Susmita Das: কৃষিকাজে ব্যবহৃত বিদ্যুতের খরচ কমাতে ইউনিট-পিছু অতিরিক্ত ২ টাকা ভর্তুকি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কৃষকদের উৎপাদন খরচ কমানো এবং সেচ ব্যবস্থাকে আরও সাশ্রয়ী করাই এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য। বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির ফলে কৃষিকাজে যে অতিরিক্ত আর্থিক চাপ তৈরি হয়, নতুন ভর্তুকির মাধ্যমে তার কিছুটা ভার কমবে বলে মনে করা হচ্ছে।
কৃষিক্ষেত্রে সেচের জন্য বিদ্যুতের ব্যবহার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ভূগর্ভস্থ জল তোলার পাম্প, গভীর নলকূপ এবং অন্যান্য সেচযন্ত্র চালাতে নিয়মিত বিদ্যুৎ প্রয়োজন হয়। বিদ্যুতের খরচ বেড়ে গেলে তার সরাসরি প্রভাব পড়ে কৃষকের উৎপাদন ব্যয়ের উপর। সেই কারণেই কৃষকদের জন্য বিদ্যুতে ভর্তুকি দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। নতুন করে ইউনিট-পিছু ২ টাকা অতিরিক্ত ভর্তুকি যোগ হওয়ায় কৃষকদের বিদ্যুৎ বিলের বোঝা আরও কমবে।
কৃষকদের একাংশের বক্তব্য, চাষের খরচ গত কয়েক বছরে সার, বীজ, কীটনাশক, শ্রমিকের মজুরি এবং সেচের ব্যয় বৃদ্ধির কারণে উল্লেখযোগ্য ভাবে বেড়েছে। বিদ্যুতে অতিরিক্ত ভর্তুকি চালু হলে সেই বাড়তি খরচের একটি অংশ সামাল দেওয়া সম্ভব হবে। বিশেষ করে ধান, সবজি ও অন্যান্য সেচনির্ভর ফসলের চাষে এই সুবিধা কার্যকর হতে পারে।
সরকারি মহলের বক্তব্য, কৃষি উৎপাদন স্বাভাবিক রাখা এবং কৃষকদের উৎসাহিত করতেই এই আর্থিক সহায়তার সিদ্ধান্ত। তবে ভর্তুকির সুবিধা প্রকৃত কৃষকদের কাছে পৌঁছচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করতে বিদ্যুৎ সংযোগ ও কৃষি-সংক্রান্ত নথি যাচাইয়ের উপরও গুরুত্ব দেওয়া হবে।
অন্য দিকে, কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, বিদ্যুতে ভর্তুকির পাশাপাশি সেচ ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ, সৌরশক্তির ব্যবহার এবং জল সংরক্ষণের উপরও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। কারণ দীর্ঘমেয়াদে উৎপাদন খরচ কমাতে শুধু বিদ্যুৎ ভর্তুকির পাশাপাশি কৃষি পরিকাঠামোর উন্নয়নও গুরুত্বপূর্ণ। নতুন ভর্তুকির ফলে কৃষকদের তাৎক্ষণিক স্বস্তি মিললেও এর বাস্তব প্রভাব নির্ভর করবে কত দ্রুত এবং কতটা কার্যকর ভাবে সুবিধাটি তাঁদের কাছে পৌঁছয় তার উপর।

Recent Comments