Ankita Mondal: ২০০৮ সালের অর্থনৈতিক ধসের চেয়েও বড় ক্ষতি হতে পারে, AI-তে বিনিয়োগ নিয়ে বড় আশঙ্কা প্রকাশ করলেন ankitaঅর্থনীতিবিদরা। ২০২৫-২৬ সালের অর্থনৈতিক সমীক্ষা (Economic Survey) এবং একাধিক আন্তর্জাতিক সংস্থা এই নিয়ে কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছে।
কেন্দ্রীয় সরকারের Economic Survey 2025-26-এ বলা হয়েছে, বিশ্বজুড়ে AI ইনফ্রাস্ট্রাকচারে যে হারে লগ্নি হচ্ছে, তার পরিণাম “২০০৮ সালের বিশ্ব আর্থিক সংকটের থেকেও খারাপ” হতে পারে।
সমীক্ষা অনুযায়ী, এই আশঙ্কার সম্ভাবনা ১০-২০% হলেও, এর প্রভাব হবে ভয়াবহ।
১. অতিরিক্ত লিভারেজ : AI ডেটা সেন্টার তৈরিতে দীর্ঘমেয়াদী ঋণ, সরু কাস্টমার বেস এবং উচ্চাকাঙ্ক্ষী সময়সীমা নিয়ে ব্যবসা চলছে।
২. ব্যাঙ্কের ঝুঁকি : BIS (Bank for International Settlements), যাকে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কগুলির কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক বলা হয়, তার বার্ষিক রিপোর্টে বলেছে — ব্যাঙ্কগুলি AI কোম্পানিগুলিকে যে পরিমাণ ঋণ দিয়েছে, তা যদি ফেরত না আসে, তবে ২০০৮-এর মতো লিকুইডিটি ক্রাইসিস তৈরি হবে।
৩. ভূ-রাজনৈতিক ধাক্কা: যুদ্ধ, বাণিজ্য যুদ্ধ এবং AI-তে কারেকশন একসঙ্গে মিলে গেলে বিশ্বজুড়ে পুঁজির প্রবাহ বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
সমীক্ষা বলছে, ভারতের IT এবং হোয়াইট-কলার চাকরির মডেল সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে। ২০২২ সালের ডিসেম্বরে জেনারেটিভ AI আসার পর থেকে আমেরিকায় দেখা গেছে — GDP বাড়লেও চাকরি বাড়ছে না।
“Jobs haven’t vanished overnight, but the employment response to output growth is now flatter” — অর্থাৎ, চাকরি রাতারাতি উধাও হয়নি, কিন্তু আউটপুট বাড়লেও চাকরি আর সেই হারে বাড়ছে না। তথ্য খোঁজা, সারাংশ তৈরি, সাধারণ বুদ্ধিমত্তার কাজগুলি AI করে দিচ্ছে।
লন্ডনের Panmure Liberum-এর Joachim Klement বলছেন, AI ট্রেড ২০২৭ সালের মধ্যেই ভেঙে পড়তে পারে এবং ২০০৮-এর পর সবচেয়ে বড় শেয়ার বাজার ধস নামতে পারে।
তাই অর্থনীতিবিদদের পরামর্শ — AI-তে বিনিয়োগে এখনই লাগাম টানা দরকার, নইলে ২০০৮-এর থেকেও বড় বিপর্যয় অপেক্ষা করছে।

Recent Comments