নিজস্ব সংবাদদাতা: ২৩ এপ্রিল, বৃহস্পতিবার ১৯তম বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোট অনুষ্ঠিত হতে চলেছে দক্ষিণ দিনাজপুর, মালদা ও উত্তর দিনাজপুর সহ গৌড়বঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকায়। তবে ভোটের উত্তাপের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে আবহাওয়ার তাপমাত্রাও। চরম গরমের পূর্বাভাসে ইতিমধ্যেই জারি হয়েছে ‘ইয়েলো এলার্ট’, ফলে স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগে প্রশাসন থেকে সাধারণ ভোটার—সবাই।
গত কয়েকদিন ধরেই নির্বাচনী প্রচারে সরগরম ছিল গোটা এলাকা। কিন্তু ভোটের দিন যত এগিয়ে আসছে, ততই মাথাব্যথার কারণ হয়ে উঠছে আবহাওয়া। মাঝিয়ান আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২২ ও ২৩ এপ্রিল গৌড়বঙ্গের তিন জেলাতেই বৃষ্টির কোনো সম্ভাবনা নেই। বরং তাপমাত্রা সর্বনিম্ন ২৭-২৮ ডিগ্রি এবং সর্বোচ্চ ৩৫-৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ঘোরাফেরা করবে। তবে খোলা আকাশ ও তীব্র রোদে ‘রিয়েল ফিল’ বা অনুভূত তাপমাত্রা ৪০ থেকে ৪২ ডিগ্রি পর্যন্ত পৌঁছতে পারে।
এই পরিস্থিতিতে দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দেওয়া বেশ কষ্টসাধ্য হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন অনেকেই। আবহাওয়া দপ্তর ও চিকিৎসকদের তরফে ইতিমধ্যেই সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রচণ্ড গরমে শরীর থেকে অতিরিক্ত জল বেরিয়ে যাওয়ার ফলে ডিহাইড্রেশন, মাথা ঘোরা বা অসুস্থতার ঝুঁকি বাড়তে পারে।
চিকিৎসক ডা. জিশান আলির পরামর্শ, ভোট দিতে বেরোলে অবশ্যই ছাতা ব্যবহার করতে হবে, পর্যাপ্ত পরিমাণে জল পান করতে হবে এবং সঙ্গে ওআরএস রাখা উচিত। প্রয়োজনে সানস্ক্রিন ও সানগ্লাস ব্যবহার করাও উপকারী। যতটা সম্ভব রোদ এড়িয়ে ছায়াযুক্ত স্থানে থাকার চেষ্টা করতে হবে এবং শরীরে জলের ঘাটতি যেন না হয়, সে বিষয়ে বিশেষ নজর দিতে হবে।
অন্যদিকে, মাঝিয়ান আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের নোডাল অফিসার ডঃ জ্যোতির্ময় কারফর্মা জানিয়েছেন, ২৪ থেকে ২৬ এপ্রিলের মধ্যে দক্ষিণ দিনাজপুর, মালদা ও উত্তর দিনাজপুরে হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এতে তাপমাত্রা কিছুটা কমতে পারে এবং গরমের তীব্রতা খানিকটা প্রশমিত হতে পারে।
এছাড়াও আগামী কয়েকদিন দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৭ থেকে ১৯ কিলোমিটার বেগে বাতাস বইতে পারে। আপেক্ষিক আর্দ্রতার মাত্রাও ওঠানামা করবে, যা অস্বস্তি আরও বাড়াতে পারে। আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সময় অতিরিক্ত ঘাম ও ক্লান্তি অনুভূত হওয়া স্বাভাবিক, তাই প্রয়োজনীয় সাবধানতা অবলম্বন করাই বুদ্ধিমানের কাজ।
সব মিলিয়ে, ভোটের উত্তাপের সঙ্গে যোগ হয়েছে প্রকৃতির দাপট। তাই গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগের দিনে স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিয়েই এগোতে হবে গৌড়বঙ্গের মানুষকে।

Recent Comments