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে মাওবাদী কার্যকলাপের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০০১ সালের পর থেকে তিনি মূলত ঝাড়খণ্ডের জঙ্গলাঞ্চলে সক্রিয় ছিলেন। বিহার, ঝাড়খণ্ড ও ওড়িশা সীমান্তবর্তী এলাকায় মাওবাদীদের ২২ নম্বর প্ল্যাটুনের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসেবেও তাঁর ভূমিকা ছিল। তাঁর মাথার দাম ধার্য করা হয়েছিল ১০ লক্ষ টাকা।
যদিও তাঁর অধিকাংশ কার্যকলাপ ঝাড়খণ্ডে কেন্দ্রীভূত ছিল, পশ্চিমবঙ্গেও তাঁর বিরুদ্ধে দুটি মামলা দায়ের রয়েছে। দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকার পর অবশেষে সশস্ত্র পথ ত্যাগ করে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার সিদ্ধান্ত নিলেন তিনি।
আত্মসমর্পণের পর শকুন্তলা মাহাতো বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে মাওবাদী আন্দোলনের আর কোনও প্রাসঙ্গিকতা নেই। তাঁর কথায়, “মূলস্রোতে ফিরে আসতে পেরে আমি খুবই খুশি। এখনকার পরিস্থিতিতে এই ধরনের আন্দোলনের প্রয়োজন নেই বলেই আমি মনে করি। মাওবাদী আন্দোলনের গুরুত্ব অনেকটাই কমে গিয়েছে।”
তিনি আরও জানান, সরকারের পুনর্বাসন নীতির উপর আস্থা রেখেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। অতীতে আত্মসমর্পণকারী বহু মাওবাদী পুনর্বাসনের সুবিধা পেয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি। সেই কারণেই নতুন জীবন শুরু করার লক্ষ্যে তিনি অস্ত্র ছেড়ে স্বাভাবিক সমাজে ফিরে আসার পথ বেছে নিয়েছেন।
শুধু নিজে আত্মসমর্পণ করেই থেমে থাকেননি শকুন্তলা। জঙ্গলে এখনও সক্রিয় থাকা মাওবাদীদের উদ্দেশে বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, “যাঁরা এখনও এই পথে রয়েছেন, তাঁদেরও মূলস্রোতে ফিরে আসা উচিত। আমি মনে করি আত্মসমর্পণ করাই সঠিক সিদ্ধান্ত এবং অন্যদেরও সেই পথেই হাঁটার আহ্বান জানাই।”
নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, শকুন্তলা মাহাতোর আত্মসমর্পণ জঙ্গলমহল ও সংলগ্ন এলাকায় মাওবাদী সংগঠনের ক্রমশ দুর্বল হয়ে পড়ারই আরেকটি বড় ইঙ্গিত। দীর্ঘদিনের এক সক্রিয় নেত্রীর এই সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে আরও অনেক মাওবাদী কর্মীকে মূলস্রোতে ফেরার ব্যাপারে উৎসাহিত করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।


Recent Comments