অশোক সেনগুপ্ত
চার মাস বাদে ধরা পড়লেন অভিযুক্ত বিডিও প্রশান্ত বর্মন। সল্টলেকের স্থানীয় পথচারীদের অভিযোগ, মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালিয়ে এক বাইকচালককে ধাক্কা মারেন অভিযুক্ত বিডিও। ঘটনায় পড়ে গিয়ে রক্তাক্ত হন ওই বাইক চালক। কর্তব্যরত পুলিশকর্মীরা জখম বাইক চালককে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান। সেই ঘটনার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।
ওই ভিডিও প্রকাশ্য আসতে এলাকা জুড়ে ব্যাপক শোরগোল তৈরি হয়। সোমবার রাত সাড়ে দশটা নাগাদ নিউটাউনের শ্রাচী সিগন্যালের সামনের এই ঘটনাটি ঘটে।
সিপিএম নেতা কলতান দাশগুপ্ত রাতে সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, “নিউটাউনে পুলিশের হাতে আটক হলেন সাদা খাতা জমা দিয়ে পাশ করা BDO প্রশান্ত বর্মন। হাইকোর্টে ওনার বিরুদ্ধে এই নিয়ে মামলাও চলছে। তবে উনি একা নন, দুর্নীতির সাহায্যে WBCS চাকরি পাওয়ার তালিকায় আরো কয়েকজনের নাম আছে। সেই নিয়ে অতীতে লাগাতার আন্দোলন হয়েছে পিএসসি দুর্নীতি মুক্ত মঞ্চের উদ্যোগে। এই প্রশান্ত বর্মন আরো নানান কেসে জড়িত ছিলেন। পুলিশ তাকে খুঁজে পাচ্ছিল না কেন?”
কলতানবাবুর ভিডিয়ো পোস্ট করার ৫ ঘন্টা বাদে, ভোর৫টা ৪০-এ ২ হাজার লাইক, ১৪৩টি প্রতিক্রিয়া, ৩৯৩ শেয়ার এসেছে।
ইউটিউবার-সাংবাদিক সন্ময় বন্দ্যোপাধ্যায় রাতে সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, “প্রশান্ত বর্মন, রাজগঞ্জের সেই বিডিও, শেষে ধরা পড়ল আজ নিউটাউনে মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালিয়ে এক্সিডেন্ট করে। কুর্নিশ জানাব সেই
যিনি (শাকিল আহমেদ) ভিডিও করতে করতে পাল্টা চোখ রাঙিয়ে বললেন, “ছাড়ুন, সেসব দিন চলে গেছে, যখন চোখ রাঙিয়ে পার পাবেন”….ধন্যবাদ কর্তব্যরত ট্র্যাফিক সার্জেন্টদের গ্রেফতারির জন্য ।
প্রশান্ত এখন সম্ভবত লেদার কমপ্লেক্স থানার গরাদে মাটিতে বসে…কল্পনা করছি। লোকটাকে নিয়ে ১৩ টা এপিসোড করেছি,
একাধিক লেখা লিখেছি। লোকটা চমকেছে, দেখে নেব বলেছে, প্রকাশ্যে…। দত্তাবাদের সোনা ব্যবসায়ী স্বপন কামিল্যাকে খুন করেছে, তাঁর পরিবারকে চমকে রাজ্য ছাড়া করেছে। হাইকোর্টে (২২ডিসেম্বর,২০২৫) গেছে জামিন চাইতে, পায়নি, সুপ্রিম কোর্টে গিয়ে জামিন চাওয়ার জন্য মুকুল রোহাতগিকে দাঁড় করিয়েছে। পায়নি (২৩ জানুয়ারি, ২০২৬)। সুপ্রিম কোর্ট জামিন বাতিল করার পরও বহাল তবিয়তে ছিল সেই দিন থেকে।
আজ শেষ পর্যন্ত পাকড়াও। ধন্যবাদ শুভেন্দু অধিকারী। পুলিশের মধ্যে যে কনফিডেন্স দ্রুত তৈরি করেছেন তার রেজাল্ট
এটা। আর চমকাবি প্রশান্ত বর্মন? আদালতে যেদিন পেশ করা হবে যাব তোকে দেখতে, তোর মুখের অবয়বটা পর্যবেক্ষণ করতে। কোন শব্দ প্রয়োগ করব না। শুধু চেয়ে চেয়ে দেখব ভাইপোর জিনিয়াস এই প্রোডাক্টটাকে।
রাতে মেঝেতে ঘুমোস প্রশান্ত, কেমন লাগে কাঠগড়ায় উঠলে কোর্ট রুমে ফিসফিস করে তোকে জিজ্ঞেস করব, তখন কিন্তু আবার চমকাস না প্রশান্ত….।”
রাত ১টা ২২ নাগাদ সাংবাদিক মৌপিয়া নন্দী লিখেছেন, “প্রশ্ন টা গভীর। এত কিছুর পরেও প্রোটেকশন টা কে বা কারা দিচ্ছিল? যার বিরুদ্ধে খু * * নের মামলায় সিসিটিভি ফুটেজ সহ একাধিক এভিডেন্স থাকা সত্ত্বেও এমনকি একাধিকবার কর্মস্থলে তাকে হঠাৎ দেখা গেলেও পুলিশ নাকি তার নাগাল পায়নি! কতটা নিশ্চিন্ত সুরক্ষা পেলে সেই লোক নিউটাউনে মদ্যপান করে গাড়ি চালানোর মত কনফিডেন্ট হতে পারে! কাদের মদতে? একজন স্থানীয় মানুষ ফেরার বিডিওর হদিশ দিতে পারলেন আর পুলিশ পারছিল না? এমনকি এই ভিডিওতেও পুলিশ রা লজ্জা লজ্জা মুখ করে কেন দাঁড়িয়ে আছেন?? যিনি ভিডিও করেছেন তাঁর নাম জানি না। কুর্নিশ।
কেন এভাবে গাড়ি চালানো হল, স্থানীয় পথচারীদের অনেকে চড়াও হয়ে প্রতিবাদ করেছিলেন। সেই প্রতিবাদ করার পরেই কার্যত অন্য রূপে দেখা যায় বিডিও প্রশান্ত বর্মনকে। মদ্যপ অবস্থায় রীতিমতো রাস্তার মধ্যে ‘দাদাগিরি’ করতে দেখা যায় তাঁকে।
প্রসঙ্গত, গত বছরের ২৯ অক্টোবর যাত্রাগাছির খালপাড় থেকে স্বপনের দেহ উদ্ধার করেছিল পুলিশ। ঘটনায় প্রশান্তর বর্মনের বিরুদ্ধে অভিযোগের আঙুল তুলেছিল মৃতের পরিবার। এর পরেই রাজগঞ্জের বিডিও পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় তাঁকে। যদিও সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন প্রশান্ত। তবে খুনের ঘটনায় তাঁকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়েছিল কলকাতা হাইকোর্ট। কিন্তু তার পর থেকে ‘নিখোঁজ’ হয়ে গিয়েছিলেন তিনি।


Recent Comments