Thursday, February 26, 2026
Leaderboard Ad Space (728x90) - Responsive
Homeদেশ'ঘুষখোরদেরই রাজত্ব, সৎ হলে মরতে হয়!' কন্ট্রোল রুমেই বিষ খেয়ে আত্মঘাতী হেড...

‘ঘুষখোরদেরই রাজত্ব, সৎ হলে মরতে হয়!’ কন্ট্রোল রুমেই বিষ খেয়ে আত্মঘাতী হেড কনস্টেবল, সুইসাইড নোটে বিস্ফোরক অভিযোগ

“ব্যবস্থায় মরচে ধরেছে। যারা ঘুষ দেয়, তারাই সুবিধা পায়। সৎ কর্মীদের শুধু হেনস্থা হতে হয়।” নিজের জীবন দিয়ে এই কথাগুলো প্রমাণ করে গেলেন মধ্যপ্রদেশ পুলিশ (Madhya Pradesh Police)-এর হেড কনস্টেবল হোশিয়ার সিং আহির (Hoshiar Singh Ahir)। রবিবার দুপুরে নিমুচ জেলার পুলিশ কন্ট্রোল রুমের ভেতরেই বিষ খেয়ে আত্মহত্যা করেন ৫০ বছর বয়সী এই পুলিশকর্মী। তাঁর পকেট থেকে উদ্ধার হওয়া সুইসাইড নোটে (Suicide Note) নিজের ডিপার্টমেন্টের বিরুদ্ধে যে সব অভিযোগ তিনি তুলেছেন, তা শুনে শিউরে উঠছেন অনেকেই।

কন্ট্রোল রুমেই শেষরক্ষা: পুলিশ সূত্রে খবর, হোশিয়ার সিং কানাওয়্যাটি পুলিশ লাইনে (Kanawati Police Line) কর্মরত ছিলেন। শারীরিক অসুস্থতার কারণে তিনি ৫ দিনের ছুটিতে ছিলেন এবং সোমবার কাজে যোগ দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তার আগের দিন, রবিবার দুপুরে তিনি সোজা কন্ট্রোল রুমে ঢুকে পড়েন। সহকর্মীরা কিছু বুঝে ওঠার আগেই পকেট থেকে একটি ছোট শিশি বের করে বিষাক্ত তরল মুখে ঢেলে দেন। লুটিয়ে পড়েন মাটিতে। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথেই তাঁর মৃত্যু হয়।

সুইসাইড নোটে কী ছিল? হোশিয়ারের পকেট থেকে পাওয়া সুইসাইড নোটে লেখা ছিল, “ডিপার্টমেন্টে যারা টাকা দেয়, তাদের সব সুবিধা মেলে। আর যারা সৎ, তাদের ওপর মানসিক চাপ সৃষ্টি করা হয়।” তিনি চিঠিতে কয়েকজন পুলিশকর্তার নামও উল্লেখ করেছেন বলে খবর। এমনকি তিনি লিখেছিলেন, “এভাবে চললে আমাকে দয়া করে আত্মহত্যার অনুমতি দিন।” মৃত্যুর আগে তিনি এই নোটের কপি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছেও পাঠিয়েছিলেন।

পরিবারের অভিযোগ বনাম পুলিশের দাবি: হোশিয়ারের মেয়ে অঞ্জলি (Anjali) জানিয়েছেন, তাঁর বাবার চারবার অস্ত্রোপচার হয়েছিল। তবুও তাঁকে ভারী ডিউটি দেওয়া হতো। মানসিক চাপে তিনি ভেঙে পড়েছিলেন। স্ত্রী কমলেশ বাই (Kamlesh Bai)-এর অভিযোগ, ময়নাতদন্তের পর স্বামীর দেহের পাশে তাঁকে থাকতে দেওয়া হয়নি এবং হোশিয়ারের মোবাইল ফোনটি ‘গায়েব’ করে দেওয়া হয়েছে।

আরো পড়ুন:  বিহু উৎসবে ভোট নয়! আসামে এক বা দুই দফায় নির্বাচনের আর্জি সব দলের, প্রস্তুতি খতিয়ে দেখল কমিশন

অন্যদিকে, নিমুচের পুলিশ সুপার (SP) অঙ্কিত জয়সওয়াল (Ankit Jaiswal) জানিয়েছেন, হোশিয়ারের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত মদ্যপান এবং ডিউটিতে থাকাকালীন মদ্যপ অবস্থায় সিনিয়রদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ ছিল। তবে সুইসাইড নোটে ওঠা অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং দোষী প্রমাণিত হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

খাকি উর্দির আড়ালে লুকিয়ে থাকা এই ক্ষোভ আর হতাশার গল্প কি শুধুই একজন হোশিয়ার সিংয়ের? নাকি পুলিশ মহলের অন্দরে এমন চাপা কান্না আরও অনেকের? উত্তর খুঁজছে তদন্তকারীরা।

Author

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Demo Ad
Sponsored Links

Most Popular

Recent Comments