চোরবাগান সর্বজনীনের দুর্গাপুজোকে কেন্দ্র করে পদপিষ্টের ঘটনায় তদন্ত আরও জোরদার করল কলকাতা পুলিশ। কীভাবে দুর্ঘটনা ঘটল, মণ্ডপের নকশা কেমন ছিল এবং প্রবেশ ও বেরোনোর পথ কতটা প্রশস্ত ছিল, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। বৃহস্পতিবার ঘটনাস্থলে গিয়ে মণ্ডপ ও তার আশপাশের এলাকা খতিয়ে দেখেন বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) এবং ফরেনসিক বিভাগের সদস্যরা। ফরেনসিক বিশেষজ্ঞেরা থ্রিডি ক্যামেরার সাহায্যে গোটা মণ্ডপের ছবি ও বিভিন্ন অংশের নথি সংগ্রহ করেন।
এই ঘটনায় তদন্তের জন্য ছ’সদস্যের একটি সিট গঠন করেছে কলকাতা পুলিশ। গোয়েন্দা বিভাগের সহকারী কমিশনার পদমর্যাদার এক আধিকারিকের নেতৃত্বে তদন্ত চলছে। এর আগেও তদন্তকারীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করেন এবং দুর্ঘটনার সময় উপস্থিত সিভিক ভলান্টিয়ার ও পুজো কমিটির সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন। তাঁদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ওই দিনের ঘটনাক্রম বোঝার চেষ্টা চলছে।
তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ দিক হয়ে উঠেছে মণ্ডপের কাঠামো এবং দর্শনার্থীদের যাতায়াতের ব্যবস্থা। প্রবেশ ও প্রস্থানের পথের প্রস্থ কতটা ছিল, কোথায় ভিড় বেশি জমেছিল এবং কীভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেল, সেই বিষয়গুলি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মণ্ডপটি বেশিদিন একই অবস্থায় রাখা সম্ভব নয় বলে ভেঙে ফেলার আগে প্রয়োজনীয় নমুনা সংগ্রহের কাজও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সেই কারণেই ফরেনসিক দল বিভিন্ন তথ্য ও নমুনা সংগ্রহের পাশাপাশি থ্রিডি স্ক্যানের মাধ্যমে মণ্ডপের কাঠামো নথিবদ্ধ করেছে। পরে এই স্ক্যানের সাহায্যে ঘটনাস্থলের বিন্যাস ও পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করতে পারবেন তদন্তকারীরা।
দুর্ঘটনার সময়কার কয়েকটি ভিডিয়োও তদন্তের আওতায় রয়েছে। সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিয়োয় মণ্ডপের ভিতরে এবং বেরোনোর গেটের কাছে ঠেলাঠেলি ও হুড়োহুড়ির দৃশ্য দেখা গিয়েছে। যদিও ওই ভিডিয়োগুলির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি। তদন্তকারীরা সিসিটিভি ফুটেজ এবং অন্যান্য তথ্যের সঙ্গে সেগুলি মিলিয়ে দেখছেন, যাতে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায়।
এই ঘটনায় মণ্ডপ থেকে মাইকে করা একটি ঘোষণাকেও বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির মধ্যে ‘মণ্ডপ ভেঙে যাচ্ছে’ বলে ঘোষণা করা হয়েছিল। এর পরেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং দর্শনার্থীদের মধ্যে হুড়োহুড়ি আরও বেড়ে যায় বলে অভিযোগ। ওই ঘোষণা কে করেছিলেন এবং ঠিক কী পরিস্থিতিতে তা করা হয়েছিল, তা জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা।
চোরবাগানকাণ্ডে এখনও পর্যন্ত ১৯ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। ঘটনায় পুজো কমিটির দুই কর্তা-সহ মোট সাত জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মণ্ডপের কাঠামো, সিসিটিভি ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান এবং ফরেনসিক পরীক্ষার তথ্য একত্র করে দুর্ঘটনার কারণ ও দায় নির্ধারণের চেষ্টা চালাচ্ছে তদন্তকারী দল।


Recent Comments