অশোক সেনগুপ্ত
১০১ আসন-বিশিষ্ট তিরুবনন্তপুরম পুরসভায় বামেদের চার দশকের লাল দূর্গ ভেঙে দিয়েছে বিজেপি। ঘটনাটা ওই রাজ্যে রাজনৈতিকভাবে এতটাই গুরুত্বপূর্ণ যে খোদ নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi) দেখা করবেন জয়ী বিজেপি (BJP) কাউন্সিলারদের সঙ্গে। সদ্যমনোনীত মেয়র ভিভি রাজেশের নেতৃত্বে সতীর্থ কাউন্সিলাররা ট্রেনে রওনা হয়েছেন নয়াদিল্লিতে (New Delhi)। পথে কোল্লাম, মাভেলিক্কারা, এর্ণাকুলাম, পালাক্কাদ— নানা স্টেশনে সম্বর্ধনায় ভাসছেন নয়া পুরপিতারা।
এই পরিস্থিতিতে কেরল উঠে এসেছে জাতীয় রাজনীতির (National Politics) খবরে। রাজ্যের রাজধানী তিরুবনন্তপুরম হাতের মুঠোয় এসেছে। আগে যেখানে ওই পুরসভায় বিজেপি কাউন্সিলর ছিলেন ৩৫, তা বেড়ে হয়েছে ৫০। আর এলডিএফ ৫২ থেকে নেমে হয়েছে ২৯। পুরসভার নয়া মেয়রের বৃহস্পতিবার পারিষদদের নিয়ে দেখা করার কথা প্রধানমন্ত্রী ও আরও কিছু মন্ত্রীর সঙ্গে। ৭ লোকমান্য মার্গ রোডে নয়া বিজেপি পুরপিতাদের সম্বর্ধনা জানানো হবে। পশ্চিমবঙ্গের মতো কেরলেও চলছে এসআইআর (SIR)। সেখানেও এ রাজ্যের মত শীঘ্রই বিধানসভা ভোট (assembly election)। আগামী ভোটে তিরুবনন্তপুরম পুরসভায় জয়ের বিষয়টিকে প্রচারের আলোয় আনতে চাইছে বিজেপি।

ওখানকার পরিস্থিতি কিরকম? কতটা উদ্দীপনা ও রাজ্যের ভোটে? সোমবার রাতে এ ধরণের কিছু প্রশ্ন রেখেছিলাম কলকাতা প্রেস ক্লাবে আসা কিছু সাংবাদিকের কাছে, যাঁদের শেকড় কেরলে। কালিকটের কে জে জর্জ বললেন, “ওখানেও ক্ষমতায় অ-বিজেপি দল। কিন্তু বিতর্ক, মারামারি, এতো আইনি কাজিয়া নেই!”
পশ্চিমবঙ্গের কোন রাজনীতিককে আপনার পছন্দ? অধুনা দিল্লিবাসী ‘ডটার অফ সেন্ট পল’ সিস্টার লিসির প্রতিক্রিয়া, “মমতা ব্যানার্জি (Mamata Banerjee)। ” কেন? সিস্টার লিসির কথায়, “তাঁর দৃঢ়তা।” ম্যাঙ্গালোরের ডঃ টমাস স্কারিয়া বললেন, “নবীন প্রজন্মের অনেকেই চলে যাচ্ছে বিদেশে বা আরও উন্নত কোনও রাজ্যে। আর ভোটের প্রচারে উঠে আসবে বামেদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগও”। অধুনা শিলিগুড়ি নিবাসী স্বশাসিত সেলসিয়ান কলেজের ভাইস প্রিন্সিপাল সিএম পল কর্মসূত্রে এই বঙ্গে বসেও নজর রাখছেন কেরলের এসআইআর আর আগামী ভোটের বিষয়সমূহের ওপর।
কেরলে বিজেপি-র ঘাঁটি বরাবরই দুর্বল। কিন্তু তারা হাল ছাড়েনি। ২০১১-তে সেখানকার মোট জনসংখ্যার ২৬.৫৬% ছিল মুস্লিম।
ওই রাজ্যের এই সচেতন প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রেস ক্লাবের আলোচনায় কথা বলে যেটা বুঝলাম, একটু একটু করে ওই রাজ্যে সংখ্যালঘুর সংখ্যা বাড়ছে। বাড়ছে অসন্তোষ, টুকটাক অশান্তি। মাল্লাপুরম জেলায় তো মুসলিমরাই (Muslims) সংখ্যাগরিষ্ঠ। আইসিসিস-সহ কিছু তথাকথিত জঙ্গি সংগঠন প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে। ডঃ টমাস স্কারিয়া আবার বছর তিন কাটিয়ে এসেছেন আফগানিস্তানে। তাই আর পাঁচজনের চেয়ে তিনি মুসলিম মৌলবাদীদের কাজকর্মের ঘরানা একটু বেশি বোঝেন।
প্রেস ক্লাবের আলোচনায় কেরলের অতিথিদের একজন বললেন, বিজেপি-র জেতার প্রশ্ন ওঠে না। তবে কিছু আসন পাবে। কংগ্রেস তুলনায় ভালো ফল করবে।
২০১৮ সালের সমীক্ষায় কেরলের মানব উন্নয়ন সূচক ছিল সর্বোচ্চ— ০.৭৮৪; সাক্ষরতার হার ছিল সর্বোচ্চ— ৯৬.২%; আয়ুষ্কাল ছিল সর্বোচ্চ— ৭৭.৩ বছর, লিঙ্গ অনুপাত সর্বোচ্চ— প্রতি ১০০০ পুরুষে ১,০৮৪ জন মহিলা, ভারতের মধ্যে সর্বনিম্ন ইতিবাচক জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার (৩.৪৪%)। এখনও এই ইতিবাচক ধারাবাহিকতা রয়েছে। চারটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর রয়েছে ওই রাজ্যে। তাহলে সিপিএম-এর পিনারাই বিজয়ন-নিয়ন্ত্রিত বাম গণতান্ত্রিক মোর্চা (এলডিএফ) সরকারের চিন্তার কারণটা কী?
কেরলের অতিথিদের মতে, ওই রাজ্যে এলডিএফ ছাড়া কংগ্রেস-নিয়ন্ত্রিত ইউডিএফ (UDF)-এর প্রতিপত্তি আছে। ২০০৬-এ ছিল এলডিএফ (LDF)। ’১১-তে আসে ইউডিএফ। ’১৬ থেকে প্রায় এক দশক ধরে এলডিএফ। প্রতিষ্ঠানবিরোধিতার ব্যাপার তো আছেই! এ ছাড়াও শবরীমালার মন্দির-বিতর্কও জ্বলছে ধিকি ধিকি করে।

