রাজ্য রাজনীতিতে ফের নতুন করে শুরু হলো শাসক ও বিরোধীদের তীব্র দ্বৈরথ। সম্প্রতি একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি প্রসঙ্গের উল্লেখ করতে গিয়ে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) বলে বসেন, “ওটা আমার মামলা”। আর তাঁর এই মন্তব্য ঘিরেই এখন রাজ্যজুড়ে রাজনৈতিক পারদ চড়তে শুরু করেছে। এই মন্তব্যের পরেই স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে আসরে নেমেছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। মুখ্যমন্ত্রীর ওই একটি বাক্যকে হাতিয়ার করে কড়া ভাষায় তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন তিনি। স্বাভাবিকভাবেই পশ্চিমবঙ্গ (West Bengal) রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক আবহে এই ঘটনা নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
রাজনৈতিক মহলের মতে, রাজ্যের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বর্তমানে কলকাতা (Kolkata) হাইকোর্ট এবং সুপ্রিম কোর্টে একাধিক মামলা চলছে। এর মধ্যে বেশ কয়েকটি বিষয় নিয়ে রাজ্য সরকার বনাম কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলির সরাসরি সংঘাতও প্রকাশ্যে এসেছে। ঠিক এরকম একটি উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রীর মুখে “আমার মামলা” কথাটি যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। বিরোধীদের দাবি, মুখ্যমন্ত্রী এই কথা বলে আদতে বিচারব্যবস্থাকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছেন বা নিজের দলের নেতাদের রক্ষা করার একটা প্রচ্ছন্ন বার্তা দিচ্ছেন।
যদিও তৃণমূল কংগ্রেস (Trinamool Congress) নেতৃত্বের দাবি, মুখ্যমন্ত্রীর কথার সম্পূর্ণ ভুল ব্যাখ্যা করা হচ্ছে। রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান হিসেবে রাজ্যের মানুষের স্বার্থ জড়িত থাকা যে কোনো আইনি লড়াই বা বিষয়কেই তিনি নিজের ব্যক্তিগত দায়িত্ব বলে মনে করেন। আর ঠিক সেই জায়গা থেকেই, আবেগের বশে তিনি এই মন্তব্য করেছেন। দলের এক শীর্ষ নেতার কথায়, “মুখ্যমন্ত্রী সব সময়ই রাজ্যের মানুষকে নিজের পরিবার ভাবেন। তাই রাজ্যের বিরুদ্ধে কোনো ষড়যন্ত্র হলে, সেটাকে তিনি নিজের ওপর আক্রমণ বলেই মনে করেন।”
তবে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু এই সুযোগ হাতছাড়া করতে নারাজ। ভারতীয় জনতা পার্টি (Bharatiya Janata Party) বা বিজেপি-র এই দাপুটে নেতা সরাসরি তোপ দেগে বলেছেন, “আইন আইনের পথে চলে। কেউ যদি মনে করেন সব মামলাই তাঁর এবং তিনি চাইলেই সব নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন, তবে সেটা তাঁর দিবা স্বপ্ন।” তিনি আরও যোগ করেন যে, দুর্নীতি ঢাকতে গিয়ে এখন সব কিছুকেই নিজের বলে দাবি করে সাধারণ মানুষের সহানুভূতি আদায়ের চেষ্টা চলছে। শুভেন্দুর এই খোঁচা যে অত্যন্ত সুপরিকল্পিত এবং তীক্ষ্ণ, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।
ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায়, মমতা এবং শুভেন্দুর মধ্যে এই ধরনের রাজনৈতিক বাকযুদ্ধ নতুন কিছু নয়। একসময় তাঁরা একই রাজনৈতিক দলের হয়ে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করেছেন। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে সমীকরণ বদলেছে। এখন তাঁরা একে অপরের প্রধান রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ। তাই যখনই সুযোগ আসে, কেউই কাউকে এক ইঞ্চি জমিও ছেড়ে দিতে রাজি হন না। বিশেষ করে আইনি লড়াইগুলোর ক্ষেত্রে, যেখানে রাজ্যের সম্মান এবং শাসক দলের ভাবমূর্তি সরাসরি জড়িত, সেখানে প্রতিটি শব্দই খুব মেপে ব্যবহার করা উচিত বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। কিন্তু বাংলার রাজনীতি বরাবরই আবেগে ভরপুর। আর সেই আবেগের বশেই অনেক সময় এমন কিছু মন্তব্য উঠে আসে, যা দীর্ঘমেয়াদী বিতর্কের রসদ জোগায়।


Recent Comments