পশ্চিমবঙ্গের কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা ছাত্র সংসদ নির্বাচন ফের চালু হওয়ার সম্ভাবনা ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। আগামী বছর রাজ্যের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে ছাত্রভোট হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর বক্তব্যে ছাত্র সংসদ নির্বাচন নিয়ে নতুন করে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।
ছাত্র সংসদ নির্বাচন প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী জানান, কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে ভোট হওয়া উচিত। তাঁর কথায়, ছাত্র রাজনীতির মধ্য দিয়েই বহু রাজনৈতিক নেতার উত্থান হয়েছে। কলেজে পড়ার সময় ক্লাসের ফাঁকে বক্তৃতা এবং ছাত্র রাজনীতিতে অংশগ্রহণের অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
এদিন অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের (এবিভিপি) পশ্চিমবঙ্গের দায়িত্বপ্রাপ্ত পর্যবেক্ষকের সঙ্গে তাঁর কথোপকথনের প্রসঙ্গও উল্লেখ করেন শুভেন্দু। সেই আলোচনার কথা জানাতে গিয়ে তিনি বলেন, আগামী বছর ছাত্র সংসদ নির্বাচন আয়োজনের কথা তাঁকে বলা হয়েছে। পাশাপাশি, রাজ্যের কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে এবিভিপি এবং রাষ্ট্রবাদী মতাদর্শের সমর্থকদের উপস্থিতি বাড়ার প্রত্যাশার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
উল্লেখ্য, রাজ্যে দীর্ঘদিন ধরেই কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে ছাত্র সংসদ নির্বাচন বন্ধ রয়েছে। কোভিড অতিমারির পর নির্বাচন আয়োজনের সমস্যা নিয়ে তৎকালীন রাজ্য সরকারের তরফে আদালতে বক্তব্য জানানো হয়েছিল। কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশে বিভিন্ন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ ভেঙে দেওয়া হয়। পাশাপাশি, ছাত্র সংসদের ইউনিয়ন রুমগুলিও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। এখনও বহু প্রতিষ্ঠানে সেই ঘরগুলি বন্ধ অবস্থায় রয়েছে।
ছাত্র সংসদ নির্বাচন নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক মহলেও আলোচনা বেড়েছে। কয়েক দিন আগেই রাজ্যের উচ্চশিক্ষা মন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় ছাত্রভোট হওয়ার সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। এবার মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য সেই জল্পনাকে আরও উসকে দিল।
তবে আগামী বছর নির্বাচন হলে তার নির্দিষ্ট সময়সূচি কী হবে, কোন পদ্ধতিতে ভোট হবে এবং রাজ্যের সমস্ত কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে একসঙ্গে নির্বাচন আয়োজন করা সম্ভব হবে কি না, সে বিষয়ে এখনও বিস্তারিত ঘোষণা সামনে আসেনি। ফলে ছাত্র সংসদ নির্বাচন নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য সরকারি ঘোষণার দিকেই তাকিয়ে রয়েছে শিক্ষামহল।


Recent Comments