back to top
Monday, June 22, 2026
Leaderboard Ad Space (728x90) - Responsive
Homeজেলার খবরনতুন সরকারের প্রথম বাজেটের আগে তৃণমূলকে ‘অপেক্ষা ও পর্যবেক্ষণ’-এর বার্তা মমতার

নতুন সরকারের প্রথম বাজেটের আগে তৃণমূলকে ‘অপেক্ষা ও পর্যবেক্ষণ’-এর বার্তা মমতার

রাজ্যে বিজেপি সরকারের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেট পেশের ঠিক আগের দিন দলীয় নেতৃত্বকে সংযত থাকার পরামর্শ দিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর স্পষ্ট বার্তা, বাজেটের নথি সামনে আসার আগে শুধুমাত্র রাজনৈতিক কারণে বিরোধিতায় নামা ঠিক হবে না। আগে দেখতে হবে, রাজ্যের মানুষ এবং বাংলার উন্নয়নের জন্য নতুন সরকার কী কী পরিকল্পনা বা আর্থিক বরাদ্দ ঘোষণা করছে। তারপর তথ্য ও বাস্তবতার ভিত্তিতেই দলীয় অবস্থান ঠিক করতে হবে।

সোমবার শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেট পেশ হওয়ার কথা। সেই বাজেটকে ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। ক্ষমতায় আসার পর নতুন সরকারের তরফে উন্নয়ন, কর্মসংস্থান, শিল্প এবং পরিকাঠামো নিয়ে একাধিক প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। ফলে প্রথম বাজেটে সেই প্রতিশ্রুতির কতটা প্রতিফলন দেখা যায়, সেদিকেই এখন নজর সাধারণ মানুষের পাশাপাশি রাজনৈতিক মহলেরও।

রবিবার কালীঘাটে দলের হাতে গোনা কয়েকজন শীর্ষ নেতাকে নিয়ে বৈঠক করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সূত্রের খবর, সেখানে বাজেট প্রসঙ্গ উঠতেই তিনি বলেন, সরকার নতুন দায়িত্ব নিয়েছে এবং এটি তাদের প্রথম বাজেট। তাই বাজেট পেশ হওয়ার আগেই বিরোধিতার সুর তোলা উচিত নয়। কেন্দ্রের সঙ্গে সমন্বয় করে রাজ্য কতটা আর্থিক সহায়তা পেতে পারে, কোন কোন খাতে নতুন বরাদ্দ হচ্ছে, কৃষক, শ্রমিক, যুবক-যুবতী, মহিলা এবং নিম্নবিত্তদের জন্য কী ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে—সব দিক খুঁটিয়ে দেখতে হবে।

দলীয় নেতাদের উদ্দেশে মমতার পরামর্শ, বিরোধী রাজনীতি মানে সব সিদ্ধান্তকে এক কথায় নাকচ করে দেওয়া নয়। যেখানে রাজ্যের স্বার্থ রক্ষা হবে, মানুষের উপকার হবে, সেখানে বিষয়টিকে স্বীকার করতে হবে। আবার বাজেটে যদি প্রতিশ্রুতির সঙ্গে বাস্তবের ফারাক থাকে, যদি বাংলার প্রাপ্য উপেক্ষিত হয় বা মানুষের উপর বাড়তি চাপ পড়ে, তাহলে সেই বিষয়গুলি তথ্য-প্রমাণ দিয়ে তুলে ধরতে হবে।

তৃণমূল সূত্রে খবর, দলের শীর্ষ নেতৃত্ব মনে করছে—বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে মানুষের মনোভাব বুঝে এগোনো জরুরি। নতুন সরকারকে কাজের সুযোগ না দিয়ে শুরু থেকেই লাগাতার সমালোচনা করলে তা জনমানসে বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে। তাই সরকারের প্রতিটি সিদ্ধান্তের উপর নজর রেখে, প্রয়োজনমতো গঠনমূলক সমালোচনার পথেই এগোতে চাইছে তৃণমূল।

আরো পড়ুন:  মালদহের আমবাগানে ভয়াবহ বিস্ফোরণ, আম কুড়োতে গিয়ে জখম তিন নাবালক; আশঙ্কাজনক সপ্তম শ্রেণির ছাত্র

শুভেন্দু সরকারের প্রথম বাজেটে শিল্পে বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, রাস্তা-ঘাট, পর্যটন এবং উত্তরবঙ্গের উন্নয়ন নিয়ে কী ঘোষণা হয়, তা নিয়ে কৌতূহল বাড়ছে। পাশাপাশি সামাজিক প্রকল্পগুলির ভবিষ্যৎ, সরকারি কর্মীদের দাবি, মূল্যবৃদ্ধি মোকাবিলায় পদক্ষেপ এবং কেন্দ্রীয় সহায়তার অঙ্কও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

সব মিলিয়ে, বাজেটের আগে তৃণমূল নেত্রীর এই বার্তা রাজনৈতিকভাবে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, তিনি দলকে বুঝিয়ে দিলেন—সরকারের ভুল ধরতে হবে, কিন্তু তার আগে জানতে হবে সরকারের পরিকল্পনা কী। বাংলার মানুষের স্বার্থকে সামনে রেখেই আগামী দিনে বিরোধী দলের ভূমিকা নির্ধারণ করতে হবে।

Author

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Demo Ad
Sponsored Links

Most Popular

Recent Comments